নববর্ষের শোভাযাত্রা কী রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে গেল

আমার দেশ অনলাইন

নববর্ষের শোভাযাত্রা কী রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে গেল

পহেলা বৈশাখকে ঘিরে সারাদেশে উদযাপন প্রস্তুতির পাশাপাশি নববর্ষের শোভাযাত্রার নাম গত বছর একবার পরিবর্তনের পর এবার আবার নতুন করে নির্ধারণ করেছে সরকার। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছর এই শোভাযাত্রার নাম হবে 'বৈশাখী শোভাযাত্রা', যা এর আগে কখনো 'আনন্দ কিংবা মঙ্গল শোভাযাত্রা' নামে আয়োজন করা হতো।

ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা অবশ্য বলছেন, গত এক দশকে এ বিতর্কের কেন্দ্র এসে দাঁড়িয়েছে নববর্ষের শোভযাত্রা। নববর্ষের প্রথম দিনে শোভাযাত্রাটি বের হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে। তবে শোভাযাত্রাটি রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি এবং এর সার্বিক ব্যবস্থাপনার কাজটি সরকার থেকেই করা হয়।

বিজ্ঞাপন

ঢাকায় পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে শোভাযাত্রাটি প্রথম শুরু হয় ১৯৮৯ সালে। তখন যারা এতে অংশ নিয়েছিলেন তাদের বর্ণনা মতে এই শোভাযাত্রাটি মূলত সামনে এসেছিল তখনকার এরশাদ সরকার বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে।

উনিশশো নব্বইয়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পটভূমিতে 'অমঙ্গলকে দূর করে মঙ্গলের আহ্বান' জানিয়েই শোভাযাত্রার নামকরণ করা হয়েছিল 'মঙ্গল শোভাযাত্রা'।

তখন থেকেই প্রতিবছর চারুকলা অনুষদ থেকে পহেলা বৈশাখের সকালে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নানা ধরনের ভাস্কর্য, মুখোশ হাতে বর্ণাঢ্য মিছিল বের হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে এতে অংশ নিতে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন স্তরের সাধারণ মানুষ।

প্রতিবছর শোভাযাত্রার অন্যতম অনুষঙ্গ থাকে এসব বাঁশ এবং কাগজের তৈরি নানা ভাস্কর্য। যা তৈরি হয় কোনো একটি প্রতিপাদ্যের ওপর ভিত্তি করে। এরপর অন্তত এক দশক এই শোভাযাত্রা কিংবা এর নামকরণ নিয়ে তেমন কোনো বিতর্ক সামনে আসেনি।

বিএনপি দলগতভাবে 'মঙ্গল শোভাযাত্রা' নামের বিষয়ে এতদিন কোনো মন্তব্য করেনি। যদিও এবার ক্ষমতায় এসে বিএনপি সরকার আনন্দ শোভাযাত্রা ও মঙ্গল শোভাযাত্রা দুটিকেই বাদ দিয়ে 'বৈশাখী শোভাযাত্রা' করার কথা জানিয়েছে।

তবে এই মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ঘিরে বড় বিতর্কটি হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে। তখনই প্রশ্ন ওঠে, এই আয়োজনটি চূড়ান্তভাবে রাজনৈতিক বিষয়বস্তুতে পরিণত হলো কি-না।

২০১৬ সালে বাংলাদেশে নববর্ষের মঙ্গল শোভাযাত্রা জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় জায়গা পায়।

তত

তখন সরকার ২০২৫ সালের পহেলা বৈশাখের 'মঙ্গল শোভাযাত্রা' নাম পরিবর্তন করে শোভাযাত্রাটির নাম দেয় 'বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা'।

শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে তখনকার অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী অবশ্য দাবি করেছিলেন যে, 'বর্ষবরণের এবারের শোভাযাত্রা রাজনৈতিক নয়'।

আর এবার বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে এই শোভাযাত্রার নাম দিল 'বৈশাখী শোভাযাত্রা', যাকে বিশ্লেষকরা কেউ কেউ রাজনৈতিক মতভেদের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন। যদিও কিছু সাংস্কৃতিক সংগঠন সরকারের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবি করেছে।

সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, এই শোভাযাত্রা এককভাবে চারুকলার না। চারুকলা এটি প্রতিবছর আয়োজন করে। এটি সামগ্রিকভাবে একটি বৈশাখী উৎসব।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...