শহরে আজ একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে, যে কারণে সব বাচ্চার মন খারাপ। শহরের সব আইসক্রিম আজ তিতা হয়ে গেছে। যে যেখানেই আইসক্রিম কিনে খেতে শুরু করে, একবার মুখে দিয়েই ফেলে দিতে হয়। ওয়াক থু!
সব আইসক্রিম তিতা লাগছে। বাচ্চারা স্কুল শেষে মন খারাপ করে বাসায় ফিরেছে। বিকালে পার্ক থেকে বের হওয়ার সময়ও সবার মন খারাপ। আইসক্রিম খেতে না পারলে কার বা ভালো লাগে?
‘এই সমস্যার সমাধান খুঁজে পেতেই হবে,’ ভাবল রাতুল, ‘নইলে শহরের শিশুদের মন ভালো হবে না।’
: আমিই যাব আইসক্রিম রাজার কাছে। কেন আইসক্রিমের স্বাদ তিতা হয়ে গেছে, সেটা জানতে হবে।’ যেই ভাবা সেই কাজ। আইসক্রিম রাজার দরবারে হাজির হলো রাতুল। রাজাকে খুলে বলল সমস্যার কথা। শুনে রাজা বললেন, আজ তোমাদের শহরের সব আইসক্রিমের মন খারাপ। তাই তাদের স্বাদ তিতা হয়ে গেছে।
: কিন্তু মহারাজ , কেন আইসক্রিমদের মন খারাপ হয়েছে?
রাজা বললেন, রাতুলদের স্কুলের গেটে আজ সকালে অভি নামের এক ছাত্র আইসক্রিম খাচ্ছিল। সে সময় এক পথশিশু তার কাছে গিয়ে আইসক্রিম চায়; কিন্তু অভি আইসক্রিম দেওয়ার বদলে পথশিশুটিকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দেয়। ফুটপাতে পড়ে গিয়ে ব্যথা পায় শিশুটি। এই ঘটনার পর থেকে তোমাদের শহরের সব আইসক্রিমের মন খারাপ। আইসক্রিম খেতে চাওয়ায় গরিব শিশুটির সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে অভি। এটা আইসক্রিমরা মেনে নিতে পারেনি।
রাজার কাছে গরিব ছেলেটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করল রাতুল। আইসক্রিম রাজাকে সে বলল, অভি কাজটি ঠিক করেনি। কিন্তু এর ফলে শহরের সব বাচ্চাকে শাস্তি দেওয়াও ঠিক নয়। আইসক্রিম খেতে না পারলে তাদেরও মন খারাপ হয়ে যাবে।
রাজা হুঙ্কার দিলে বললেন, কিন্তু আইসক্রিমদের মন ভালো না হওয়া পর্যন্ত কেউ আইসক্রিম খেতে পারবে না। সব আইসক্রিম তিতাই থাকবে। এটাই আমাদের প্রতিবাদ।
রাতুল আবার বলল, কিন্তু রাজা মশাই, আপনি কি চান শহরের সব বাচ্চার মন খারাপ থাকুক?
: না, তা চাই না। আমরাও চাই সবাই আইসক্রিম খাবে, আর হাসিখুশি থাকবে। সব বাচ্চা মজা করে আইসক্রিম খেলেই আমরা খুশি হবো।
রাতুল আইসক্রিম রাজাকে বলল, অভিকে আমি বুঝিয়ে বলব সে যেন আর এমন না করে।
তখনই রাতুল আর আইসক্রিম রাজা অভির কাছে গেল । অভিকে তারা জানাল, তার জন্যই আজ শহরের সব আইসক্রিম তিতা হয়ে গেছে। সে যদি আইসক্রিম রাজার কাছে নিজের ভুল স্বীকার করে, তবেই আইসক্রিমদের মন ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু অভি নিজের দোষ স্বীকার করতে চাইল না। এতে রেগে গিয়ে আইসক্রিম রাজা বললেন, তাহলে তোমাকে কঠিন শাস্তি পেতে হবে।
‘কী শাস্তি?’ ভয়-জড়ানো কণ্ঠে জানতে চাইল অভি।
; তুমি আর কোনোদিনও আইসক্রিম খেতে পারবে না। তুমি আইসক্রিম হাতে নিলেই দেখবে তা পচে গেছে। সারা জীবন তোমাকে আইসক্রিম না খেয়ে থাকতে হবে।
এই শাস্তির কথা শুনে অভি ভয় পেয়ে গেল। হাজার হোক আইসক্রিম তার সবচেয়ে পছন্দের খাবার। ভাত না খেয়ে থাকতে পারে, কিন্তু আইসক্রিম ছাড়া সে একটি দিনও থাকতে পারবে না। এরপর নিজের ভুল স্বীকার করল সে। কথা দিল, সেই গরিব ছেলেটিকে খুঁজে বের করে আইসক্রিম কিনে দেবে। আর ভবিষ্যতে কোনোদিন কারো সঙ্গে এমন আচরণ করবে না। কোনো পথশিশু তার কাছে সাহায্য চাইলে সাধ্যমতো সাহায্য করতে চেষ্টা করবে।
এই কথায় রাজা সন্তুষ্ট হন। তখনই অভিকে নিয়ে রাতুল গেল সেই পথশিশুটিকে খুঁজতে। অভি শিশুটিকে আইসক্রিম কিনে দিল। রাতুল আর তার নিজের জন্যও আইসক্রিম কিনল। ফুটপাতে দাঁড়িয়ে তিনজন একসঙ্গে আইসক্রিম খেতে লাগল। কী আশ্চর্য! ঠিক হয়ে গেছে আইসক্রিমের স্বাদ। এখন আর একটুও তিতা লাগছে না।
আনন্দে চিৎকার করে উঠে রাতুল বলল, হুররে! আইসক্রিমের মন ভালো হয়ে গেছে।
আইসক্রিম রাজা দূর থেকে তিন শিশুকে আইসক্রিম খেতে দেখে মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বিদায় নিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

