মহাকাশে স্যাটেলাইটের জটলা, সংঘর্ষ এড়াতে আইন পাশ করল যুক্তরাষ্ট্র

মহাকাশে স্যাটেলাইটের জটলা, সংঘর্ষ এড়াতে আইন পাশ করল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: ‍সিএনএন

পৃথিবীর কক্ষপথে কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। এর ফলে মহাকাশে স্যাটেলাইটের পারস্পরিক সংঘর্ষ এবং বিপজ্জনক ধ্বংসাবশেষ (বর্জ্য) তৈরি হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) নতুন নিয়ম পাস করেছে। তবে এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনে শুরু হয়েছে সংস্থাগুলোর মধ্যকার কর্তৃত্বের লড়াই।

বর্তমানে মহাকাশে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় মিলিয়ে ১৮ হাজারের বেশি স্যাটেলাইট রয়েছে। গত ছয় বছরেই এই সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। অধিকাংশ স্যাটেলাইটই নিম্ন-পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থান করছে। ফলে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে গেছে। সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট বর্জ্য পুরো কক্ষপথকে ব্যবহারের অনুপযোগী করে তুলতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এফসিসির নতুন নিয়ম ও সরকারি দ্বন্দ্ব

সংঘর্ষ এড়াতে ও মহাকাশ নিরাপত্তা জোরদারে এফসিসি সর্বসম্মতিক্রমে নতুন নীতিমালা পাস করেছে। এতে স্যাটেলাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে ‘রিয়েল-টাইম’ বা সঠিক সময়ে অবস্থান ট্র্যাকিংয়ের তথ্য শেয়ার করতে বলা হয়েছে। এত দিন বাণিজ্যিক গোপনীয়তার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এই তথ্য প্রকাশ করতে চাইত না।

তবে এফসিসির এই ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংস্থাটি মূলত বেতার তরঙ্গ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করে। অন্যদিকে মার্কিন কংগ্রেস এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চাইছে মহাকাশ ট্রাফিকের এই দায়িত্ব পালন করুক দেশটির বাণিজ্য বিভাগ।

মার্কিন হাউস সাইন্স কমিটির শীর্ষ রিপাবলিকান সদস্য ব্রায়ান বাবিন এবং ডেমোক্রেট সদস্য জো লফগ্রেন যৌথ চিঠিতে এফসিসির চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কারকে ভোট স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তাদের মতে, মহাকাশ ট্রাফিক বা নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের কোনো স্পষ্ট আইনি এখতিয়ার এফসিসির নেই। যদিও এই চিঠির পর কোনো প্রকাশ্যে জবাব না দিয়ে এফসিসি তাদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে।

শিল্প খাতের মতামত ও নিরাপত্তা উদ্বেগ

মহাকাশ খাতের দ্রুত প্রসারের কারণে এই দ্বৈত নীতির সৃষ্টি হয়েছে। স্পেসএক্স, ওয়ানওয়েব ও অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো হাজার হাজার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করছে। স্পেসএক্স অরবিটাল ডেটা সেন্টারের জন্য প্রায় ১০ লাখ স্যাটেলাইট পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

স্যাকটেলাইট ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান টম স্ট্রুপ সিএনএনকে জানান, ‘আমরা এখন একটি ধূসর এলাকায় আছি। মহাকাশ স্থায়িত্ব রক্ষায় আমাদের আর দেরি করার সুযোগ নেই।’

স্পেস ট্র্যাকিং কোম্পানি 'লিওল্যাবস'-এর কারিগরি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাডাম মার্শ জানান, টেলিস্কোপ বা রাডারের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। তাই কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে সঠিক সময়ে ট্র্যাকিংয়ের তথ্য পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ মহাকাশে একটা কিছু ভুল হলে তার প্রভাব সবার ওপর পড়ে।

নতুন ব্যবসার সুযোগ ও জটিলতা কমানো

আইনি বিরোধ থাকলেও স্যাটেলাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এফসিসির এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। কারণ ট্র্যাকিং নিয়মের পাশাপাশি ২০০০ পৃষ্ঠার একটি বিস্তৃত সংস্কার প্রস্তাব পাস করা হয়েছে, যা স্যাটেলাইট অনুমোদনের প্রক্রিয়াকে অনেক সহজ ও সস্তা করবে।

আগের আমলাতান্ত্রিক ও জটিল নিয়ম পরিবর্তন করে ‘পারফরম্যান্স-ভিত্তিক’ নতুন নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। স্পেসএক্সের সাবেক সিনিয়র ম্যানেজার এবং ‘ইক্লিপস স্পেস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ডেরেক হুয়ের্তা বলেন, আগে একটি ছোট পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট অনুমোদনের জন্য এক বছরের বেশি অপেক্ষা করতে হতো। পাশাপাশি ১০ মিলিয়ন ডলারের বন্ড জমা দিতে হতো, যা নতুন উদীয়মান উদ্যোক্তাদের জন্য অসম্ভব ছিল। নতুন নিয়মে এসব বাধা দূর হওয়ায় স্টার্টআপ কোম্পানিগুলো লাভবান হবে।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন