আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

রমজানের প্রস্তুতি

তনিমা রহমান

রমজানের প্রস্তুতি

বিশ্বের মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য প্রিয় হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। প্রতিবছর এ মাস ঘিরে থাকে ইবাদতের নানা পরিকল্পনা আর আয়োজন। এক মাস সিয়াম সাধনার জন্য আগে থেকেই সব ধর্মপ্রাণ মুসল্লি নানা প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই লেখাটিতে রমজান মাসে ঘর সাজানোর কিছু পরামর্শ থাকছে।

বিজ্ঞাপন

নামাজের ঘর তৈরি

মুসলমানদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ফরজ। রমজান মাসে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। তা ছাড়া তসবি পড়া ও আনুষঙ্গিক ইবাদতে দিনরাত মশগুল থাকেন। পরিবারের বড়দের নামাজ আদায় করা দেখে এ সময় ছোটরাও উৎসাহিত হয় এবং নামাজ আদায় করে। বাসায় নামাজ আদায়ের জন্য তাই আলাদা ঘর বা স্থানের প্রয়োজন হয়। তাই আগে থেকেই নামাজের জন্য জায়গা নির্বাচন করতে হবে, ভালোভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে গুছিয়ে রাখতে হবে। নামাজের ঘরে কার্পেট বিছিয়ে দিতে হবে।

কোরআন শরিফ, তসবি ও হাদিসের বই রেখে দেন। ইবাদতের কাজে প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সামগ্রী রাখার জন্য নামাজের ঘরে একটি বুকশেলফ বা ওপেন শেলফ রাখতে পারেন।

ROJA

ডাইনিং রুম

রোজার মাসে সাহরি এবং ইফতারে সবাই একসঙ্গে খাওয়া যেমন আনন্দদায়ক, তেমনি পারিবারিক বন্ধন আরো মজবুত করে। তাই রোজার সময় পরিবারের সদস্যরা এক টেবিলে বসেই সাহরি ও ইফতার খেয়ে থাকেন। এতে পারিবারিক বন্ধন যেমন দৃঢ় হয়, তেমনি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও ইতিবাচক প্রভাব ফলে।

সাহরি ও ইফতার একসঙ্গে বসে খাওয়ার ক্ষেত্রে ডাইনিং টেবিলের বিকল্প নেই। তাই রমজান মাস সামনে রেখে আপনার বর্তমান ডাইনিং টেবিল সুন্দরভাবে সাজিয়ে নিন। সব সদস্য একসঙ্গে বসে খাওয়ার মতো সামর্থ্য অনুযায়ী ডাইনিং টেবিল কিনে নিতে পারেন।

লিভিং রুমের সাজসজ্জা

রোজায় ইফতার বা সাহরিতে অনেকেই অতিথিদের দাওয়াত দিয়ে খাওয়াতে পছন্দ করেন। তাই লিভিং রুমের কিছু নতুনত্ব আনতে পারেন। ঘরটি সাজাতে পারেন নতুন করে। তা ছাড়া রোজার পরপরই ঈদ। তাই সবকিছু বিবেচনায় এনে লিভিং রুমের ফার্নিচারসহ আনুষঙ্গিক উপাদান দিয়ে সাজাতে পারেন।

লিভিং রুমের দেয়ালজুড়ে লাগাতে পারেন বিভিন্ন সুরা, দোয়া বা হাদিসের বাণী-সংবলিত শো কার্ড। নামাজের ঘরের মতো লিভিং রুমেও একটি ওপেন শেলফ রাখতে পারেন, যেখানে ইসলামিক বই রাখা যেতে পারে।

লিভিং রুমে জানালার পাশে একটি রকিং চেয়ার রাখতে পারেন। এই চেয়ারে বসে হাদিস কিংবা ইসলামিক বই পড়তে পারেন। এসব চেয়ার অবশ্য যেকোনো রুমেই শোভা পায়।

ঘর থাকুক পরিপাটি

রমজান মাসের পুরোটা সময় বাসা রাখতে হবে পরিষ্কার এবং পরিচ্ছন্ন। পবিত্র এই মাসে ঘরবাড়ি নোংরা বা অগোছালো রাখা উচিত না। ঘর সুন্দর গোছানো থাকলে মন ভালো থাকে। এটি স্বাস্থ্যের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

* বাসার প্রতিটি রুম, বিশেষ করে নামাজের ঘরে কার্পেট থাকলে সেই কার্পেট নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। কারণ কার্পেটে ময়লা জমলে সেটি দৃষ্টিকটু ও নোংরা দেখায়। কার্পেট পরিষ্কারের জন্য ব্রাশ ব্যবহার করা যেতে পারে। নিয়মিত ব্রাশ দিয়ে কার্পেট পরিষ্কার করলে ধুলো-ময়লা জমার সুযোগ পাবে না।

* ফার্নিচারে যেসব ধুলোবালি জমে, সেগুলো ভেজা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করবেন না। কারণ ভেজা কাপড় দিয়ে ফার্নিচার পরিষ্কার করলে সেগুলোর রঙ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই এমন কিছু দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে, যাতে রঙের কোনো ক্ষতি না হয়। রঙ উঠে গেলে ফার্নিচার বার্নিশ করে নিতে পারেন।

* শোপিস কিংবা কাচের জিনিসপত্র মোছার জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরনের লিক্যুইড পাওয়া যায়। এগুলো দিয়ে মুছে নিলে শোপিস অনেক দিন ধরে পরিষ্কার থাকে। ঘর সাজানোর জন্য অনেকে কৃত্রিম ফুল বা ফুলের গাছ রাখেন। তাতেও জমতে পারে ধুলো-ময়লা। তাই সপ্তাহে কমপক্ষে এক দিন এগুলো পরিষ্কার করতে হবে। জানালার গ্রিল শুকনো ন্যাপকিন দিয়ে মুছে ফেলুন। এসব শুধু রোজার মাসের জন্যই পরামর্শ নয়, সারা বছরই এসব কাজ করতে হয়। তবে রোজায় পরিচ্ছন্নতা এবং পবিত্রতার স্বার্থে এসব জরুরি প্রয়োজন।

ইবাদতের সুবিধার্থে নামাজের ঘরসহ অন্যসব রুমে ডিমলাইটের ব্যবস্থা রাখতে পারেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন