ধান ছেড়ে তেজপাতা চাষে ঝুঁকছেন কাউনিয়ার কৃষক

ধান ছেড়ে তেজপাতা চাষে ঝুঁকছেন কাউনিয়ার কৃষক

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর গ্রাম। এ গ্রামে আবাদি জমি, বাড়ির উঠান, পতিত জমি, রাস্তার ধারে বেড়ে উঠেছে সারি সারি গাছ। ২০-২৫ ফুট উঁচু এসব গাছে ছড়িয়ে আছে পাতা। সাধারণ গাছের মতো দেখা গেলেও তেজপাতার এই গাছ কৃষকদের জন্য হয়ে উঠেছে আশীর্বাদ।

এ পাতা চাষে কৃষক পরিবারে ফিরছে আর্থিক সচ্ছলতা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চাষিরা স্বপ্ন দেখছেন রপ্তানির। বিস্তৃত এ গ্রামের সড়কে, রাস্তার ধারে, পতিত জমিতে তেজপাতার এমন সারি সারি গাছ চাষিদের সুদিনের হাতছানি দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

শুধু এই টেপামধুপুরই নয়, বাজে-মজকুর, চৈতার মোড়, রাজীব গ্রাম ও গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় হচ্ছে তেজপাতার চাষ। কৃষি বিভাগ বলছে, প্রতি বছরই বাড়ছে এই আবাদের সংখ্যা। এ বছর ১৩৭ হেক্টর জমিতে তেজপাতার আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই হাজার ৯০৭ টন, যা গেল বছরের তুলনায় পাঁচ হেক্টর বেশি।

টেপামধুপুর এলাকায় কথা হয় তেজপাতা বাগানের মালিক হাসান আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ধান আবাদ করতে গেলে খরচ বেশি হয়। আর বর্ষার সময় তো জমি পানির নিচেই থাকে। সে সময় যদি ধানের আবাদ হয়, তাহলে পুরো ক্ষতি হয় কৃষকের। আর বর্ষা মৌসুমে কিন্তু পাতার কোনো ক্ষতি হয় না।

তিনি বলেন, একটি গাছ থেকে বছরে দুবার পাতা কাটা হয়। সর্বনিম্ন তিন হাজার টাকা করে হলেও ছয় হাজার টাকার পাতা বিক্রি করা যায়।

উপজেলার চৈতার মোড় এলাকায় কথা হয় শাহজাহান মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ২২ শতক জমিতে কোনো কিছুর আবাদ হতো না। চারপাশে ছায়া। তাই এ গাছের চারা রোপণ করেছি। পাতা যত বেশি হয়, তত বেশি টাকা পাই।

তিনি আরো বলেন, আমার আরো যে জমিগুলো আছে, সেগুলোতেও এখন তেজপাতার গাছ লাগানো হয়েছে। ধানের আবাদে খরচ বেশি হয়। তাই অনেকে এখন এই গাছ রোপণ করছেন। লাভও বেশি হয়। আর বেশি পরিশ্রমও করতে হয় না।

একই এলাকায় কথা হয় রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ধান, পাট, ভুট্টা ও আলুসহ অন্যান্য আবাদের চেয়ে কম ঝুঁকিতে লাভ বেশি হওয়ায় চাষিরা তেজপাতা আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তেজপাতার বাগানে কথা হয় সবুজ মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, পাতা থেকে যে আয় হচ্ছে, তা দিয়ে পরিবারের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে।

আলু চাষে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় এখন সব জমিতে তেজপাতার গাছ রোপণ করেছেন মলিন দাস। তিনি বলেন, দুবছর থেকে আলুতে ক্ষতি হওয়ায় এখন তেজপাতায় ঝুঁকছেন। আলুতে ক্ষতি হওয়ায় গ্রামের অনেকে এখন এই গাছ লাগাচ্ছেন।

তেজপাতা নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে কৃষি বিভাগ। রংপুর অঞ্চল কৃষি বিভাগের উপপরিচালক সৈয়দ সিফাত জাহান আমার দেশকে বলেন, কম বিনিয়োগে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি রংপুরের কাউনিয়া, পীরগাছা ও গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় তেজপাতার চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা আশা করি বিভিন্ন মসলার ফসলের মতো তেজপাতার চাষ রংপুর অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিকে বেগবান ও সমৃদ্ধি করতে কাজ করবে।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন