মানুষের বাহ্যিক রূপ বা শারীরিক গঠন যেমনই হোক, কাজটাই মুখ্য বিষয়। তাদের শারীরিক উচ্চতা মাত্র চার ফুট; কিন্তু কাজ করেন অনেক বড়। তাই তাদের কাজকে সবাই সম্মান করে। গরিব মানুষের ভরসার জায়গা তারা। চিকিৎসাসেবা দিয়ে তারা মানুষের মন জয় করেছেন।
বলছিলাম, গ্রাম্য চিকিৎসক দুই বোন রূপা ঘোষ ও চায়না ঘোষের কথা। ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ব্রাহ্মণকান্দা বাজারের এ দুই বোনের প্রশংসা মানুষের মুখে মুখে। তারা চিকিৎসাবিদ্যা পেয়েছেন উত্তরাধিকার সূত্রে। তাদের বাবা ভজন কুমার ঘোষ ও দাদা মাখনলাল ঘোষ ছিলেন খর্বাকৃতির এবং গ্রাম্য চিকিৎসক।
জানা গেছে, ২০০২ সালে এসএসসি পাসের পর রূপা ঘোষ এমএলএম কোর্স করেছেন। এরপর বাবার সঙ্গে প্র্যাকটিস শুরু করেন। তার ছোট বোন চায়না ঘোষ ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ থেকে ২০২২ সালে মাস্টার্স পাস করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানে। আলাপচারিতায় রূপা ঘোষ বলেন, তার বাবার সঙ্গে দোকানে আসতেন। ধীরে ধীরে চিকিৎসাশাস্ত্রের অনেক কিছু শেখেন। এরপর এমএলএম কোর্স করেন। কেন তিনি চিকিৎসা পেশায় এলেন—এই প্রশ্নে তিনি বলেন, খর্বাকৃতির হওয়ায় আগে তাকে নিয়ে অনেকে হাসি-তামাশা করতেন। তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন, তিনি এমন কিছু করবেন, যাতে মানুষ তাকে নিয়ে হাসি-তামাশা নয়, বরং সম্মান করবেন। তিনি সফল হয়েছেন। সবাই তাকে সম্মান করেন। তিনি স্থানীয় মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত।
দোকান খুলতে ও বন্ধ করতে ভ্যানচালকরা সাহায্য করেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, আজীবন তিনি মানুষের সেবা করতে চান। এছাড়া তার আর কিছু চাওয়া-পাওয়ার নেই। ৪০ বছর বয়স রূপা ঘোষের। তার ছোট বোন চায়না ঘোষের বয়স ৩২। রূপাকে সবসময় তার ছোট বোন সহযোগিতা করেন। তিনিও বড় বোনের মতো সারা জীবন মানুষের সেবা করতে চান।
স্থানীয় বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, ফরিদপুর শহরে ডাক্তার দেখাতে গেলে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা দরকার হয়; কিন্তু এই টাকা জোগাড় করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। সময়-সুযোগও মেলে না। রূপা দিদি খুবই ভালো ডাক্তার। তার কাছে নামমাত্র মূল্যে আমরা সেবা পাচ্ছি। আমরা খুবই খুশি। একই কথা বলেন অন্যরাও।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


