আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বই হোক নিত্যসঙ্গী

বিউটি হাসু

বই হোক নিত্যসঙ্গী

ভাষার মাস শেষ হয়ে গেল। তবে এই রমজানেও চলছে বইমেলা। বইপ্রেমীদের মিলনমেলা, বড় উৎসব একুশে বইমেলা। বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। তাই তরুণদের প্রতিদিন একটি করে সৃজনশীল বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। নিজের মধ্যে গড়ে তুলতে হবে জ্ঞানের ভুবন, তাহলে গড়ে উঠবে জ্ঞানভিত্তিক একটি সমাজব্যবস্থা। মনে রাখতে হবে, বইবিমুখ জাতি কখনো জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নতি সাধন করতে পারে না। জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নত জাতিই পৃথিবীতে আজ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। জ্ঞানভিত্তিক সমাজব্যবস্থা ছাড়া একটি সমাজ স্থায়ী হতে পারে না। বই না পড়লে একটি দেশে জ্ঞানী-গুণীর সমাবেশ ঘটে না। আর একটি দেশে গুণী না থাকলে দেশের উন্নতি হয় না।

সমাজ থেকে অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর করতে তরুণদের উদ্যোগী হয়ে সবাই মিলে পাড়ায় পাড়ায় একটি করে লাইব্রেরি গড়ে তুলতে হবে। পাঠাভ্যাসে সাধারণ জনগণকে করতে হবে উদ্বুদ্ধ। জ্ঞানের মশাল প্রজ্বালিত করার দৃঢ় প্রত্যয়ে বইকে আমৃত্যু সাথি করে রাখতে হবে। প্রিয়জনকে উপহার হিসেবে দিতে পারেন একটি ভালো বই।

বিজ্ঞাপন

বই সংরক্ষণে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। তাই গ্রামে-গ্রামে ও পাড়ায়-মহল্লায় একটি করে লাইব্রেরি গড়ে তুলতে হবে। লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করে স্বশিক্ষিত জাতি গঠনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

বই নিয়ে বিখ্যাত ব্যক্তিদের উক্তি

জগৎখ্যাত কবি ওমর খৈয়ম বলেছেন, ‘রুটি-মদ ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে আসবে, কিন্তু একখানা বই সবসময় অনন্ত-যৌবনাÑযদি তেমন বই হয়।’

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘মানুষ বই দিয়ে অতীত ও ভবিষ্যতের মধ্যে সাঁকো বেঁধে দিয়েছে।’

সৈয়দ মুজতবা আলী ‘বই পড়া’ প্রবন্ধে লিখেছেনÑ‘বই কিনে কেউ তো কখনো দেউলে হয়নি। বই কেনার বাজেট যদি আপনি তিনগুণও বাড়িয়ে দেন, তবুও তো আপনার দেউলে হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘চোখ বাড়াবার পন্থাটা কী? প্রথমত বই পড়া এবং তার জন্য দরকার বই পড়ার প্রবৃত্তি।’

বারট্রান্ড রাসেল বলেছেন, ‘সংসারে জ্বালা-যন্ত্রণা এড়ানোর প্রধান উপায় হচ্ছে, মনের ভেতর আপন ভুবন সৃষ্টি করে নেওয়া এবং বিপদকালে তার ভেতর ডুব দেওয়া। যে যত বেশি ভুবন সৃষ্টি করতে পারে, ভবযন্ত্রণা এড়ানোর ক্ষমতা তার ততই বেশি হয়।’

আল্লামা শেখ সা’দী বলেছেন, ‘জ্ঞানের জন্য তুমি মোমের মতো গলে যাও। কারণ জ্ঞান ছাড়া তুমি খোদাকে চিনতে পারবে না।’

ড. মুহম্মদ এনামুল হক বলেছেন, ‘কেবল বই পড়েই মানুষ তার পরিপূর্ণ জীবনের একটা ইঙ্গিত, একটা সংকেত আভাস লাভ করতে পারে।’

প্রমথ চৌধুরী ‘বই পড়া’ প্রবন্ধে বলেছিলেন, ‘বই পড়ার অভ্যাসটা যে বদভ্যাস নয়, এ কথাটা সমাজকে এ যুগে মাঝে মাঝে স্মরণ করিয়ে দেওয়া আবশ্যক; কেননা মানুষে এ কালে বই পড়ে না, পড়ে সংবাদপত্র।’

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন, ‘একেকটা বই একেকটা জানালার মতো। ঘরের জানালা দিয়ে যেমন বাইরে সবকিছু দেখা যায়, তেমনি বই পড়লেও আগামীটা দেখা যায়।’

ভারতের বিখ্যাত সমাজতত্ত্ববিদ আলবেরুনী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে একদিন অসুস্থ অবস্থায় শুয়ে আছেন। পাশে অবস্থানরত তার এক বন্ধু। তিনি তাকে বললেন, ‘জ্যামিতির একটি সংজ্ঞা আমার জানা দরকার।’ বন্ধুটি বললেন, ‘তুমি মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে। এসব এখন জেনে কী লাভ হবে?’ আলবেরুনী প্রত্যুত্তরে বলেছিলেন, ‘মৃত্যুর আগে এটি আমি জেনে যেতে পারলে হয়তো আমার জীবনটা আরো ধন্য হবে।’ জ্ঞানের শেষ নেই। জ্ঞান অর্জনে বইয়ের বিকল্প কিছুই নেই।

শুধু নিজে বই পড়লে হবে না। আসুন, সবাই মিলে বই পড়ি। অপরকে পড়তে বলি। মনে রাখবেন, দেশ-জাতির উন্নয়নে এবং বুদ্ধিভিত্তিক একটি চেতনাসমৃদ্ধ সমাজ গঠনে বইয়ের বিকল্প কিছু নেই। তাই সমাজকে অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে বইকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিত্যসঙ্গী করে নিতে হবে। আসুন, আপনার আশপাশের শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সি মানুষের মাঝে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাই। নিজে ভালো বই পড়ি এবং অন্যকেও ভালো বই পড়তে উৎসাহিত করি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন