দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী ও মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে শুধু চিকিৎসক নয়, গণমাধ্যমের ভূমিকা অনেক বেশি বলে মন্তব্য করেছেন চিকিৎসক নেতারা। তারা বলেন, বর্তমান সরকার যে সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়তে চাচ্ছে, সেখানে শুধু চিকিৎসক ও নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মী নয়, বড় ভূমিকা থাকতে হবে সংবাদমাধ্যমের। সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।
সোমবার (২ মার্চ) রাজধানীর কারওয়ান বাজারের দ্য রেইনি রুফ রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টাস ফোরাম (বিএইচআরএফ) আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে চিকিৎসক নেতারা এসব কথা বলেন।
ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন বিএইচআরএফ সভাপতি প্রতীক ইজাজ। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল হোসেন, ঔষধ শিল্প সমিতির কোষাধ্যক্ষ হালিমুজ্জামান ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ইতিহাসের উপ-পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলাম, জনসংযোগ কর্মকর্তা জাহিদ হাসান, আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) জনসংযোগ বিভাগের প্রধান তারিফুল ইসলাম, ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএইচআরএফ সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএইচআরএফ’র অর্থ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আদনান।
অনুষ্ঠানে ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ বলেন, ‘আগামী দিনে স্বাস্থ্যসেবা খাতকে সমস্ত মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর যে চ্যালেঞ্জ, সেটি উত্তরণের শুধু চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দিয়ে হবে না, গণমাধ্যমেরও ভূমিকা অনেক বেশি থাকতে হবে। আগামীর সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়তে চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারলে আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছানো সম্ভব হবে।’
এনডিএফ সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন বলেন, ‘রমজান মাস মূলত তাকওয়া (খোদাভিতি) অর্জনের মাস। সাংবাদিকদের জন্য তাকওয়া হলো সাদাকে সাদা, আর কালোকে কাল বলা। এতটুকু হলেই আমাদের দেশটা সুন্দরভাবে এগোবে। পাশাপাশি দেশপ্রেমের এই জায়গা থেকে আমরা যেন সবাই সত্য মিষ্ট হয়, এটাই হোক আমাদের চাওয়া।’
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাত মানেই শুধু চিকিৎসক নয়, গণমাধ্যমকর্মী এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তারা ভালটা যেমন সামনে আনে, মন্দটাও তুলে ধরে।’
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতালে উপ-পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, রোজার সংযম ও পবিত্রতা সবাইকে সংযমী করুক ও সৎ পথে পরিচালিত করুক।
বিএইচআরএফ সভাপতি প্রতীক ইজাজ বলেন, সব শ্রেণির মানুষের জন্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সবাইকে যার যার জায়গা থেকে সঠিকভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের সবারই মূল লক্ষ্য থাকবে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে স্বাস্থ্যবিটে কর্মরত সাংবাদিকদের নির্মোহভাবে স্বাস্থ্য খাতের সকল ইতিবাচক ও নেতিবাচক কর্মকান্ড তুলে ধরতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

