আলো আর কুয়াশায় বোনা এক স্বপ্ননগরীর নাম সাংহাই। এক সোনালি ভবিষ্যতের হাতছানি এখানে। ভোরের প্রথম সোনালি আলো যখন পুরোনো স্থাপত্য ছুঁয়ে যায়, তখন নদীর ওপারে কাচের অট্টালিকাগুলো আকাশের দিকে মাথা তুলে দাঁড়ায়। এই শহর চলে নদীর স্রোত আর ট্রেনের গতির মতো—অস্থির, মোহময়, নির্ঘুমতায়। নিয়ন আলো ভেজা রাস্তাগুলোকে রাঙিয়ে তোলে লাল, নীল আর রুপালি রঙের সারি সারি বাতি।
বৃষ্টিভেজা রাতের সাংহাই যেন এক চলমান চিত্রকর্ম। সাংহাই একই সঙ্গে বহন করে স্মৃতি আর স্বপ্ন—রেশম আর ইস্পাত, পুরোনো সুর আর আধুনিক প্রযুক্তির মিশ্রণ। রাত নামলে হুয়াংপু নদী হয়ে ওঠে আলোর আয়না। নদীর পানিতে ভেসে থাকা প্রতিফলনে মনে হয় পুরো শহরটি যেন তারার আলো দিয়ে লেখা এক কবিতা। সাংহাইয়ের পথে হাঁটতে হাঁটতে মনে হয় যেন অতীত আর ভবিষ্যতের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে সময় নিজেই নিজের সঙ্গে কথা বলে।
চীনের মূল ভূখণ্ডের অন্যতম বৃহত্তম এবং জনপ্রিয় শহর সাংহাইয়ের আক্ষরিক অর্থ হলো পানির ওপরে, কারণ এটি সমুদ্রের খুব কাছে এবং এর মাঝখান দিয়ে হুয়াংপু নদী বয়ে গেছে। সাংহাই চীনের বাণিজ্যিক রাজধানী এবং সর্বাধিক জনবহুল শহর। সাংহাই দ্রুত আধুনিকীকরণ এবং চীনের মূল ঐতিহ্যকে নিখুঁতভাবে মিশ্রিত করেছে। শহরটি ‘জাদুর শহর’ নামে পরিচিত। এটি চীনের বাণিজ্যিক চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে এবং বিশ্বের ব্যস্ততম কনটেইনার বন্দরের অধিকারী। শহরটি হুয়াংপু নদী দ্বারা সাংস্কৃতিক ও ভৌতিকভাবে বিভক্ত। পশ্চিম দিকে রয়েছে ঔপনিবেশিক আমলের ঐতিহ্য এবং সাবেক ফরাসি কনসেশনের মনোরম বৃক্ষশোভিত রাস্তা। পূর্বদিকে ৬৩২ মিটার সাংহাই টাওয়ারের মতো আকাশচুম্বী অট্টালিকা, যা একবিংশ শতাব্দীর উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
সাংহাই আজ বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও উন্নত শহর। কিন্তু এই শহরের উন্নয়নের গল্প অনেক দীর্ঘ, নাটকীয় এবং ইতিহাসে ভরপুর। একসময় সাংহাই ছিল ছোট একটি মৎস্যজীবী গ্রাম। উনিশ শতকের আগে এটি চীনের সাধারণ উপকূলীয় শহরগুলোর মতোই ছিল। কিন্তু ১৮৪২ সালে নানকিং চুক্তি স্বাক্ষরের পর সাংহাই বিদেশি বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত হয়। তখন ব্রিটিশ, ফরাসি ও আমেরিকান ব্যবসায়ীরা এখানে বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে তোলে।
সাংহাইয়ের অবস্থান ছিল ইয়াংসি নদীর মোহনায়, যা এটিকে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসেবে গড়ে তোলে। এখানে দ্রুত ব্যাংক, কারখানা, রেলপথ ও আধুনিক ভবন তৈরি হতে থাকে। ১৯২০ ও ১৯৩০-এর দশকে সাংহাইকে ‘পূর্বের প্যারিস’ বলা হতো। তখন এটি ছিল এশিয়ার অর্থনীতি, ফ্যাশন ও সংস্কৃতির বড় কেন্দ্র।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং চীনের গৃহযুদ্ধের সময় শহরের উন্নয়ন থেমে যায়। ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার পর সরকার শিল্পায়নের দিকে মনোযোগ দেয়। তবে দীর্ঘ সময় সাংহাই মূলত শিল্পনগরী হিসেবেই পরিচিত ছিল।

১৯৭৮ সালে দেং জিয়াওপিং অর্থনৈতিক সংস্কার শুরু করেন। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ে এবং সাংহাই নতুনভাবে গড়ে উঠতে শুরু করে। বিশেষ করে পুডং এলাকা উন্নয়নের মাধ্যমে আকাশচুম্বী ভবন, আধুনিক সড়ক, মেট্রোরেল ও প্রযুক্তি শিল্প গড়ে ওঠে। সাংহাই টাওয়ার, ওরিয়েন্টাল পার্ল টাওয়ার এবং বিশাল আর্থিক জেলা সাংহাইকে আজ বিশ্বের অন্যতম আধুনিক শহরে পরিণত করেছে।
সম্প্রতি সাংহাই সফরে যাওয়া বাংলাদেশের মিডিয়া ডেলিগেশনকে সরেজমিনে সাংহাই আরবান প্ল্যানিং এক্সিবিশন সেন্টারের প্রদর্শনী কেন্দ্রটি দেখানো হয়। এক্সিবিশন সেন্টারের কর্মকর্তারা বলেন, সাংহাইয়ের উত্থান ছিল কয়েক দশক ধরে চলা ধারাবাহিক ও কেন্দ্রীভূত পরিকল্পনার ফল এবং সেইসঙ্গে চীনের জনগণের কঠোর পরিশ্রম।
কেন্দ্রটির একটি অংশে আর্কাইভের ছবি ও প্যানেল ব্যবহার করে বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের সাংহাইকে দারিদ্র্য ও ঘনবসতিপূর্ণ শ্রমিক-শ্রেণির বসতির শহর হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা আজকের বহুতল ভবন ও সবুজ এলাকার মডেলের সঙ্গে তীব্র বৈপরীত্য তৈরি করে।
প্রদর্শনী কেন্দ্রটির কেন্দ্রস্থলে রয়েছে আধুনিক সাংহাইয়ের একটি বিশাল স্কেল মডেল, যা একটি পুরো হল জুড়ে বিস্তৃত। এটি সাংহাইয়ের কয়েক দশকের পরিকল্পনাকে ধারণ করে। এর চারপাশের প্রদর্শনীতে দেখানো হয়েছে কীভাবে ‘সাংহাই ২০৩৫’ পর্যন্ত ধারাবাহিক মহাপরিকল্পনাগুলো কৌশলগত এবং ক্রমাগত পরিমার্জিত উপায়ে প্রবৃদ্ধিকে পরিচালিত করবে।
সাংহাইয়ের রূপান্তরের মূলে রয়েছে একটি মানবিক শহরের ধারণা। এই ধারণাটি মানবতাবাদ সম্পর্কে চিরায়ত ইউরোপীয় ধারণা থেকে ভিন্ন। চীনা প্রেক্ষাপটে, এটি চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আদর্শিক কাঠামোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত, যা সমষ্টিগত কল্যাণে উন্নয়নকে উৎসাহিত করে। এই দর্শনকে বিমূর্তভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। প্রদর্শনীর দেয়ালজুড়ে প্রদর্শিত ডায়াগ্রাম, নীতির সময়রেখা এবং দৃশ্যমান কেস স্টাডির মাধ্যমে এটি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এই পদ্ধতির প্রকাশ হলো ১৫ মিনিটের একটি সামাজিক জীবনচক্র। মানচিত্র এবং এলাকার বিন্যাসের মাধ্যমে চিত্রিত এই ধারণাটি দেখায় যে, বাসিন্দারা কীভাবে তাদের বাড়ি থেকে অল্প হাঁটাপথের মধ্যেই স্কুল, হাসপাতাল, দোকান এবং বিনোদন কেন্দ্রের মতো অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবাগুলো পাবে। এই দৃশ্যমান উপকরণগুলো দেখায় কীভাবে এই নীতিটি বিভিন্ন জেলায় প্রয়োগ করা হয়েছে, যা নগরে ন্যায়সঙ্গত প্রবেশাধিকারের ধারণাকে আরো শক্তিশালী করে।
পরিবেশগত পরিকল্পনা সাংহাইয়ের কৌশলের আরেকটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভ। বড় বড় ডায়াগ্রাম এবং ইন্টারেক্টিভ ডিসপ্লেগুলো তুলে ধরে কীভাবে শহরটিকে একটি সবুজ ও পরিবেশগতভাবে স্থিতিস্থাপক নগর কেন্দ্রে রূপান্তর করা হচ্ছে। মডেল এবং ডিজিটাল স্ক্রিনগুলো প্রচলিত শক্তির উৎস থেকে পরিচ্ছন্নতর বিকল্পের দিকে পরিবর্তনের বিষয়টি ব্যাখ্যা করে, অন্যদিকে বিশদ প্যানেলগুলোতে স্বল্প-কার্বন সঞ্চালন ব্যবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে।
একটি বিশেষ আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণা। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা দেখতে পারেন, কীভাবে শহরের ভূগর্ভে বৃষ্টির পানি শোষিত, সঞ্চিত এবং পুনরায় ব্যবহৃত হয়। এই পদ্ধতিটিকে শুধু বন্যার একটি প্রযুক্তিগত সমাধান হিসেবেই নয়, বরং একটি বৃহত্তর পরিবেশগত দর্শনের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সাংহাইয়ের পরিকল্পনা মাটির নিচেও বিস্তৃত এবং এটি স্তরবিন্যস্ত মডেলের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে যা শহরের নিচে লুকানো অবকাঠামোকে উন্মোচন করে। মেট্রো লাইন, পরিষেবা, সংরক্ষণাগার এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় ব্যবস্থার জন্য বিভিন্ন স্তর নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রদর্শনীগুলো সাধারণত যা অদৃশ্য থাকে, তা দৃশ্যমান করে তোলে এবং শহরটি কীভাবে সতর্ক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জটিলতা সামাল দেয়, সে সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে। বাংলাদেশের জন্য বিশেষ করে ঢাকার জন্য, এই প্রদর্শনীগুলোতে নিহিত শিক্ষাগুলো সুস্পষ্ট এবং জোরালো। প্রদর্শনীটি বারবার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরে এবং দেখায় যে কীভাবে সাংহাইয়ের উন্নয়ন কয়েক দশক ধরে বিস্তৃত কৌশল দ্বারা পরিচালিত হয়েছে।
বর্তমানে সাংহাই হলো চীনের প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র। বিশ্বের ব্যস্ততম কনটেইনার বন্দরগুলোর একটি। প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও বাণিজ্যের বড় কেন্দ্র এবং আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। সাংহাইয়ের উন্নয়নের মূল শক্তি ছিল- কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সরকারি পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ। এভাবে একটি ছোট নদীবন্দর থেকে সাংহাই আজ বিশ্বমানের মেগাসিটিতে পরিণত হয়েছে।
সাংহাই শহরটি এমনসব ঐতিহাসিক দৃশ্য ও গভীরতা প্রদান করে যা আপনাকে মুগ্ধ করবেই। ঔপনিবেশিকদের দ্বারা নির্মিত ধ্রুপদী ভবন থেকে শুরু করে ভবিষ্যৎমুখী নিয়ন-আলোয় সজ্জিত আকাশচুম্বী অট্টালিকা, সবকিছুতে পরিপূর্ণ এই সাংহাই প্রতিটি পদক্ষেপে জীবন্ত ইতিহাসের পাঠ দেয়। এজন্য পর্যটকরা সাংহাইকে বড় বেশি ভালোবাসেন। শহরটি রন্ধনশিল্পের অনবদ্য স্বাদ, বিশ্বমানের কেনাকাটা এবং মনোমুগ্ধকর ঐতিহাসিক এলাকাগুলোর এক অবিস্মরণীয় মেলবন্ধন উপহার দেয় ।
আইকনিক স্কাইলাইন ও দর্শনীয় স্থান বুন্ড একটি বিখ্যাত জলপ্রান্ত, যেখানে আপনি ঊনবিংশ শতাব্দীর ইউরোপীয় স্থাপত্যের প্রশংসা করতে পারেন এবং যেখান থেকে হুয়াংপু নদীর ওপারে আধুনিক লুজিয়াজুই স্কাইলাইনের অতুলনীয় দৃশ্য উপভোগ করা যায়। লুজিয়াজুইয়ে রয়েছে ৬৩২ মিটার উঁচু সাংহাই টাওয়ার (চীনের সর্বোচ্চ) এবং ওরিয়েন্টাল পার্ল টাওয়ারের মতো সুউচ্চ ভবনসমূহ। হুয়াংপু নদীর নৌবিহার শহরের নিয়ন আলোর ঝলকানি দেখার জন্য একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় সন্ধ্যাকালীন বিনোদন। ইউ গার্ডেন- মিং রাজবংশের আমলের একটি সুবিশাল ধ্রুপদী বাগান, যা পুকুর, মণ্ডপ এবং প্রাচীন শিলাস্তূপে পরিপূর্ণ।
ঝুজিয়াজিয়াও ওয়াটার টাউন সাংহাইয়ের ভেনিস নামে পরিচিত। খালবেষ্টিত এই ১৭০০ বছরের পুরোনো গ্রামটি দিনের বেলা ভ্রমণের জন্য আদর্শ। নানজিং রোড চীনের প্রধান কেনাকাটার স্থান যা নিয়ন সাইন, রাস্তার খাবার এবং দোকানে পরিপূর্ণ। ফ্রেঞ্চ কনসেশন একটি আধুনিক বৃক্ষশোভিত ঐতিহাসিক এলাকা, যা তার ইউরোপীয় ধাঁচের ভিলা, ক্যাফে এবং বুটিক দোকানের জন্য পরিচিত। তিয়ানজিফাং ও শিনতিয়ান্দি পুনরুদ্ধার করা শিকুমেন (পাথরের তোরণ) সংলগ্ন গলিগুলো এখন গ্যালারি, চায়ের দোকান ও হস্তশিল্পের দোকানের এক গোলকধাঁধা।
নানশিয়াং জিয়াওলোংবাও- এই বিখ্যাত স্যুপ ডাম্পলিংগুলো না খেয়ে আপনি কিছুতেই চলে যেতে পারবেন না, যা ইউ গার্ডেন এলাকার আশপাশে সবচেয়ে ভালো পাওয়া যায়। সাংহাইয়ের হালাল খাবার অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও বৈচিত্র্যময়, যেখানে খাঁটি উত্তর-পশ্চিম চীনা ও উইঘুর রন্ধনশৈলীর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশীয় এবং ভূমধ্যসাগরীয় স্বাদের মিশ্রণ ঘটেছে।
সাংহাইয়ের আকর্ষণ আজ বিশ্বজনীন। এই শহরে এমন এক আমেজ রয়েছে যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। বিশ্বের বিভিন্ন শহর সাংহাইয়ের সঙ্গে মৈত্রীবন্ধন গড়ে তুলছে। এর প্রধান লক্ষ্য হলো সংস্কৃতি, অর্থনীতি, উদ্ভাবন এবং নগর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা এবং বিশেষ করে জনগণের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত, সাংহাই এবং এর জেলাগুলো ৬০টি দেশের ৯৬টি শহর বা অঞ্চলের সঙ্গে মৈত্রী শহর চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
বলা হয়, সাংহাই এমন এক শহর যেখানে স্বপ্ন সত্যি হয়। সাংহাই শুধু একটি মেগাসিটিই নয়, এটি আক্ষরিক অর্থেই ভবিষ্যতের প্রবেশদ্বার। এখানে আকাশচুম্বী অট্টালিকাগুলো মেঘ ছুঁয়ে যায়, স্বচালিত ট্যাক্সিগুলো নিখুঁত পরিষ্কার রাস্তা দিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটে চলে এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রতিদিন জীবনকে আরো সহজ করে তোলে। আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরে পৃথিবীটা কেমন হবে তার এক ঝলক দেখার স্বপ্ন যদি আপনি দেখে থাকেন, তবে সাংহাই আপনার জন্য সেরা গন্তব্য।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

