দেশজুড়ে ২০২৪ সালে জুলাই বিপ্লব চলাকালে ৪ আগস্ট ছিল কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার ফ্যাসিবাদি আওয়ামী লীগ ও তার দোসরদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার উত্তাল দিন । প্রতিরোধের মুখে সেদিন ঈদগাঁও উপজেলা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা।
প্রসঙ্গত, এর আগে আন্দোলন দমাতে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার দেশজুড়ে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করলে এলাকায় ফিরে আসা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি দল ৩ আগস্ট বিকেলে ঈদগাঁও বাসস্টেশনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে মিছিলের চেষ্টা করলে ওত পেতে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে তাদের মারধর করে। এরপর ক্ষোভে ফেটে পড়ে উপজেলা শিবিরসহ ছাত্রসমাজ।
পরদিন ৪ আগস্ট বিকেলে ক্ষুব্ধ ছাত্ররা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধের ঘোষণা দিলে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আগে থেকে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও অন্যান্য প্রশাসনের উপস্থিতিতে ঈদগাঁও বাসস্টেশনে সশস্ত্র অবস্থান নেয়।
ছাত্ররা মিছিলসহ ঈদগাঁও বাজার থেকে স্টেশনে পৌঁছালে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ছাত্রদের ওপর হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করলে ছাত্ররা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। একপর্যায়ে ছাত্রদের সঙ্গে সাধারণ জনতাও যোগ দিলে প্রশাসনের প্রহরায় থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ বেধে যায়।
সংঘর্ষে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবল চাকমার সরকারি গাড়িসহ ছোট-বড় অর্ধশতাধিক যানবাহন ভাঙচুর ও আগুনে ভস্মীভূত হয়। ছাত্র-জনতার তীব্র প্রতিরোধের মুখে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা সেদিন পালিয়ে যায়।
এমনকি ওই দিন থেকে আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা দীর্ঘদিন যাবৎ উপজেলা ছেড়ে চলে যায়। এক কথায় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের উত্তাল দিন এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তিমুক্ত হওয়ার দিন।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

