চবি শিবিরের সংবর্ধনায় অংশ নিলেন ৩ হাজার শিক্ষার্থী

 চবি শিবিরের সংবর্ধনায় অংশ নিলেন ৩ হাজার শিক্ষার্থী

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। প্রায় ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দুই পর্বে প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

বিজ্ঞাপন

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অডিটোরিয়ামে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে বিজ্ঞান অনুষদ, জীববিজ্ঞান অনুষদ, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ, মেরিন সায়েন্সেস অনুষদ ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের নবীন শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। দ্বিতীয় পর্বে সমাজবিজ্ঞান এবং কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

আয়োজকরা জানান, সংবর্ধনায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে নিবন্ধন করতে হয়েছে। এতে প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নবীনদের কোরআন শরিফ, প্যাড-খাতা, কলম, বিভিন্ন বই, টি-শার্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ফ্রেমে বাঁধানো ছবি উপহার দেওয়া হয়।

Amardesh_Chuksu

শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক ইসহাক ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান, চাকসুর সাবেক ভিপি জসিমউদ্দীন সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধিপত্যবাদের বলয় থেকে মুক্ত করা যায় না, সে জাতি কখনো উন্নত হতে পারে না।”

তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, শতভাগ আবাসন নিশ্চিত না করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দিকে না গিয়ে বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “একটি হলের সিটের জন্য কেন একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে নেতার পেছনে ঘুরতে হবে?”

Amardesh_Chuksu

ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের হলে অবস্থান বন্ধের দাবি জানিয়ে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর কোনো ‘আদু ভাই’ বা নির্বাচিত প্রতিনিধিরও হলে থাকার অধিকার নেই। অনার্স-মাস্টার্স শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হল ছাড়তে হবে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা ক্যাম্পাসগুলোকে পুনর্গঠন করতে চাই এবং গণরুম ও গেস্টরুমের অপসংস্কৃতি ভেঙে দিয়ে একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, দেশকে বিশ্বের দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রয়োজন প্রতিভাবান ও যোগ্যতাসম্পন্ন তরুণ সমাজ। এমন মেধাবী তরুণদের প্রয়োজন, যারা নিজেদের জ্ঞান ও কাজের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সুনাম ছড়িয়ে দেবে।

তিনি বলেন, “আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে, ব্যক্তিগত বা দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। আমরা যার সঙ্গেই কাজ করি না কেন, মূল লক্ষ্য হতে হবে দেশের কল্যাণ।”

অনুষ্ঠানে বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, আবাসন সংকট নিরসন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন