সেরিব্রাল পালসি পেশেন্ট নিয়ে গাজী রাকায়েতের সিনেমা ‘মানুষটিকে দেখ’

বিনোদন রিপোর্টার

সেরিব্রাল পালসি পেশেন্ট নিয়ে গাজী রাকায়েতের সিনেমা ‘মানুষটিকে দেখ’

অভিনেতা-নাট্যকার গাজী রাকায়েতের নির্মাণে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলো ‘মানুষটিকে দেখ’ শিরোনামের এক চলচ্চিত্র। গতকাল মে দিবসের দিন রাজধানীর একটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় সিনেমাটি। সমাজসচেতন বিষয়ক এ চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে সেরিব্রাল পালসি আক্রান্ত মানুষের জীবনসংগ্রাম ও তাদের ঘিরে থাকা কুসংস্কারকে কেন্দ্র করে।

চিত্রনাট্যে কেন্দ্রীয় চরিত্র এক তরুণীর, যিনি সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত। বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে মেধাবী হলেও শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাকে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতে হয়। সমাজের অবহেলা ও তুচ্ছতাচ্ছিল্যের মধ্যেও তিনি দমে যান না; বরং একই অবস্থার মানুষের অধিকার আদায়ে সংগ্রামে নামেন। এ পথে তার সঙ্গে যুক্ত হয় এক তরুণ, যিনি পথশিশুদের নিয়ে কাজ করেন। তাদের যৌথ লড়াইয়ের গল্পই উঠে এসেছে চলচ্চিত্রে।

বিজ্ঞাপন

সিনেমাটি নিয়ে গাজী রাকায়েত বলেন, ‘সেরিব্রাল পালসি এমন একটি অবস্থা, যা শিশুর জন্মের পর প্রথম কয়েক বছরের মধ্যে চিকিৎসা পেলে উন্নতির সম্ভাবনা থাকে; তবে পরবর্তীতে এটি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়। এ বাস্তবতাকে সামনে রেখেই চলচ্চিত্রটির গল্প আবর্তিত হয়েছে।’

সিনেমার প্রধান তিনটি চরিত্রে আছেন তিনজন ‘সিপি পেশেন্ট’ (সেরিব্রাল পালসি আক্রান্ত ব্যক্তি)।

এ প্রসঙ্গে গাজী রাকায়েত বলেন, তিনটি প্রধান চরিত্রের প্রত্যেকেই বাস্তবে এ রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তারা যে এত দুর্দান্ত অভিনয় করবেন, কখনো ভাবতে পারিনি। ওই যে বললাম, আমরা ভেতরের শক্তিকে দেখি না, শুধু বাইরের রূপ দেখে বিচার করি—তারা অভিনয় দিয়েই সেটি ভুল প্রমাণ করেছেন। আর আমি এমনিতে আমার কোনো চলচ্চিত্রে খুব চেনা মুখ বা তারকানির্ভর কেন্দ্রীয় চরিত্র নিয়ে এগোই না। যেকোনো দর্শকের কাছে মনে হবে ‘এই ছবিটা আমার’। এখানেও তাই করতে চেয়েছি। তাদের অভিনয় দেখে দর্শক মুগ্ধ হবেন।

এছাড়াও এতে আরো অভিনয় করেছেন রাশনা শারমিন কেমি, তাহমিদ আরেফিন হক, তারিক আনাম খান, মিলি বাশার, মামুনুর রশীদ, রহমত আলী, গাজী রাকায়েত, শতাব্দী ওয়াদুদ, লারা লোটাস, কাজী নওশাবা, রাজীব সালেহীন।

সেন্টার ফর দ্যা রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্যা প্যারালাইজড-সিআরপির অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। এটি প্রযোজনা করেছেন হুমায়ুন ফরিদ। ‘মানুষটিকে দেখ’ সিনেমাটিতে শিল্প নির্দেশনা দিয়েছেন উত্তম গুহ, সিনেমাটোগ্রাফি করেছেন শেখ রাজিবুল ইসলাম।

আবহসংগীত করেছেন সৈয়দ সাবাব আলী আরজু, কস্টিউম ডিজাইন করেছেন সাকি তারা। সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন প্রিন্স সজল এবং কালার গ্রেডিং করেছেন সৌরভ দাস। গাজী রাকায়েত এর আগে নির্মাণ করেছেন ‘মৃত্তিকা মায়া’ এবং ‘গোর’ নামের দুটি চলচ্চিত্র।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...