আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

কনটেন্ট নির্মাণে এআই

নাদিম নওশাদ

কনটেন্ট নির্মাণে এআই

বর্তমানে আমাদের সমাজে কনটেন্ট ক্রিয়েশন খুবই পরিচিত একটি শব্দ। চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা কনটেন্ট তৈরি করতে ভালোবাসেন। বিভিন্ন বিষয়ের ওপর কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাড়িয়ে দিয়ে অনেকেই ব্যাপক পরিচিতি লাভ করছেন। এসব কনটেন্ট থেকে আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন অনেকেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফরমগুলোয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য প্রতিনিয়তই বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যেন কনটেন্টগুলোর গুণমান বজায় থাকে, কেউ অন্যের কনটেন্ট অনুমতি ব্যতিরেকে ব্যবহার করতে না পারে। এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি ও তাদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ দেওয়ার কারণে কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দর্শকরা ভিডিওর মান সম্পর্কেও অনেক সচেতন হয়েছেন। সাধারণত ভিডিওর মান ভালো না হলে, অডিও ঠিকমতো শোনা না গেলে দর্শকরা সেসব কনটেন্ট পছন্দ করেন না। এ ছাড়া বর্তমানে প্ল্যাটফরমগুলো এআই অ্যালগরিদম ব্যবহার করে যেন ভালো কনটেন্টগুলো দর্শকের কাছে বেশি বেশি পৌঁছায়। ফলে ভালো মানের ভিডিও কনটেন্টের চাহিদা আকাশছোঁয়া।

বিজ্ঞাপন

ভালো মানের কনটেন্ট তৈরি করতে অনেক পরিশ্রম ও সময়ের প্রয়োজন হয়। একটি কনটেন্ট তৈরিতে প্রয়োজন হয় শুটিং, স্ক্রিপ্টিং, এডিটিং এবং ভয়েসওভার। এগুলোর প্রতিটি ধাপ সম্পূর্ণ করতে ব্যয় করতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এমনকি কয়েক দিনও লেগে যায়।

তবে বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কনটেন্ট তৈরির প্রক্রিয়া অনেকটাই সহজতর করা সম্ভব হচ্ছে। এআইকে কিছু নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমেই তৈরি করে ফেলা সম্ভব হচ্ছে ভালো মানের ভিডিও। ফলে সময় ও পরিশ্রম কম হচ্ছে।

শুধু কিছু কী-ওয়ার্ড বা ছোট বিবরণ প্রদানের মাধ্যমে এআই দিয়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তৈরি করে ফেলা সম্ভব হচ্ছে স্ক্রিপ্ট, ছবি এডিটিংসহ ভিডিও তৈরির কাজ।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার

লেখালেখি ও কনটেন্ট রাইটিং

ব্লগিং থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট; সবকিছুই এখন এআই দিয়ে নিখুঁতভাবে তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। ধরুন, আপনি ফেসবুকে কোনো ছবি আপলোড করবেন, কিন্তু আপনার ছবির ভালো কোনো ক্যাপশন নির্বাচন করতে পারছেন না। আপনি যদি ছবিটি চ্যাটজিপিটি, জিমিনি বা অন্য কোনো চ্যাটবটকে দিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, তবে চ্যাটবট আপনার ছবি বিশ্লেষণ করে সুন্দর একটি ক্যাপশন আপনাকে প্রদান করবে।

কোনো পণ্যের মার্কেটিং সম্পর্কিত কোনো কনটেন্ট তৈরি করতে পণ্যের বর্ণনাও এখন এআই দিয়ে তৈরি হচ্ছে। কোনো কনটেন্টের স্ক্রিপ্ট লেখার জন্য বা দ্রুত খসড়া তৈরি করার কাজে এআই সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি ট্রেন্ডিং হ্যাশট্যাগ কয়েক সেকেন্ডেই খুঁজে দিতে সক্ষম চ্যাটজিপিটি, জিমিনি, বার্ডের মতো এআই অ্যাপসগুলো।

ভিডিও ও অ্যানিমেশন

এআই এখন ভিডিওর দৃশ্য পর্যন্ত সাজিয়ে দিতে পারে। রানওয়ে-এল বা পিকট্রয়, লিওনার্দো এআইয়ের মতো টুল ব্যবহার করে শুধু বর্ণনা প্রদানের মাধ্যমে ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এ ছাড়া যদি আপনি অ্যানিমেশন ভিডিও তৈরি করতে চান, তবে আপনি কী ধরনের কনটেন্ট তৈরি করতে চাচ্ছেন, তা পিকা-ল্যাবস, মিড জার্নি, অ্যানিমেকারের মতো এআইকে দিলে আপনার লেখা বিশ্লেষণ করে সুন্দর ও আকর্ষণীয় অ্যানিমেশন তৈরি করে দেবে অ্যাপসগুলো।

গ্রাফিকস ডিজাইন ও ফটোগ্রাফি

ক্যানভা বা অ্যাডোবি ফায়ারফ্লাইয়ের মতো প্ল্যাটফরমে বর্তমানে এআই দিয়ে লোগো, ব্যানার, পোস্টার, সোশ্যাল মিডিয়া ভিজ্যুয়াল সহজেই তৈরি করার ফিচার প্রদান করছে। ফলে গ্রাফিকস সম্পর্কিত কনটেন্ট তৈরিতে এখন পেশাদার পর্যায়েও এআই ব্যবহৃত হচ্ছে, যা ডিজাইনারদের সময় সাশ্রয় করছে।

সংগীত ও ভয়েস

এআই ব্যবহার করে গান লেখা, মিউজিক বিট তৈরি, এমনকি জনপ্রিয় শিল্পীর কণ্ঠে গান তৈরি করাও সম্ভব হচ্ছে। একইভাবে ভয়েস ক্লোনিং বা এআই ভয়েসওভার এখন প্রচলিত মাধ্যম হয়ে উঠেছে। আপনার স্ক্রিপ্টটি এআই ভয়েস জেনারেটর অ্যাপস যেমনÑইলিভেন ল্যাবসের মতো অ্যাপস দিয়ে প্রফেশনাল ভয়েস তৈরি করে ফেলা সম্ভব। এতে করে আপনাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভয়েস ওভার নিয়ে কাজ করার কোনো প্রয়োজনীয়তা থাকে না।

সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ

এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টের অনেকগুলো সুবিধা থাকলেও বেশ কিছু অসুবিধাও রয়েছে। অনেক সময় এআই দিয়ে তৈরি করা কনটেন্ট-পূর্ববর্তী কোনো কনটেন্টের সঙ্গে হুবহু মিলে যেতে পারে। যার কারণে কপিরাইটের ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়া এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট সবসময় নির্ভরযোগ্য হয় না। কিছু ক্ষেত্রে এআই কনটেন্ট ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে সক্ষম হয় না। সুতরাং এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টের মানব যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া এআই সৃষ্ট কনটেন্টে আবেগ বা সংবেদনশীলতা খুবই সীমিত আকারে থাকে। ফলে অনেক সময় ঠিকভাবে আবেগের প্রতিফলন হয় না।

কনটেন্ট নির্মাণে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ক্রমাগত এআইয়ের ব্যাপ্তি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কনটেন্ট নির্মাণে ভবিষ্যতে এআই আরো কার্যকর ও সৃজনশীল হয়ে উঠবে বলে অনেকের ধারণা। তবে এটি কখনোই মানব সৃষ্টিশীলতার বিকল্প হবে না বলে অনেক গবেষকই মনে করেন। বরং এটি কনটেন্ট নির্মাণে হবে একটি শক্তিশালী সহায়ক।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিষয়: