পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী, আধুনিক ও কার্যকর আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিদ্যমান আইনগুলো অনেক পুরোনো, অসম্পূর্ণ এবং অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবায়নযোগ্য নয়। পর্যটন আইন পর্যটন খাতে শৃঙ্খলা ও নিয়ম প্রতিষ্ঠা করে, পর্যটকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করে; অর্থাৎ পর্যটন আইন প্রণয়ন একটি দেশের পর্যটন খাতে স্থিতিশীল ও সুশৃঙ্খল উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করে। পর্যটন আইনের প্রয়োজনীয়তা নিচে উল্লেখ করা হলো—
১. আইনি কাঠামোর সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা
বাংলাদেশে পর্যটন খাত পরিচালনার জন্য বর্তমানে কোনো সমন্বিত আইন নেই। পর্যটন খাতের কয়েকটি খাতে যে আইনগুলো বিদ্যমান আছে সেগুলো যুগোপযোগী নয়।
আইনের অসম্পূর্ণতা : পর্যটনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক যেমন ইকো-ট্যুরিজম, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম, ক্রুজ ট্যুরিজম, মেরিন ট্যুরিজম, সোর ট্যুরিজম, স্পেস ট্যুরিজম, ডিজিটাল ট্যুরিজম প্রভৃতি সম্পর্কে বিদ্যমান আইনে কোনো সুস্পষ্ট বিধান নেই।
পুরোনো ধারণার ওপর নির্ভরশীলতা : আন্তর্জাতিক পর্যটনের ধরন সারা পৃথিবীতে দ্রুত বদলাচ্ছে। বিদ্যমান আইন সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না।
দুর্বল প্রয়োগ ব্যবস্থা : পর্যটনের কয়েকটি খাতে আইন থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগের জন্য যে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও জবাবদিহি দরকার, তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নেই।
আন্তঃখাত সমন্বয়ের অভাব : পরিবেশ, ভূমি, নদী, সমুদ্র, আকাশ ও সড়ক পরিবহনসহ সব পরিবহন খাতে নিরাপত্তা আইনের সঙ্গে পর্যটন আইনের সামঞ্জস্য নেই।
২. একটি সমন্বিত পর্যটন আইন প্রণয়ন
সবার আগে প্রয়োজন একটি পূর্ণাঙ্গ, আধুনিক ও সমন্বিত জাতীয় পর্যটন আইন প্রণয়ন করা।
পর্যটন খাতের সংজ্ঞা ও শ্রেণিবিভাগ সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। কোন কোন কার্যক্রম পর্যটনের অন্তর্ভুক্ত, কারা পর্যটনসেবা প্রদানকারী হিসেবে গণ্য হবেন—এটা আইনে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। পর্যটন-সংক্রান্ত সব কর্তৃপক্ষ, তাদের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার কাঠামো আইনে নির্ধারিত থাকতে হবে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বায়ত্তশাসন ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের স্বায়ত্তশাসন, অর্থায়ন পদ্ধতি এবং পরিচালনা কাঠামো আইনের মাধ্যমে সুরক্ষিত করতে হবে। পর্যটনসেবা প্রদানকারীদের লাইসেন্সিং, নিবন্ধন ও নবায়নের সুস্পষ্ট বিধান রাখতে হবে। লাইসেন্স বাতিলের শর্ত এবং প্রক্রিয়াও আইনে স্পষ্ট করতে হবে।
পর্যটকদের অধিকার ও সুরক্ষার বিধান অবশ্যই আইনে থাকতে হবে। পর্যটক ঠকানো, হয়রানি বা প্রতারণার জন্য নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান রাখতে হবে।
৩. ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্সি নিয়ন্ত্রণ আইন
বর্তমানে ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্সি, হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও গাইড নিবন্ধনের আইন থাকলেও অত্যন্ত কম নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। এ খাতে একটি কঠোর ও স্বচ্ছ আইনি কাঠামো দরকার।
বাধ্যতামূলক নিবন্ধন : সব ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্সি, হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও গাইডকে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধিত হতে হবে। অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার বিধান রাখতে হবে এবং প্রয়োগের বিধিসম্মত ব্যবস্থা করতে হবে।
সেবার মান নির্ধারণ : আইনের মাধ্যমে সর্বনিম্ন সেবামান নির্ধারণ করতে হবে। কোন ট্যুর অপারেটর কী কী সুবিধা দিতে বাধ্য, ট্যুর বাতিল হলে রিফান্ড কীভাবে হবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে।
বীমা বাধ্যবাধকতা : প্রতিটি ট্যুর অপারেটরকে পর্যটকদের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে বীমা কাভারেজ নিশ্চিত করতে হবে। ট্যুর চলাকালে দুর্ঘটনা বা ক্ষতির ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের আইনি বিধান থাকতে হবে।
অনলাইন ট্যুর অপারেটর নিয়ন্ত্রণ : এয়ারবিএনবি, বুকিং ডটকম, এগোডা, এক্সপেডিয়া, ট্রিপ অ্যাডভাইজারসহ বিভিন্ন অনলাইন ট্রাভেল ও হোটেল প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
৪. হোটেল ও আবাসন শিল্প নিয়ন্ত্রণ আইন
শ্রেণিবিন্যাস আইন : হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, গেস্ট হাউস ও হোমস্টেসহ পর্যটন খাতের সব আবাসন আইনের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাস করতে হবে। স্টার রেটিং পদ্ধতিকে আইনি ভিত্তি দিতে হবে। মিথ্যা বিজ্ঞাপন ও নিম্নমানের সেবার বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রাখতে হবে।
খাদ্য নিরাপত্তা বিধান : হোটেল ও রেস্টুরেন্টে খাদ্যমান নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যটকদের খাদ্যজনিত রোগের ক্ষেত্রে হোটেল ও রেস্টুরেন্টের দায়বদ্ধতা নির্ধারণ করতে হবে।
মূল্য নিয়ন্ত্রণ বিধান : উৎসব মৌসুমে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা তৈরি করতে হবে। সর্বোচ্চ মূল্যসীমা বা মূল্য প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা আইনে রাখতে হবে।
শ্রমিক অধিকার : হোটেল কর্মীদের ন্যায্য মজুরি, কর্মঘণ্টা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে পর্যটন শ্রম আইন প্রণয়ন করতে হবে।
৫. ইকো-ট্যুরিজম ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইন
বিশেষ ইকো-ট্যুরিজম আইন : সুন্দরবন, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং হাওর অঞ্চলে পর্যটনের জন্য আলাদা পরিবেশ সংবেদনশীল আইন প্রণয়ন করতে হবে। এই আইনে পর্যটকসংখ্যার সর্বোচ্চ সীমা, নিষিদ্ধ কার্যক্রম এবং পরিবেশের ক্ষতিপূরণের বিধান রাখতে হবে।
পরিবেশ প্রভাব মূল্যায়ন বাধ্যবাধকতা : যেকোনো নতুন পর্যটন স্থাপনা নির্মাণের আগে বাধ্যতামূলকভাবে পরিবেশের প্রভাব মূল্যায়ন সম্পন্ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রাখতে হবে।
কার্বন ফি ও পরিবেশ তহবিল : পর্যটন কার্যক্রম থেকে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি আদায় করে একটি বিশেষ পরিবেশ তহবিল গঠনের আইনি ভিত্তি তৈরি করতে হবে।
প্লাস্টিক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা : পর্যটন এলাকায় একক ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার জন্য আলাদা বিধিমালা প্রণয়ন এবং লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর জরিমানার বিধান রাখতে হবে।
৬. পর্যটক সুরক্ষা ও ভোক্তা অধিকার আইন
পর্যটকরা অনেক সময় প্রতারণা, হয়রানি বা দুর্ঘটনার শিকার হন। তাদের সুরক্ষায় বিশেষ আইনি বিধান অত্যন্ত প্রয়োজন।
পর্যটক অধিকার সনদ : আইনের মাধ্যমে পর্যটকদের মৌলিক অধিকারগুলো সংবিধিবদ্ধ করতে হবে। সঠিক তথ্য পাওয়ার অধিকার, নিরাপদ সেবার অধিকার, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার এবং অভিযোগ করার অধিকার—এসব অধিকার আইনে সুস্পষ্ট করতে হবে।
ট্যুরিস্ট কোর্ট বা ট্রাইব্যুনাল : পর্যটন-সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্যুরিস্ট ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। সাধারণ আদালতে মামলা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কারণে পর্যটকরা প্রায়ই বিচার পান না। পর্যটকদের আইনি সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা : ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পর্যটকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা আইনে রাখতে হবে।
প্রতারণাবিরোধী বিধান : মিথ্যা বিজ্ঞাপন, অতিরিক্ত মূল্য আদায় ও ভুয়া ট্যুর প্যাকেজ বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখতে হবে। অনলাইনে পর্যটন প্রতারণার বিরুদ্ধেও বিশেষ বিধান যোগ করতে হবে।
৭. সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান সংরক্ষণ আইন
বিদ্যমান আইন শক্তিশালীকরণ : ‘Antiquities Act 1968’ ও ‘Bangladesh Heritage Conservation Act’ আধুনিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে সংশোধন করতে হবে।
পর্যটন রাজস্বের বরাদ্দ : ঐতিহাসিক স্থানগুলো থেকে আদায়কৃত প্রবেশমূল্যের একটি নির্দিষ্ট অংশ আইনগতভাবে সেই স্থানের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় করার বাধ্যবাধকতা রাখতে হবে।
বাণিজ্যিক ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ : ঐতিহাসিক স্থানগুলোর কাছে কী ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকতে পারবে, কতটুকু নির্মাণকাজ হতে পারবে, তার সুস্পষ্ট আইনি সীমারেখা নির্ধারণ করতে হবে।
আদিবাসী সংস্কৃতি সুরক্ষা : পার্বত্য চট্টগ্রামসহ অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও ভূমি অধিকার পর্যটনের নামে যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য আলাদা আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৮. পর্যটন শ্রম ও কর্মসংস্থান আইন
পর্যটন খাতে কর্মরত লাখ লাখ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে একটি পৃথক পর্যটন শ্রম আইন বা বিদ্যমান শ্রম আইনে সংশোধনী প্রয়োজন।
ন্যূনতম মজুরি ও কর্মঘণ্টা : হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও পর্যটন সংস্থায় কর্মরত শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি এবং সর্বোচ্চ কর্মঘণ্টা আইনগতভাবে নির্ধারণ করতে হবে।
পেশাগত নিরাপত্তা : সমুদ্রসৈকত, পাহাড় বা অরণ্যে কর্মরত গাইড ও কর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আইনি বিধান থাকতে হবে।
৯. বিনিয়োগ সুরক্ষা ও উৎসাহ আইন
পর্যটন বিনিয়োগ সুরক্ষা আইন : পর্যটন খাতে বিনিয়োগকারীদের সম্পদ ও মুনাফা সুরক্ষার জন্য আইনি নিশ্চয়তা দিতে হবে। জমি অধিগ্রহণ বা নীতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণের বিধান রাখতে হবে।
বিদেশি বিনিয়োগ বিধিমালা : পর্যটন খাতে বিদেশি বিনিয়োগের সর্বোচ্চ মালিকানার অনুপাত, মুনাফা প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া এবং বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতি আইনে সুস্পষ্ট করতে হবে।
১০. ডিজিটাল পর্যটন ও সাইবার নিরাপত্তা আইন
অনলাইন বুকিং নিয়ন্ত্রণ : অনলাইনে হোটেল বুকিং, ট্যুর প্যাকেজ বিক্রি ও ট্রাভেল সার্ভিস প্রদানকারী প্ল্যাটফর্মগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
ডেটা সুরক্ষা : পর্যটকদের ব্যক্তিগত তথ্য (পাসপোর্ট নম্বর, ক্রেডিট কার্ড তথ্য) সুরক্ষায় ডেটা প্রাইভেসি আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিধান রাখতে হবে।
অনলাইন প্রতারণা রোধ : ভুয়া পর্যটন ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতারণার বিরুদ্ধে সাইবার আইনে বিশেষ ধারা সংযোজন করতে হবে।
১১. আইন প্রয়োগ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ
আইন প্রণয়নের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো তার কার্যকর প্রয়োগ। বাংলাদেশে আইন থাকলেও প্রয়োগ দুর্বল।
পর্যটন খাত পরিদর্শন কর্তৃপক্ষ : পর্যটন আইন প্রয়োগের জন্য প্রশিক্ষিত পরিদর্শক নিয়োগ দিতে হবে। এই পরিদর্শকরা নিয়মিত হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও পর্যটন খাতের সেবা প্রদানকারী সংস্থা পরিদর্শন করবেন এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে পর্যটন আইনের আলোকে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
স্বচ্ছ শাস্তি কাঠামো : আইন লঙ্ঘনের জন্য সুস্পষ্ট ও কঠোর শাস্তির বিধান রাখতে হবে। জরিমানা, লাইসেন্স বাতিল এবং ফৌজদারি মামলাসহ ক্ষতিপূরণের বিধান রাখতে হবে।
তথ্য প্রদানকারীদের সুরক্ষা : পর্যটন খাতে দুর্নীতি বা আইন লঙ্ঘনের তথ্য প্রদানকারীদের আইনি সুরক্ষার বিধান থাকতে হবে।
১২. আন্তর্জাতিক চুক্তি ও কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য
UNWTO নির্দেশিকা অনুসরণ : জাতিসংঘ বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (UNWTO) নির্দেশিকা ও সুপারিশ অনুযায়ী দেশীয় পর্যটন আইন প্রণয়ন করতে হবে।
দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আইনি ভিত্তি : অন্যান্য দেশের সঙ্গে পর্যটন-বিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ভিত্তি তৈরি করতে হবে।
পর্যটনসংশ্লিষ্ট শিশুদের সুরক্ষা : পর্যটন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিশুদের ওপর নিপীড়ন রোধে আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইনি বিধান রাখতে হবে। শিশু নির্যাতন ও শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে পর্যটন আইনে কঠোর ধারা সংযোজন করতে হবে।
সময়োপযোগী আইন তৈরি হওয়াই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সেই আইনের কার্যকর প্রয়োগ। আন্তর্জাতিক মানের আইনি কাঠামো গড়ে উঠলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আস্থা পাবেন, পর্যটকরা নিরাপদ বোধ করবেন এবং বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প একটি টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে।
লেখক : উপদেষ্টা, ট্যুরিজম ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিডাব)
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

