সাওয়ানার আন্তর্জাতিক রোলার স্কেটিংয়ে গৌরবময় সাফল্য

সাওয়ানার আন্তর্জাতিক রোলার স্কেটিংয়ে গৌরবময় সাফল্য

রূপগঞ্জের মেয়ে সাওয়ানা খন্দকার। চীনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক রোলার স্কেটিং প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের জন্য গৌরবময় সাফল্য নিয়ে এসেছে। সম্প্রতি চীনের লিশুই শহরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ওয়ার্ল্ড স্কেট এশিয়া স্পিড ট্র্যাক সিরিজ-জুনিয়র ক্যাটাগরিতে সে দুটি ইভেন্টে একাই দুটি রৌপ্য পদক অর্জন করেছে। গত ১০ বছরে আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও ক্লাব পর্যায়ের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২৯টি শিরোপা অর্জন করেছে দশম শ্রেণির ছাত্রী স্পিড স্কেটার সাওয়ানা।

১৬ বছর বয়সি সাওয়ানার গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন তারাব পৌরসভার নোয়াপাড়া গ্রামে। রূপগঞ্জে তাদের পারিবারিক টেক্সটাইল ও স্পিনিংয়ের ব্যবসা রয়েছে। সে ঢাকার ওয়ারী এলাকায় বসবাস করে। মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে সাওয়ানা। ২০১৫ সালে মাত্র ৫ বছর বয়স থেকে স্কেটিং খেলা শুরু করে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও ক্লাব পর্যায়ে অনেক সাফল্য পেয়েছে। স্কেটিংয়ে তার অদম্য ইচ্ছাই আজ বাংলাদেশের জন্য এই অসামান্য সাফল্য বয়ে এনেছে।

বিজ্ঞাপন

চীনের আন্তর্জাতিক রোলার স্কেটিং প্রতিযোগিতায় সব ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণকারী দুই হাজার চৌকস স্কেটারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে সাওয়ানা। জুনিয়র-বি নারী বিভাগের ২০০ মিটার ডিটিটি এবং ৫০০ মিটার ডি ইভেন্টের প্রতিটিতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে সাওয়ানা খন্দকার।

২০২৬ ওয়ার্ল্ড স্কেট এশিয়া স্পিড ট্র্যাক সিরিজ-জুনিয়র ক্যাটাগরির ওই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ তিনটি রৌপ্য ও চারটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে। একই সঙ্গে ১২ জন খেলোয়াড় চতুর্থ থেকে অষ্টম স্থান অর্জন করে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। আর এ সাফল্য অর্জনের ফলে এশিয়া মহাদেশে র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ অষ্টম স্থান অর্জন করে। ওই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে সিনিয়র পুরুষ বিভাগে মাহমুদ হোসাইন ১০০০ মিটার রেসে রৌপ্য পদক, জুনিয়রে পুরুষ বিভাগে ইরাব মুক্তাদির ৫০০০ মিটার রেসে রৌপ্য এবং ২০০ মিটার ডিটিটি-২ ও ৫০০ মিটার ডি ইভেন্টে দুটি ব্রোঞ্জ পদক জেতেন।

বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এবারই প্রথম চীনের লিশুই শহরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চমক সৃষ্টি করে দুটি রৌপ্য জিতেছে সাওয়ানা। জাতীয় পর্যায়ে ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ সালে ন্যাশনাল ও বাংলাদেশ গেমসে অংশগ্রহণ করে দুবার প্রথম ও একবার দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে সাওয়ানা। ক্লাবপর্যায়ে বরাবরই প্রথম স্থান অর্জন করেছে সে।

স্কেটিংয়ে নিজের সাফল্য নিয়ে সাওয়ানা খন্দকার বলেন, চীনে অনুষ্ঠিত এবারের আন্তর্জাতিক আসরের এই জয় শুধু আমার জন্য বিশেষ অর্জন নয়, এ জয় বাংলাদেশের। এ ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে আগামীতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা অলিম্পিকেও সাফল্য বয়ে আনবে বলে আমি আশাবাদী। স্কেটিংয়ের মাধ্যমে আমরা সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে নতুন করে তুলে ধরতে চাই। এ ক্ষেত্রে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাসহ পরিবারের সাপোর্ট অনেক জরুরি। মা মোরশেদা ইয়াসমিন ও বড় বোন সুরাইয়া খন্দকারের বিশেষ আগ্রহে পড়াশোনার পাশাপাশি স্কেটিং করা সহজ হয়েছে। এমনকি এসব অর্জনও সম্ভব হয়েছে। আর বাংলাদেশ রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান স্যারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই, কারণ তিনিই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাওয়ানা খন্দকারের এই অর্জনে আনন্দিত পরিবারের সদস্যসহ তার জন্মভূমি নোয়াপাড়ার সর্বস্তরের বাসিন্দারা।

স্কেটিংয়ে এই অর্জনে বাংলাদেশ রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান আমার দেশকে বলেন, ‘পরবর্তী এশিয়ান গেমসসহ অন্যান্য ইভেন্টে যাতে আমাদের খেলোয়াড়রা ভালোভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, সেজন্য সঠিক পরিচর্যা করা জরুরি। খেলাধুলার পাশাপাশি তাদের শিক্ষাজীবনও যাতে সুন্দর হয়, সেজন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রোলার স্কেটিং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এছাড়া তাদের মাসিক ভাতা দেওয়ার বিষয়টি সরকারের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে বলে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমাকে নিশ্চিত করেছেন।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন