ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে জগন্নাথ হলের আশপাশে এ ঘটনা ঘটে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, জগন্নাথ হলের একটি জানালা থেকে ককটেল ছোড়া হলে পরপর তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা সরদার নাদিম মাহমুদ শুভ অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।
তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতের ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। জগন্নাথ হল প্রশাসন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে।
সরদার নাদিম মাহমুদ শুভ আরও বলেন, তদন্তের মাধ্যমে জগন্নাথ হলসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হলে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কোনো ধরনের প্রভাব, তৎপরতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সুযোগ যেন না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি চলতে পারে না। ক্যাম্পাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে যারা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে সন্ত্রাস, দখলদারি ও পেশিশক্তির রাজনীতির কোনো স্থান নেই। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে যায়। পাশাপাশি শাহবাগ থানা পুলিশের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল টিমকে সরেজমিনে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি শাহবাগ থানা পুলিশও উপস্থিত রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

