আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

রোজায় বুকজ্বালা ও হজমের সমস্যা

ডা. সামিউল সাদনান

রোজায় বুকজ্বালা ও হজমের সমস্যা

রমজানে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ইফতারে ভারী খাবার খাওয়া, মসলাযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবারের প্রবণতা এবং খাওয়ার পরপরই শোয়াÑ এসব কারণে গ্যাস্ট্রো-ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD) বা এসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। এতে বুকজ্বালা, পেটে অস্বস্তি ও খাবার গলায় উঠে আসার অনুভূতি হতে পারে। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

রমজানে GERD কেন বাড়ে

বিজ্ঞাপন

✅ ইফতারে অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার– পাকস্থলীতে চাপ ও এসিড রিফ্লাক্স বাড়ায়।

✅ খাওয়ার পরপরই শোয়াÑ এসিড সহজে খাদ্যনালিতে উঠে আসে।

✅ খাবারের অনিয়ম– সাহরি বাদ দেওয়া বা খুব দ্রুত খেয়ে নেওয়া এসিড নিঃসরণ বাড়ায়।

✅ চা, কফি ও কোল্ড ড্রিংকস– পাকস্থলীর এসিড নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়।

✅ অতিরিক্ত মিষ্টি ও কার্বোহাইড্রেট– পাকস্থলী দীর্ঘসময় ভরা থাকে, যা এসিড রিফ্লাক্স বাড়ায়।

কীভাবে GERD নিয়ন্ত্রণে রাখবেন

✅ সাহরি ও ইফতারে কী খাবেন

✔ প্রোটিন ও ফাইবারযুক্ত খাবার– যেমন : মাছ, ডাল, শাকসবজি, দই ইত্যাদি।

✔ পর্যাপ্ত পানি পান করুন– তবে একসঙ্গে বেশি না খেয়ে ধীরে ধীরে পান করুন।

কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন

⛔ অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, মসলাযুক্ত ও ঝাল খাবার।

⛔ কোল্ড ড্রিংকস ও ক্যাফেইন।

⛔ অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার।

জীবনযাত্রার কিছু সহজ পরিবর্তন

✔ খাবার ধীরে ধীরে চিবিয়ে খান– দ্রুত খাবার খেলে পাকস্থলীতে চাপ বাড়ে।

✔ সোজা হয়ে বসে ইফতার করুন– খাওয়ার পর অন্তত দু-তিন ঘণ্টা শোয়া এড়িয়ে চলুন।

✔ তারাবিহ নামাজ ও হালকা হাঁটাহাঁটি করুন– হজম ভালো হয় ও এসিড কমে।

✔ সাহরি বাদ দেবেন না– খালি পেটে ইফতার করলে এসিড নিঃসরণ বেড়ে যেতে পারে।

ওষুধ ও চিকিৎসকের পরামর্শ

যদি নিয়ম মেনে চলার পরও GERD-এর লক্ষণ ভালো না হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শে নিম্নলিখিত ওষুধ সেবন করা যেতে পারেÑ

✔ অ্যান্টাসিড– দ্রুত এসিড নিরপেক্ষ করে।

✔ H2 ব্লকার (যেমন : ফ্যামোটিডিন)– এসিড নিঃসরণ কমায়।

✔ প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (PPI)– যেমন : ওমিপ্রাজল, ইসোমিপ্রাজল।

⚠ রোজা রেখে ওষুধ সেবনের নিয়ম চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মানতে হবে।

শেষ কথা : রমজানে সুস্থ থাকতে হলে সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা মেনে চলা জরুরি। সামান্য পরিবর্তন আনলেই বুকজ্বালা, এসিডিটি ও হজমের সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। সুস্থ থাকুন, সংযমী থাকুন, যেন রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদতে কাটাতে পারেন।

লেখক : মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন