ইন্টারনেটের বিস্তৃত দুনিয়ায় প্রতিদিন আমরা যে অসংখ্য ওয়েবসাইটে প্রবেশ করি; সংবাদপত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই–কমার্স বা ব্যক্তিগত ব্লগ--সবকিছুর পেছনেই রয়েছে এক অদৃশ্য কিন্তু অপরিহার্য অবকাঠামো। সেই অবকাঠামোর নাম ওয়েব হোস্টিং। ওয়েবসাইটের দৃশ্যমান রূপের আড়ালে যে প্রযুক্তিগত ভিত্তি কাজ করে, তার মূল স্তম্ভ হিসেবেই বিবেচিত হয় হোস্টিং।
হোস্টিং কী? পরিচয় ও প্রয়োজন
হোস্টিং হলো একটি স্পেস, যেখানে কোনো ফাইল রাখলে তাতে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে অ্যাক্সেস করা যায়। সহজভাবে বললে, ওয়েব হোস্টিং (Web Hosting) হলো এমন একটি সেবা, যার মাধ্যমে কোনো ওয়েবসাইটের যাবতীয় তথ্য—যেমন লেখা, ছবি, ভিডিও ও ডেটাবেজ—ইন্টারনেটে সংরক্ষণ করা হয় এবং ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। এই তথ্যগুলো রাখা হয় বিশেষ ধরনের শক্তিশালী কম্পিউটারে, যেগুলোকে বলা হয় সার্ভার।
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যখন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে, তখন সেটি নিজের কম্পিউটারে রেখে দিলে অন্য কেউ তা দেখতে পারে না। হোস্টিং সেবা সেই ওয়েবসাইটকে সার্ভারে স্থান দিয়ে ২৪ ঘণ্টা ইন্টারনেটে সচল রাখে। ফলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ নির্দিষ্ট ডোমেইন ঠিকানায় প্রবেশ করে ওয়েবসাইটটি দেখতে পারে।
হোস্টিংয়ের ব্যবহার ও গুরুত্ব
বর্তমান সময়ে হোস্টিং ছাড়া ডিজিটাল কার্যক্রম কল্পনাই করা যায় না। অনলাইন সংবাদপত্র ও পোর্টাল, ই–কমার্স ওয়েবসাইট, শিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইট, ব্যক্তিগত ব্লগ ও পোর্টফোলিওÑসব ক্ষেত্রেই নির্ভরযোগ্য হোস্টিং অপরিহার্য। ভালো হোস্টিং মানে দ্রুত লোডিং, কম ডাউনটাইম ও তথ্যের নিরাপত্তা, সেইসঙ্গে ব্যবহারকারীর আস্থা।
হোস্টিংয়ের ইতিহাস
ওয়েব হোস্টিংয়ের ইতিহাস মূলত ইন্টারনেটের ইতিহাসের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
গত শতকের নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যখন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (www) জনপ্রিয় হতে শুরু করে, তখন বেশিরভাগ ওয়েবসাইট হোস্ট করা হতো বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে। ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক হোস্টিংয়ের ধারণা তখনো গড়ে ওঠেনি।
১৯৯৫ সালের পর থেকে বাণিজ্যিক ওয়েব হোস্টিং কোম্পানির আবির্ভাব ঘটে। ধীরে ধীরে শেয়ার্ড হোস্টিং, ভিপিএস (VPS), ডেডিকেটেড সার্ভার এবং ক্লাউড হোস্টিংয়ের মতো নানা প্রযুক্তি বাজারে আসে।
বর্তমানে ক্লাউড প্রযুক্তির বিকাশ হোস্টিংকে আরো নমনীয়, নিরাপদ ও স্কেলযোগ্য করে তুলেছে।
হোস্টিংয়ের ধরন
সময় ও চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে হোস্টিংয়ের নানা ধরন গড়ে উঠেছে—
শেয়ার্ড হোস্টিং : এক সার্ভারে একাধিক ওয়েবসাইট
ভিপিএস হোস্টিং : ভার্চুয়ালভাবে ভাগ করা সার্ভার
ডেডিকেটেড হোস্টিং : একটি সার্ভার শুধু একটি ওয়েবসাইটের জন্য
ক্লাউড হোস্টিং : একাধিক সার্ভারের সমন্বয়ে তৈরি আধুনিক ব্যবস্থা
ব্যবহারকারীর প্রয়োজন, বাজেট ও ট্রাফিকের ওপর ভিত্তি করে হোস্টিং নির্বাচন করা হয়।
হোস্টিং ডটকম
বিশ্বব্যাপী হোস্টিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে Hosting.com একটি পরিচিত ও আস্থাভাজন নাম। আধুনিক ডেটা সেন্টার, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গ্রাহকসেবার জন্য প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম অর্জন করেছে।
ছোট ব্যবসা থেকে শুরু করে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান, সব ধরনের গ্রাহকের জন্য বিভিন্ন প্যাকেজ ও প্রযুক্তিগত সমাধান দিয়ে থাকে হোস্টিং ডটকম। বিশেষ করে দ্রুতগতির সার্ভার, নিরবচ্ছিন্ন আপটাইম এবং ব্যবহারবান্ধব কন্ট্রোল প্যানেল তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
সবচেয়ে খুশির সংবাদ হচ্ছে, বিশ্বখ্যাত হোস্টিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হোস্টিং ডটকম বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।
স্থানীয় দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের হোস্টিং সেবা নিশ্চিত করাই হোস্টিং ডটকমের মূল লক্ষ্য। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক অনলাইন অর্থনীতির যুগে ওয়েব হোস্টিংয়ের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের সঙ্গে সমন্বয় ঘটিয়ে হোস্টিং সেবাও আরো স্মার্ট ও নিরাপদ হয়ে উঠছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

