বাংলাদেশে কেন বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপ?
দেশে দ্রুত নগরায়ণ, ফাস্টফুড, অতিরিক্ত লবণ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, রাতজাগা, ধূমপান ও মানসিক চাপ বৃদ্ধির কারণে উচ্চ রক্তচাপ বাড়ছে। অনেকেই নিয়মিত পরীক্ষা করেন না। ফলে রোগ ধরা পড়ে দেরিতে।
প্রতিরোধে করণীয়
১. নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা : প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তত বছরে একবার, ঝুঁকিপূর্ণদের আরো বেশি।
২. লবণ হ্রাস : প্রতিদিন পাঁচ গ্রামের কম লবণ গ্রহণ করা উত্তম।
৩. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস : বেশি ফলমূল, শাকসবজি, আঁশযুক্ত খাবার, কম চর্বি ও কম চিনি খাওয়া।
৪. ওজন নিয়ন্ত্রণ : স্থূলতা কমাতে হাঁটা, ব্যায়াম, পরিশ্রম জরুরি।
৫. ধূমপান ও তামাক বর্জন : ধমনির ক্ষতি কমাতে এটি অত্যাবশ্যক।
৬. মানসিক চাপ হ্রাস : পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম, প্রার্থনা এবং পরিবারে সময় দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
৭. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ : ডায়াবেটিস থাকলে রক্তচাপ আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়।
চিকিৎসা
উচ্চ রক্তচাপ সাধারণত পুরোপুরি ভালো না হলেও সঠিক চিকিৎসা ও নিয়ম মেনে চললে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হবে।
- নির্দিষ্ট সময় পরপর চিকিৎসকের ফলোআপে যেতে হবে।
- স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস মেনে চলতে হবে।
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনোই ওষুধ বন্ধ করা যাবে না।
অনেকেই উপসর্গ কমে গেলে বা না থাকলে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বন্ধ করে দেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ লক্ষণ না থাকলেও শরীরের ক্ষতি চলতেই থাকে।
পরিশেষে, উচ্চ রক্তচাপ মানেই ভয় নয়, তবে অবহেলা করার পরিণতি মারাত্মক হতে পারে। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললেই এ নীরব ঘাতককে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। মনে রাখতে হবে—‘আজকের সচেতনতা, আগামী দিনের স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধ করতে পারে।’ নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন, সুস্থ থাকুন এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখুন।
লেখক : প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

