বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের বিশেষ সহকারী নিযুক্ত হওয়া উপলক্ষে ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীকে সিডনিতে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত বাংলাভাষী কমিউনিটি পত্রিকা সুপ্রভাত সিডনির উদ্যোগে সিডনির রকডেল এলাকায় স্টার ফাংশন সেন্টারে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
কর্মজীবনে অষ্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং সিঙ্গাপুরের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে অধ্যাপনা করা ড. আনিসুজ্জামান বর্তমানে বেশ কয়েকটি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি অধ্যাপক কর্মরত রয়েছেন। তিনি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ে কাজ করার জন্য দায়িত্ব পেয়েছেন।
একই অনুষ্ঠানে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানী লিমিটেড বা মেট্রোরেলের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী কৃতি প্রকৌশলী ফারুক আহমেদকেও সংবর্ধনা দেয়া হয়।

সুপ্রভাত সিডনির প্রধান সম্পাদক আবদুল্লাহ ইউসুফ শামীম এবং অজ-বুলেটিন নিউজ পোর্টালের প্রধান সম্পাদক ড. ফজলে রাব্বীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার হোম এফেয়ার্স এবং ইমিগ্রেশন বিষয়ক মন্ত্রী টনি বার্ক এবং ইমিগ্রেশন বিষয়ক উপমন্ত্রী ম্যাট থিসলোয়েইট উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী টনি বার্ক বাংলাদেশ সফরকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গ্রাফিতি দেখার এবং শহীদ মিনার দেখে আবেগাপ্লুত হওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনার পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরকে মানবিক সহায়তা দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের যোগ্যতার মূল্যায়ন হওয়াকে একটি ইতিবাচক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মাঝে দীর্ঘ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ইতিহাস রয়েছে। ড. ইউনুসের অনুরোধে তার সরকার অস্ট্রেলিয়ান ভিসা প্রসেসিং সেন্টারকে দ্রুততম সময়ে ইন্ডিয়া থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত করেছে। তিনি আশা করেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং পারস্পরিক সহায়তার সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে।

উপমন্ত্রী ম্যাট থিসলোয়েইট বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে অবদানকে তিনি সবসময় ইতিবাচক একটি দিক হিসেবে পেয়েছেন। তিনি রাষ্ট্র হিসেবে নতুন বাংলাদেশের জন্য শুভকামনা জ্ঞাপন করেন।
ড. আনিসুজ্জামামান চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় থেকে শুরু করে জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত যত মানুষ আত্মত্যাগ স্বীকার করেছে, স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত যত মানুষ বাংলাদেশে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে তাদের সবার অবদান কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণে করে বলেন বাংলাদেশের এখন বিকশিত হওয়ার একটি সুযোগ এসেছে। আমরা সবাই মিলে সচেষ্ট হলে হয়তো এই পরিবর্তন একটি নতুন এবং সমৃদ্ধিময় ভবিষ্যতের সূচনা করতে পারে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদেরকে সুপ্রভাত সিডনি, বাংলাদেশ এন্ড অস্ট্রেলিয়া ট্রেড এন্ড ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিল, বাংলাদেশী সিনিয়র সিটিজেন অস্ট্রেলিয়া, সিডনি সাউথ শাপলা শালুক লায়ন্স ক্লাব এবং কমিউনিটি ইয়ুথ এন্ড সিটিজেন ডেভেলপমেন্ট ইনকরপোরেটেড সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ক্রেস্ট এবং এপ্রিসিয়েশন সার্টিফিকেট উপহার দেয়া হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

