আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বছরে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার মানুষের মৃত্যু ক্যান্সারে

স্টাফ রিপোর্টার

বছরে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার মানুষের মৃত্যু ক্যান্সারে

দেশে প্রতি বছর ১ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। মারা যায় প্রায় ১ লাখ সাড়ে ১৬ হাজার রোগী। অথচ এই বিপুলসংখ্যক ক্যান্সার রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার সামর্থ্য এবং সক্ষমতা আমাদের নেই। সরকারি-বেসরকারি সব মিলিয়ে প্রায় ৩০টির মত ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র আছে। সবগুলোতে আবার ক্যান্সার চিকিৎসার সব পদ্ধতি চালু থাকে নেই। এ পরিস্থিতিতে চিকিৎসার পাশাপাশি ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য ব্যাপকভাবে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। ক্যান্সারের ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রতিরোধমূলক উপাদানগুলো সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হবে। কিছু বিষয় বর্জন ও কিছু গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ক্যান্সারের প্রাথমিক সাতটি সতর্ক সংকেত সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করতে হবে।

বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে বুধবার গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে মেজর হায়দার মিলনায়তনে ক্যান্সার পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়‘ ইউনাইটেড বাই ইউনিক অর্থাৎ অনন্যতায় ঐকতান’।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী ও গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যান্সার হাসপাতাল প্রকল্পের সমন্বয়কারী ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন- গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাঈদ উজ- জামান অপু, কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মোশাররফ সৌরভ, ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ হুমায়ন কবির, নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা মাশহুদা খাতুন শেফালী, হীলের প্রতিষ্ঠাতা জেবুন্নেসা, গণস্বাস্থ্য বেসিক কেমিকেলস্ লিমিটেডের এমডি এবিএম জামাল উদ্দিন আহমেদ, সিওসি ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও প্রধান নির্বাহী ইকবাল মাহমুদ, রোটারিয়ান সৈয়দ আফতাবুজ্জামান ও সিনিয়র সাংবাদিক নাদিরা কিরণ। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ, গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের এমডি ডা. মনজুর কাদির আহমেদ,গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচিত্রকার মসিহউদ্দিন শাকের।

5ceb99e5-2f20-440e-bcec-7b0c62fd282c

সভায় বক্তারা আরো বলেন, ক্যান্সারকে নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে সার্বিকভাবে একটি জাতীয় ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ কৌশলপত্র, কর্ম পরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন করা খুবই জরুরি। যা বাংলাদেশে বর্তমানে নেই। ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ বিভাগীয় এবং জেলা পর্যায়ে মেডিকেল কলেজগুলোতে চালু করা দরকার। ক্যান্সার স্ক্রিনিং অর্থাৎ ক্যান্সারের লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই খুব সহজ পদ্ধতির মাধ্যমে গোপন ক্যান্সার রোগী খুঁজে পাওয়ার পদ্ধতি উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ফোরামের পক্ষ থেকে ১০ জন সাংবাদিককে ক্যান্সার প্রতিরোধে গণমাধ্যমের সহযোদ্ধা হিসেবে কৃতজ্ঞতা স্মারক উপহার দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে উপস্থিত ৮ জন অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আমৃত্যু ক্যান্সার সচেতনতার কাজে ডা. রাসকিনের নেতৃত্বে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

পুরস্কারপ্রাপ্ত ১০ সাংবাদিক হলেন- (১) বিউটি আকতার, ফিচার ইনচার্জ, দৈনিক আমার দেশ, (২) প্রতীক ইজাজ, যুগ্ম সম্পাদক, নিউজ পোর্টাল "সমাজকাল", (৩) পল্লব মোহাইমেন, সমন্বয়ক, প্রষুক্তি সংবাদ, প্রথম আলো, (৪) সুরায়া মুন্নি, জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, মোহনা টিভি, (৫) তাপসী রাবেয়া আঁখি, সিনিয়র রিপোর্টার, দেশ রূপান্তর, (৬) শিমুল মাহমুদ নাঈম, নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের কন্ঠ, (৭) মোহাম্মদ আল আমিন, উপ-সম্পাদক, ডেইলি সান, (৮) জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, সম্পাদক, সাপ্তাহিক পঙক্তি, (৯) বিশাখা দেবনাথ, বাণিজ্য সম্পাদক, দি ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস ও (১০) মো. আজাদুল ইসলাম (আদনান), স্টাফ রিপোর্টার।

সূচনা বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন জানান, আন্তর্জাতিক ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ সংঘ আইএআরসি ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার ২০২৫ থেকে ২০২৭ পর্যন্ত তিন বছরের জন্য এ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে। প্রত্যেক ক্যান্সার রোগীর অভিজ্ঞতা স্বতন্ত্র বা অনন্য। তাদের দু:খ-কষ্ট, আনন্দ-বেদনা, সমবেদনা ও গল্প আলাদা। ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে সবাই মিলে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে নিতে হবে। মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ক্যান্সার নামের রোগটিকে নয়, বরং রোগে আক্রান্ত মানুষটিকে গুরুত্ব দিতে হবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কেন্দ্রস্থলে মানুষ তথা জনসাধারণকে বসিয়ে সে অনুযায়ী কার্যক্রম পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, ক্যান্সারকে নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে সার্বিকভাবে একটি জাতীয় ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ কৌশলপত্র, কর্ম পরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন করা খুবই জরুরি। যা বাংলাদেশে বর্তমানে নেই। ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ বিভাগীয় এবং জেলা পর্যায়ে মেডিকেল কলেজগুলোতে চালু করা দরকার। ক্যান্সার স্ক্রিনিং অর্থাৎ ক্যান্সারের লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই খুব সহজ পদ্ধতির মাধ্যমে গোপন ক্যান্সার রোগী খুঁজে পাওয়ার পদ্ধতি উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন