সাক্ষাৎকার

হাইড্রোজ মেশানো জিলাপি লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়

হাইড্রোজ মেশানো জিলাপি লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়

আমরা বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবার খেয়ে থাকি। বিরিয়ানি, জিলাপিসহ অনেক খাবার। কিন্তু বর্তমানে এসব খাবারে কাপড়ের রঙ মেশানোর প্রমাণ মিলছে। এর স্বাস্থ্যঝুঁকি কেমন, তা জানতে আজ ‘হ্যালো ডাক্তার’ বিভাগে আমরা কথা বলব মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আশরাফ উদ্দিন আহমেদ-এর সঙ্গে।

বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন : জিলাপি মচমচে করার জন্য হাইড্রোজ ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে?

উত্তর : আমরা হয়তো অনেকে নিয়মিত জিলাপি খাই না, কিন্তু রমজান মাসে ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে জিলাপি। আমরা যখন জিলাপি খাই, একটু কামড় দিলেই মচমচে আওয়াজ হয়। এটি খাবারটির প্রতি আমাদের আকর্ষণ বাড়ায়। অনেকের ক্ষেত্রে জিলাপির মচমচে ভাব কিংবা এর আকর্ষণীয় রঙও খাবারটির প্রতি আকর্ষণ বাড়িয়ে দেয়। ওই রঙের জন্য জিলাপিতে টেক্সটাইলের রঙ ব্যবহার করা হয়। যেটাকে আপনি হাইড্রোজ বললেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইউরিয়া সার বা ফরমালিনও দেওয়া হয়। এগুলো দীর্ঘ মেয়াদে শরীরের বিভিন্ন ধরনের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত রাসায়নিক রঙ আমাদের শরীরের কোষের ডিএনএ নষ্ট করে দিতে পারে। এতে খাদ্যনালি ও লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এখন অক্টোবর মাস। এটি লিভার ক্যানসার সচেতনতা মাস। এ মাসে সবাইকে এ ধরনের রাসায়নিকযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার বিষয়ে সচেতন করা উচিত, যাতে তারা লিভার সুস্থ রাখতে পারেন। এছাড়া এসব রাসায়নিক আমাদের লোহিত রক্তকণিকাও ধ্বংস করতে পারে। আমাদের বোনম্যারো বা অস্থিমজ্জা থেকে শরীরের বিভিন্ন ধরনের রক্তকণিকা তৈরি হয়। এসব রাসায়নিক অস্থিমজ্জার কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। একে আমরা বলি বোনম্যারো সাপ্রেশন। এর কারণে বিভিন্ন ধরনের রক্তের রোগ হতে পারে এবং রক্তকণিকা উৎপাদন কমে যেতে পারে। তা ছাড়া শিশুদের মনোদৈহিক বিকাশের ক্ষেত্রেও সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

প্রশ্ন : ফুটপাত থেকে পেয়ারা কিংবা জামরুল কিনে খেলে তাতে বিট লবণ দেওয়া হয়। এমনকি সেদ্ধ ডিমেও টেস্টিং সল্ট দেওয়া হয়। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি কেমন?

উত্তর : অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের কারণে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। লবণের কারণে উচ্চ রক্তচাপ থেকে শুরু করে এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। সেটি সাধারণ লবণ, বিট লবণ কিংবা পিংক সল্ট—যেটাই হোক, অতিরিক্ত লবণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

ফল নির্দিষ্ট পরিমাণে খেলে শরীরের জন্য উপকার। বিশেষ করে পেয়ারা, আমড়া ও আমলকীর মতো ফলে ভিটামিন সি আছে। কিন্তু এসব ফলের সঙ্গে অতিরিক্ত সাধারণ লবণ, বিট লবণ কিংবা পিংক সল্ট দিয়ে খেলে তা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া বাইরে বিক্রি হওয়া ফল অনেক সময় খোলা অবস্থায় থাকে, যাতে ধুলাবালি পড়ে। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণু শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই ফল বাসায় এনে নিজে কেটে খাওয়াই উত্তম।

প্রশ্ন : বিরিয়ানিতে ফুড কালারের পরিবর্তে কাপড়ের রঙ ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি চামড়াশিল্পে ব্যবহৃত লবণও ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যের ওপর কী প্রভাব পড়ছে?

উত্তর : এই দুটিই আসলে ক্ষতিকর। বিরিয়ানি ঢাকার খাদ্যসংস্কৃতির একটি ঐতিহ্যবাহী অংশ। একসময় বিরিয়ানিতে সুন্দর রঙ আনার জন্য জাফরান ব্যবহার করা হতো। জাফরান অত্যন্ত দামি। অন্যান্য ফুড কালারের দামও বেশি হতে পারে। খাবারে সুন্দর ও আকর্ষণীয় রঙ আনার জন্য যেসব রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো দেখতে বা খেতে আকর্ষণীয় মনে হলেও দীর্ঘ মেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এসব রাসায়নিক শরীরের বিভিন্ন কোষের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘদিন এসব রাসায়নিকযুক্ত খাবার খেলে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। যেমন—লিভার ও খাদ্যনালির ক্যানসার। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এসব রঙে অ্যানিলিন ডাই থাকতে পারে, যা মূত্রথলির ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গেও সম্পর্কিত।

প্রশ্ন : বাইরে খাবার খাওয়ার পর বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিলে করণীয় কী?

উত্তর : সাধারণত একবার বা দুবার বমি কিংবা পাতলা পায়খানা হলে বাসায় খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি বা চালের মাড় খেতে পারেন। কিন্তু যদি দেখা যায়, খুব বেশি বমি হচ্ছে, বারবার পাতলা পায়খানা হচ্ছে, পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাচ্ছে, হাত-পা ছেড়ে দিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ছেন কিংবা রক্তচাপ কমে যাচ্ছে, তাহলে অবশ্যই হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন