ঈদুল আজহা : খুশি আর শেখার উৎসব

সাঈদ বারী

ঈদুল আজহা : খুশি আর শেখার উৎসব

সারা বছর ছোটরা অনেক উৎসবের জন্য অপেক্ষা করে। কিন্তু ঈদুল আজহার আনন্দ যেন একটু অন্যরকম। এই ঈদে আছে নতুন জামার খুশি, পরিবারের সবার সঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দ, গরুর হাটে যাওয়ার মজা আর মানুষের সঙ্গে ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়ার শিক্ষা। তাই কোরবানির ঈদ ছোটদের কাছেও খুব প্রিয় একটি উৎসব।

ঈদের কয়েক দিন আগে থেকেই বাড়িতে উৎসবের আমেজ শুরু হয়। মা নতুন জামা গুছিয়ে রাখেন, ঘরদোর পরিষ্কার করা হয়, রান্নার আয়োজন শুরু হয়। ছোটরা তখন খুব উত্তেজিত থাকে। কখন ঈদ আসবে, কখন নতুন জামা পরবে—এসব ভেবেই তাদের দিন কেটে যায়।

বিজ্ঞাপন

কোরবানির ঈদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো পশুর হাট। হাটে গেলে মনে হয় যেন এক বিশাল মেলা বসেছে। চারদিকে গরু, ছাগল আর ভেড়ার ডাক। কেউ বড় গরু দেখে অবাক হয়, কেউ ছোট ছাগল দেখে খুশি হয়। ছোটরা অনেকেই বাবার হাত ধরে হাটে যায় এবং মন দিয়ে পশু দেখে। কেউ গরুর রং পছন্দ করে, কেউ শিং দেখে মুগ্ধ হয়। হাটের এই অভিজ্ঞতা ছোটদের মনে অনেক দিন রয়ে যায়।

অনেক পরিবার ঈদের আগে পশু বাড়িতে নিয়ে আসে। তখন ছোটরা গরুর খুব যত্ন নেয়। কেউ ঘাস দেয়, কেউ পানি দেয়, কেউ গায়ে হাত বুলিয়ে আদর করে। অনেক সময় ছোটরা গরুর মজার নামও রাখে। গরুকে ঘিরে পরিবারের মধ্যে একধরনের আনন্দ তৈরি হয়।

ঈদুল আজহার পেছনে রয়েছে একটি মহান ঘটনা। মহান আল্লাহ হজরত ইবরাহিম (আ.)কে পরীক্ষা করার জন্য তার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কোরবানি করতে বলেছিলেন। আল্লাহর আদেশ মানতে তিনি প্রস্তুত হয়েছিলেন। তার এই আনুগত্য ও ত্যাগের স্মরণেই মুসলমানরা কোরবানি করে থাকে। এই ঈদ আমাদের শেখায়, আল্লাহর আদেশ মেনে চলা এবং ভালো কাজ করা কত গুরুত্বপূর্ণ।

ঈদের দিন সকালে সবাই খুব ভোরে ওঠে; গোসল করে নতুন জামা পরে ঈদের নামাজ পড়তে যায়। ঈদগাহে অনেক মানুষকে একসঙ্গে নামাজ পড়তে দেখে ছোটদের খুব ভালো লাগে। নামাজ শেষে সবাই কোলাকুলি করে এবং ঈদের শুভেচ্ছা জানায়। ছোটরা বড়দের সালাম করে আর বড়রা দোয়া ও আদর দেয়।

এরপর কোরবানির কাজ শুরু হয়। কোরবানির সময় পশুর সঙ্গে দয়া ও সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ করতে হয়। ইসলাম আমাদের সব প্রাণীর প্রতি মমতা দেখাতে শিখিয়েছে। কোরবানির মাংস আত্মীয়স্বজন ও গরিব মানুষের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। এতে সবাই ঈদের আনন্দে অংশ নিতে পারে।

ঈদের দিনে ছোটদের আরেকটি আনন্দ হলো মজার খাবার। সেমাই, ফিরনি, পোলাও, মাংসের নানা পদ আর মিষ্টি খেতে সবাই খুব পছন্দ করে। আত্মীয়দের বাড়িতে বেড়াতে গেলে আরো মজা হয়। বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা, গল্প আর হাসিতে পুরো দিন কেটে যায় আনন্দে।

গ্রামে ঈদের আনন্দ আরো বেশি চোখে পড়ে। কোথাও কোথাও মেলা বসে। সেখানে খেলনা, বেলুন, বাঁশি আর মিষ্টির দোকান থাকে। ছোটরা মেলায় গিয়ে খুব খুশি হয়। কেউ নাগরদোলায় চড়ে, কেউ খেলনা কেনে, আবার কেউ বেলুন হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়।

আজকাল শহরের ঈদও অনেক আনন্দের। অনেকে দূরে থাকা আত্মীয়দের ভিডিও কলে শুভেচ্ছা জানায়। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে যায়। প্রযুক্তি বদলে গেলেও ঈদের আনন্দ কিন্তু একই আছে।

কোরবানির ঈদ আমাদের একটি বড় শিক্ষা দেয়। আমরা শিখি ভাগাভাগি করতে, গরিব মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং সবাইকে ভালোবাসতে। শুধু নিজের আনন্দ নিয়ে ব্যস্ত থাকলে হয় না, অন্যের মুখেও হাসি ফোটাতে হয়।

তাই ঈদুল আজহা শুধু উৎসব নয়, এটি সুন্দর মানুষ হওয়ার শিক্ষাও দেয়। ছোটদের হাসি, পরিবারের ভালোবাসা আর সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই এই ঈদের আসল সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন