মাথায় লাল-সবুজের পতাকা বাঁধা ১৬ বছরের কিশোর ঝুলছেন রিকশার পাদানিতে। সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন রিকশাচালক। বাংলাদেশ নৌবাহিনী কলেজের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী শহীদ গোলাম নাফিজের এ ছবিটি কাঁদিয়েছে গোটা জাতিকে।
ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের গণহত্যার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে চব্বিশের ১৮ জুলাই রাজপথে নামায় পায়ে কয়েকটি রাবার বুলেট লাগে নাফিজের। তবে সে গুলির ক্ষত নত করতে পারেনি তাকে। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত অবস্থায়ই আন্দোলন চালিয়ে যান তিনি। এরপর ৪ আগস্ট অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নিয়ে রাজধানীর ফার্মগেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন নাফিজ।
জুলাই বিপ্লবী এ শহীদের জীবনের শেষ ২৪ ঘণ্টার লড়াইয়ের ইতিহাস আমার দেশ-এর কাছে বর্ণনা করেন শহীদের বাবা গোলাম রহমান, মা নাজমা আক্তার, সহোদর গোলাম রাসেল, মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ এবং মেডিকেলে গিয়ে তার খোঁজ পাওয়া মামা আবুল হাশেম।
শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি আদায়ের আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার নির্দেশে পুলিশ-বিজিবি-র্যাব গুলিবর্ষণ করে। তাদের ওপর হামলা চালায় আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী। দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় দেশব্যাপী ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ১৮ জুলাইয়ের কর্মসূচি সফল করতে ছাত্র-জনতার সঙ্গে মহাখালীতে আন্দোলনে অংশ নেন কিশোর নাফিজ। সেদিন মহাখালীতেই পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেট লাগে নাফিজের পায়ে। তখন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাসায় চলে যান তিনি।
গুলিবিদ্ধ হয়েও দমে যাননি নাফিজ। বরং গুলির ক্ষত তাকে আরো বেশি সাহসী করে তোলে। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে ‘৯ দফা দাবি’ আদায়ের আন্দোলনে নেমে যান। আন্দোলনে ছিলেন নাফিজের বড় ভাই গোলাম রাসেলও। আর নাফিজ ছিলেন পুরো আন্দোলনজুড়ে। কখনো শাহবাগ, কখনো আদালত প্রাঙ্গণ, আবার কখনো শহীদ মিনার। সব কর্মসূচিতেই ছিলেন নাফিজ। এরই মধ্যে আন্দোলন যখন রূপ নেয় একদফায়—নাফিজের সঙ্গে আন্দোলনে যুক্ত হতে চেয়েছিলেন বাবা গোলাম রহমান ও মা নাজমা আক্তারও।
৪ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে নাফিজ বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বাবার কাছে কিছু টাকা চায়। বাবা বলেছিলেন, একটু কাজ আছে। সেটা শেষ করে এসে সবাই একসঙ্গেই বের হবেন আন্দোলনের উদ্দেশে। কিন্তু বাসার সামনেই যাবেন জানিয়ে ৩০ টাকা নিয়ে মাকে সালাম দিয়ে বিদায় নেন নাফিজ।
তিনি মহাখালীর বাসা থেকে বেরিয়েই আন্দোলনে যোগ দেন বন্ধুদের সঙ্গে । বাবার কাছ থেকে নেওয়া টাকা দিয়ে পথিমধ্যে লাল-সবুজের পতাকা কিনে মাথায় বেঁধে নেন তিনি। বন্ধু শিমুলকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার সঙ্গে যান নাফিজ। তখন ফার্মগেটের দিকে চলে যান তারা।
তেজগাঁও ট্রাফিক পুলিশের এডিসি তয়াছির জাহানের নেতৃত্বে পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশকে আলাদা করে ফেলে। এ সময় নাফিজের বন্ধু বলেছিলেন, চল এবার চলে যাই। উত্তরে নাফিজ বলেছিলেন, আজকে মরে গেলে যাব, দেশকে স্বাধীন করেই ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ। নাফিজরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন অন্য আন্দোলনকারীদের থেকে। নাফিজের সঙ্গে থাকা সহযোদ্ধারা আশ্রয় নেন মসজিদে। নাফিজ ও বন্ধু শিমুল সে সুযোগ পাননি। শিমুল দৌড়ে তেজতুরিপাড়ার দিকে গিয়ে রিকশার গ্যারেজে আশ্রয় নেন। কিন্তু অন্যদিকে ছুটতে গিয়ে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সামনে পড়ে যান নাফিজ। সেখানেই খুব কাছ থেকে নাফিজের বুকে গুলি করা হয়।
এরপর গুলিবিদ্ধ নাফিজ অনেকক্ষণ পড়েছিলেন ফুটওভারের নিচে রাস্তায়। তখনও প্রাণ ছিল তার। এরপর পুলিশ ডাক দেয় রিকশাচালক নূর মোহাম্মদকে। তিনি বলেন, ‘তখন আসরের আজান হচ্ছিল। সময়টা হয়তো পাঁচটা হবে। দেখি নামাজের মতো (সিজদা) পইড়া আছে। পুলিশ কয়, এই যে লাশ ফালাইছি, এইডা তোল। আমি পিছন দিয়া ধরছি, পুলিশে পা ধইরা আমার গাড়িতে ইডা মাইরা (ছুড়ে) ফালাইসে। গাড়ির ভিতরে ফালাইয়া দিয়াও কইতাসে আরো দুইডা গুলি কইরা দে। এই যে পাদানিতে শুইয়া রইছিল মাথায় পতাকা নিয়া, আমার এটা দেইখা খুব খারাপ লাগছে। সামনে এগুতেই হাতটা চেইনে বাছতেছিল। এটা দেইখা তুইলা দিলাম রডের এইখানে। এরপর ওরে বাঁচানোর লাইগা আমি পাগল হইয়া গেছি।’
নাফিজের পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় নূর মোহাম্মদ তখনও রিকশাটি খুব ধীরে চালাচ্ছিলেন। একটু সামনে গিয়েই নিকটস্থ আল-রাজী হাসপাতালে যান। সেখানে গিয়ে তিনি বর্বরদের মুখোমুখি হন। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা এগিয়ে এসে গুলিবিদ্ধ নাফিজ, রিকশাচালক ও রিকশা পুড়িয়ে ফেলার হুমকি দেওয়ায় সেখান থেকে দ্রুত চক্ষু হাসপাতালের দিকে রওনা দেন।
চক্ষু হাসপাতালের সামনে গিয়ে নূর মোহাম্মদ আর এগোতে পারছিলেন না। তিনি বলেন, আমার শরীর ঠান্ডা হয়ে আসছিল। আমি পড়ে যাচ্ছিলাম। এ অবস্থা দেখে পাশে থাকা এক ছিন্নমূল কিশোর তাকে বলেন, ‘আপনি টেয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেডের মধ্যে যে এখানে আসতে পারছেন, এটাই বেশি। একটা অটোয় তোলেন।’ পরে সেখানে থাকা আরেক রিকশাচালক উজ্জ্বলকে ডাক দিয়ে সে রিকশায় তুলে দিয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
এদিকে মা নাজমার সঙ্গে নাফিজের শেষ কথা হয় দুপুর তিনটায়। তখন মাকে তিনি আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ‘আম্মু আমি সেফ আছি। চলে আসব বাসায়’। কিন্তু অনেক সময় পার হলেও ফিরছিলেন না তিনি। কিছুক্ষণ পর আবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে নাফিজের বন্ধু জানান, তাদের সঙ্গে নাফিজ নেই। এরপর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নাফিজের বন্ধু শিমুল বাসায় ফেরেন। কিন্তু নাফিজ না ফেরায় দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় পরিবার। এরপরই পুলিশের হাতে আটক হয়েছে ভেবে আশপাশের থানাগুলোতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তারা। নাফিজের কোনো খোঁজ না পেয়ে দিশাহারা হয়ে পড়ে পুরো পরিবার। নাফিজের মামারাও খোঁজ করতে থাকেন।
এদিকে বড় ভাই রাসেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিকশায় ঝুলতে থাকা নাফিজকে দেখে চিনতে পারেন। বিষয়টি বাবাকে জানান তিনি। এরপর গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি থেকে রিকশার পেছনে থাকা নূর মোহাম্মদের নম্বরে কল দিয়ে জানার চেষ্টা করেন নাফিজ সম্পর্কে। এরপর থেকে তারা বিভিন্ন মেডিকেলে খোঁজ শুরু করেন। এরই মধ্যে নাফিজের মামা আবুল হাশেম ও মামি আফরোজা আক্তার সীমা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজেন। মর্গেও খোঁজ নেন তারা। কিন্তু কোনো খোঁজ পাননি। সেখান থেকে ফেরার সময় দেখা পান নাফিজের বাবা-মায়ের। পরে কে কোন মেডিকেলে গিয়ে খুঁজবেন সে সিদ্ধান্ত নেন। এরপর নাফিজের মামা-মামি যান সোহরাওয়ার্দীতে।
আবুল হাশেম আমার দেশকে জানান, পুরো হাসপাতাল ও রেজিস্ট্রি খাতা খোঁজাখুঁজি শেষ করে যখন কোথাও নাফিজকে পাওয়া যাচ্ছিল না, তিনি স্ত্রীকে নিয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গের দিকে যান। সেখানে দায়িত্বরত ব্যক্তিকে নাফিজের ছবি দেখালে তিনি তাদের ভেতরে নিয়ে যান এবং একটি ড্রয়ার খুলে নাফিজের নিথর লাশটি দেখান।
আবুল হাশেম বলেন, ‘খুলে নিয়া আমাকে নাফিজকে দেখাইল। আমি কান্নাকাটি করতেছি। আমার ওয়াইফ বিশ্বাস করতে পারছিল না যে, এটা নাফিজ। মর্গের লোকটা বলতেছিল, মহিলা মানুষ সহ্য করতে পারবে না, নেওয়া যাবে না।’ পরে অনেক অনুরোধের পর তার স্ত্রীকেও ভেতরে যেতে দেওয়া হয় এবং তারা নাফিজের চেহারা দেখে নিশ্চিত হন।
মর্গের দায়িত্বরত ব্যক্তি তাদের মাত্র পাঁচ মিনিট সময় দিয়ে দ্রুত লাশ নিয়ে যেতে বলেন, অন্যথায় তিনটার পর লাশ কোথায় যাবে, কেউ জানবে না বলে সতর্ক করেন। দিশাহারা হয়ে পড়েন তিনি। কীভাবে নাফিজের মৃত্যুর কথা বোন-দুলাভাইকে জানাবেন, এটা নিয়ে তিনি চিন্তায় পড়ে যান। অন্যদিকে তার স্ত্রী সীমাও শোকে মুহ্যমান। তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন শুধু নাফিজকে পাওয়া গেছে সেটা বলবেন তিনি। আবুল হাশেম তখন নাফিজের বাবাকে ফোন করে বলেন, ‘ভাই নাফিজকে পাওয়া গেছে, আপনি দ্রুত চলে আসেন’ । কিছুক্ষণের মধ্যেই নাফিজের বাবা-মা, ভাই সেখানে পৌঁছান । গিয়ে দেখেন, তাদের কলিজার টুকরো নাফিজ আর নেই। শোকে কাঁদতে কাঁদতে মুর্ছা যাচ্ছিলেন শহীদ নাফিজের মা ও বাবা।
লাশ নিয়ে ফেরার পথে তারা চরম বাধার সম্মুখীন হন । অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হয়। নাফিজের বড় ভাই রাসেল এ সময় নাফিজের লাশকে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়া বৃদ্ধের লাশ বলে কোনোমতে পুলিশি বাধা এড়ান । এরপর ভোরে দক্ষিণখানের দোবাদিয়া বাজারের দাদাবাড়িতে তার লাশ নিয়ে যাওয়া হয়।
পরদিন সকাল ৯টায় জানাজা শেষে দাফন করার জন্য মধুবাগ গণকবরস্থানের দিকে নেওয়ার সময় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বাধার সম্মুখীন হন পরিবারের সদস্যরা। এ কারণে মূল রাস্তা দিয়ে তারা নাফিজের লাশ নিয়ে যেতে পারেননি । আবুল হাশেম ও গোলাম রাসেল বলেন, সড়েকে মানুষজন জানায়, রাস্তায় আওয়ামী লীগের লোকজন রামদা ও অস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা অনেক দূর ঘুরে, কোমর সমান পচা পানির ওপর দিয়ে লাশ নিয়ে কবরস্থানে গিয়ে দাফন করেছি।
সেনাপ্রধান হয়ে দেশে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখতেন শহীদ গোলাম নাফিজ। তার শাহাদত গোটা পরিবারকে গভীর শোকে নিমজ্জিত করে। কিন্তু তার ত্যাগ ও সংগ্রাম দেশের মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন গোলাম রাসেল। ৪ আগস্ট সকাল ১০টায় বাসা থেকে আন্দোলনে বের হওয়া নাফিজ ২৪ ঘণ্টার দীর্ঘ লড়াইয়ের পথ অতিক্রম করে ৫ আগস্ট সকাল ১০টায় শায়িত হন।
হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে গোলাম রাসেল বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে সহপাঠী ও সহযোদ্ধার খুনের বিচার দাবিতে আন্দোলনে নামা আমার নিরস্ত্র ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। প্রাণ বাঁচানোর জন্য দিগ্বিদিক ছুটেও আমার ভাই রক্ষা পায়নি। নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে কলিজার টুকরা ভাইকে। এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের আদেশদাতা থেকে শুরু করে হত্যাকারী কাউকেই কোনোভাবে ছাড় দেওয়া যাবে না। প্রত্যেকেই খুনি। প্রত্যেক শহীদের হত্যাকাণ্ডের আদেশদাতা থেকে শুরু করে বাস্তবায়নকারী সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। প্রত্যেককেই ফাঁসি দিতে হবে। অন্য কোনো প্রহসনের শাস্তি দিলে সেটা দেশের মানুষ মেনে নেবে না। হাসিনাকে যখনই হাতে পাবে, ওইদিনই ফাঁসি দিতে হবে।’
পরিবারের পক্ষ থেকে বিচারকার্যে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, পলাতক খুনিদের ফাঁসির দণ্ড দিলেও আমরা স্পষ্ট দেখছি যেসব আসামি আমাদের হাতে আছে, তাদের কয়েক বছর সাজার রায় দিচ্ছে। গুলি করে হত্যা করার ভিডিও ফুটেজ আছে এমন সন্ত্রাসীদের শাস্তি এত কম হয় কীভাবে? যারা সরাসরি শুট করেছে, তাদের অধিকাংশই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তিনি বলেন, একটা বিপ্লব হলো, কিন্তু বিপ্লবের ফসল এখন জনগণের ঘরে ওঠেনি। সরকার যদি এ বিপ্লবকে ধারণ করতে না পারে এবং শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন না করে, তবে দেশের মানুষ বিপ্লবের পূর্ণতা দেবে। বিপ্লব চলমান।
সে সময় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্ব ছিলেন ডা. শফিউর রহমান। তিনি আমার দেশকে বলেন, তখন তো ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকেও গুরুতর রোগী নিয়ে আসা হয়েছে হাসপাতালে। পরিস্থিতি এমন ছিল যে জরুরি বিভাগে পা ফেলার কোনো জায়গা ছিল না। সুতরাং কোনো রোগীর চিকিৎসার অবহেলা ছিল কি না তা এখন বলা সম্ভব নয়। অনেক দিন হয়ে গেছে। তবে ওই সময়ে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি সেবা দিতে। ইমার্জেন্সির ডাক্তারদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না। তবে গভীর রাতে লাশ গুমের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
বিচারের অবস্থা
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ফার্মগেট এলাকায় গোলাম নাফিজসহ তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ২২ জনকে আসামি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এ মামলায় শুধু সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শচীন মৌলিক গ্রেপ্তার আছেন।
পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজ আল ফারুক (জুয়েল), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রুবাইয়াত জামান ফাহিম, তেজগাঁও থানার তৎকালীন ওসি মোহাম্মদ মহসীন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


