প্রয়োজন নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য

প্রয়োজন নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য
ছবি এআই দিয়ে তৈরি

খাদ্য আমাদের প্রতিদিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু খাদ্যের অপচয়, পুষ্টিহীনতা, নিরাপদ খাদ্যের অভাব ও ক্ষুধা—এসব সমস্যা নিত্যনৈমিত্তিক। খাদ্য দিবসকে কেন্দ্র করে এসব বিষয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মতামত তুলে ধরেছেন ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী- খাদিজাতুল খোরশেদ খুশি

সানজিদা আক্তার
সানজিদা আক্তার

ক্ষুধার বিরুদ্ধে মানুষের লড়াই

বিজ্ঞাপন

সানজিদা আক্তার

ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা, হিসাববিজ্ঞান

ক্ষুধার বিরুদ্ধে মানুষের লড়াই ইতিহাসে নতুন কোনো ঘটনা নয়। সভ্যতার শুরু থেকেই এ লড়াই চলছে। মানুষের পাঁচটি মৌলিক চাহিদার মধ্যে খাদ্য অন্যতম। প্রাচীনকালে মানুষ গাছ থেকে ফলমূল সংগ্রহ করে ক্ষুধা নিবারণ করত।

যুগের পরিবর্তনে মানুষ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হয়ে জীবিকার জন্য সংগ্রাম করছে এবং ক্ষুধা নিবারণের তাগিদে অর্থ উপার্জন করছে। ধনী পরিবারে খাবারের অভাব না থাকলেও নিম্নবিত্ত মানুষ কষ্টে দিন কাটায়, একটু খাবারের অপেক্ষায় থাকে। এমন দিনও যায়, যখন তাদের ভাগ্যে খাবার জোটে না। সমাজের অসহায় মানুষ কিছু খাবারের আশায় দ্বারে দ্বারে হাত পাতে।

একটি ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী গড়তে শুধু খাদ্যের উৎপাদন বাড়ালেই চলবে না; পাশাপাশি খাদ্যের ন্যায্য বণ্টন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতাও নিশ্চিত করা জরুরি। তবেই একটি ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী গড়ার আশা করা যায়।

সিমিকা হাসান
সিমিকা হাসান

খাদ্য আছে, পুষ্টি কোথায়

সিমিকা হাসান

ইডেন ক্যাম্পাস, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি, রসায়ন

একদিকে খাবারের থালা, অন্যদিকে পুষ্টির অপূর্ণতা—এটাই আমাদের বাস্তবতা। খাদ্যের উপস্থিতি যখন পুষ্টির নিশ্চয়তা দিতে পারে না, তখন তা আমাদের সুস্থতার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে না। সুস্থ ও কর্মক্ষম জীবনযাপনের জন্য শুধু খাদ্যের প্রাপ্যতাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সুষম পুষ্টি।

খাদ্যে শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন ও খনিজ লবণ সঠিক পরিমাণে না থাকলে তা ক্ষুধা মেটালেও দেহের জন্য স্বাস্থ্যকর হয় না। পুষ্টিহীনতা ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের কারণে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর ফলে ব্যক্তিগত সুস্থতার পাশাপাশি দেশের উৎপাদনশীলতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হয়।

খাদ্যে ভেজাল পুষ্টিহীনতার সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। ক্ষতিকর রাসায়নিক ও নিম্নমানের উপাদান মেশানো খাবার শরীরের স্বাভাবিক পুষ্টি গ্রহণে ব্যাঘাত ঘটিয়ে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। ফলে বাহ্যিকভাবে পর্যাপ্ত খাবার গ্রহণ করলেও মানুষ পুষ্টিহীনতার শিকার হতে পারে। তাই শুধু খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করলেই চলবে না; খাদ্যে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের সরবরাহও নিশ্চিত করতে হবে। এর মাধ্যমে একটি স্বাস্থ্যকর প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব। অন্নের প্রাচুর্য নয়, পুষ্টির পরিপূর্ণতাই আমাদের একটি সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় জাতি গঠনের পথ দেখাবে।

আয়েশা সিদ্দিকা
আয়েশা সিদ্দিকা

শস্যের দেশে ক্ষুধার বসতি

আয়েশা সিদ্দিকা

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (ইডেন ক্যাম্পাস), রসায়ন বিভাগ

সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা আমাদের এই বাংলাদেশ। ৮৮ দশমিক ২৯ লাখ হেক্টর আবাদযোগ্য কৃষিজমির দেশ এটি। প্রতিবছর কৃষকের হাড়ভাঙা পরিশ্রমের ফলে উৎপাদিত হয় প্রচুর ধান, গম, শাকসবজি ও ফলমূল। তাত্ত্বিকভাবে যে দেশে ফসলের বাম্পার ফলন হয়, সেখানে মানুষের ক্ষুধার্ত থাকার কথা নয়। অথচ পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাদ্যের অভাবে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ অপুষ্টির শিকার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

কৃষকের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে উৎপাদিত ফসল নিয়মমাফিক সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছাচ্ছে না। এর পেছনে রয়েছে সিন্ডিকেট, মধ্যস্বত্বভোগী, দালাল ও বাজারের অব্যবস্থাপনা। অতিরিক্ত বাজারমূল্যের কারণে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ পর্যাপ্ত খাবার কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। শস্যের দেশ হওয়া সত্ত্বেও ক্ষুধার্ত মানুষের থালায় খাবার পৌঁছাচ্ছে না।

গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সের (GHI) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার ক্ষুধা বা অপুষ্টির উপস্থিতি রয়েছে। এ অবস্থায় অসাধু ব্যবসায়ীদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল রক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি সুষ্ঠু বাজারব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেই ফসল সাধারণ মানুষের থালায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

এভাবেই শস্যের দেশে ক্ষুধার অবসান ঘটানো সম্ভব।

সেতু রায়
সেতু রায়

ভেজালমুক্ত খাদ্যের প্রত্যাশা

সেতু রায়

অর্থনীতি বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ

খাদ্য মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন। সুস্থ ও সুন্দর জীবনের জন্য নিরাপদ খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু খাদ্যে ভেজাল মেশানোর প্রবণতা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অধিক মুনাফার লোভে অসাধু ব্যবসায়ীরা খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য মেশাচ্ছেন। ফল পাকাতে রাসায়নিকের অপব্যবহার, মরা মাছ-মুরগি বিক্রি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য বাজারজাত করার মতো কর্মকাণ্ড মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এসব কারণে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নিয়মিত বাজার তদারকি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, ভেজালবিরোধী অভিযান এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সরকার, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠুক ভেজালমুক্ত বাংলাদেশ—যেখানে প্রতিটি মানুষ নিশ্চিন্তে খাদ্য গ্রহণ করতে পারবে এবং সুস্থ জীবনযাপনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন