দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে থাকা কিছু পরিচিত খাবার অজান্তেই উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তাদের মতে, অসচেতন খাদ্যাভ্যাসের কারণেই ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে পরিচিত উচ্চ রক্তচাপ অনেকের শরীরে অজান্তেই বাসা বাঁধছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়, কারণ রোগটির প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় না। দীর্ঘদিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি জটিলতা এবং দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রক্রিয়াজাত মাংস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, ক্যানজাত স্যুপ, চিপস, ফাস্টফুড এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোমল পানীয় নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। এসব খাবারে থাকা অতিরিক্ত সোডিয়াম বা লবণই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম জমলে পানি ধারণের প্রবণতা বাড়ে, ফলে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে হৃদপিণ্ডকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বর্তমানে মানুষের শরীরে প্রবেশ করা সোডিয়ামের বড় অংশই আসে প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার থেকে। এ কারণে এসব খাবার নিয়মিত গ্রহণ রক্তচাপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। মিষ্টি পানীয় ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার ওজন বাড়ায়, যা হাইপারটেনশনের একটি বড় ঝুঁকির কারণ। অন্যদিকে ভাজাপোড়া, কেক, পেস্ট্রি এবং ফাস্টফুডে থাকা স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট দীর্ঘমেয়াদে রক্তনালীর ক্ষতি করে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
বেকন, সসেজ, হ্যাম, সালামি ও হট ডগের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংসে উচ্চমাত্রার সোডিয়াম ও সংরক্ষণকারী উপাদান থাকায় এগুলো হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। এসবের পরিবর্তে তাজা চর্বিহীন মাংস, মাছ, ডাল এবং চামড়াবিহীন মুরগির মাংস খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য, ডাল, বাদাম এবং স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার নিয়মিত খাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে কলা, পালং শাক, টমেটো, আলু ও শিমজাতীয় খাবারে থাকা পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত করার পাশাপাশি মিষ্টি পানীয়ের পরিবর্তে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


