বিগত কয়েক বছরে ঢাকার কয়েকটা রাবীন্দ্রিক মহলে খাজা সলিমুল্লাহকে নিয়ে দুটি অভিযোগ উত্থাপন করা হচ্ছে।
প্রথম অভিযোগ : খাজা সলিমুল্লাহ মারা গেছেন ১৯১৫ সালে আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯২১ সালে। তাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় খাজা সলিমুল্লাহর কোনো ভূমিকা নেই।
দ্বিতীয় অভিযোগ : সরদার ফজলুল করিমের একটা বইয়ের রেফারেন্স দিয়ে দাবি করেছে খাজা সলিমুল্লাহ ঢাবিকে জমি দান করেননি।
একজন সচেতন ইতিহাসমনস্ক মানুষের জন্য এই দুটি দাবির অসারতা ও ঐতিহাসিক সত্যতা জানা প্রয়োজন।
প্রথম বিতর্ক : ১৯১৫ সালের মৃত্যু বনাম ১৯২১ সালের প্রতিষ্ঠা
একটা কলোনিয়াল স্টেটে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা তো একদিনের ব্যাপার না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস সুদীর্ঘ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার সূত্র আলীগড় শিক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত। ১৮৫৭ সালে সিপাহি মহাবিদ্রোহে বিপর্যয়ের পর সাইয়েদ আহমেদ খান উপমহাদেশের মুসলমানের ব্রিটিশ গ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। এই লক্ষ্যে তিনি ১৮৭৫ সালে আলীগড়ে প্রতিষ্ঠা করেন মোহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজ (যা পরে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়)। আলীগড় শিক্ষা আন্দোলনের থিংক ট্যাংক উপমহাদেশের মুসলমানপ্রধান শহরে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা করেন। সেই অনুসারে হায়দরাবাদে প্রতিষ্ঠা হয় ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লিতে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লক্ষ্ণৌতে প্রতিষ্ঠা হয় দারুল উলুম নাদওয়া, ইউপির আজমগড়ে প্রতিষ্ঠিত হয় দারুল মুসাননেফিন এবং করাচিতে আঞ্জুমান তারিখ-ই-উর্দু, পাঞ্জাবে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়। খাজা আহসান উল্লাহ এবং খাজা সলিমুল্লাহ উভয়ই আলীগড় শিক্ষা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তারা পরিকল্পনা করেন ঢাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার। ১৯০৬ সালের ১৪ ও ১৫ এপ্রিল ঢাকার শাহবাগে খাজা সলিমুল্লাহ সভাপতিত্বে ‘ইস্টার্ন বেঙ্গল অ্যান্ড আসাম প্রভিনশিয়াল মোহামেডান এডুকেশনাল কনফারেন্স’ অনুষ্ঠিত হয়। এখানে খাজা সলিমুল্লাহ প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
১৯১২ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের পর ভাইসরয় চার্লস হার্ডিঞ্জ ঢাকায় এলে খাজা সলিমুল্লাহ ১৯ সদস্যের মুসলিম প্রতিনিধিদল নিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এটি ছিল বাংলার মুসলমানদের প্রথম সংগঠিত রাজনৈতিক লবিংÑযেখানে সলিমুল্লাহ স্পষ্ট ভাষায় বলেনÑ
১. বঙ্গভঙ্গ রদ মুসলমানদের প্রতি অবিচার।
২. পূর্ববাংলার জন্য ক্ষতিপূরণ প্রয়োজন।
৩. সেই ক্ষতিপূরণ হতে পারে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়।
হার্ডিঞ্জ খাজা সলিমুল্লাহর দৃঢ়চেতা মনোভাব দেখে রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে এই দাবিকে সমর্থন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের About> About University> Historical Outline সেকশনে উল্লেখ আছেÑ
‘Year 1912 : on 31 January a delegation led by Nawab Sir Salimullah, Nawab Syed Nawab Ali Chowdhury and Sher e-Bangla A.K. Fazlul Hug met Viceroy Lord Hardinge on his visit to Dhaka (then Dacca) and raised the demand of the establishment of a University in the region.’
অর্থÑ১৯১২ সাল : ৩১ জানুয়ারি নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী এবং শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের ঢাকা সফরকালে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং এ অঞ্চলে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন।
এশিয়াটিক সোসাইটির প্রকাশিত বাংলা এনসাইক্লোপিডিয়ায় এ ঘটনা লিপিবদ্ধ আছে একটু বিস্তারিতÑ
‘ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ বাংলা বিভক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তে মুসলিম সম্প্রদায়ের অসন্তোষের বিষয় উপলব্ধি করে তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেন। তখন মুসলিম সম্প্রদায়ের কয়েকজন বিশিষ্ট নেতা ১৯১২ সালের ৩১ জানুয়ারি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন খাজা স্যার সলিমুল্লাহ, খাজা সৈয়দ খাজা আলী চৌধুরী এবং এ কে ফজলুল হক। সাক্ষাৎকালে তারা বঙ্গভঙ্গ রহিত করায় শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বঙ্গবিভক্তি বিলোপের ক্ষতিপূরণ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে তারা ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানান।’
একই ধরনের তথ্য একাধিক ইতিহাসবেত্তা উল্লেখ করেছেন। তাই ১৯১৫ সালে মারা গেছেন বিধায় খাজা সলিমুল্লাহর ঢাবি প্রতিষ্ঠায় কোনো ভূমিকা নেই, এটি একেবারেই অহেতুক দাবি।
দ্বিতীয় বিতর্ক : জমি দান প্রসঙ্গ
এ বিষয়টি বুঝতে আমাদের এ এলাকার ইতিহাস সম্পর্কে একটা সম্যক ধারণা থাকা জরুরি।
শাহবাগ ছিল বাংলার বারো ভূঁইয়াদের নির্মিত বাগে শাহি বাগানবাড়ি, যার কেন্দ্রেই তারা রাজধানী গড়েছিলেন। বারো ভূঁইয়াদের নেতা মূসা খাঁর কবর ও মসজিদ আজও শহীদুল্লাহ হলের পাশে রয়েছে। পরে মোগল সুবেদার ইসলাম খাঁ এখানে রাজধানী জাহাঙ্গীরনগর স্থাপন করেন এবং চুক্তির মাধ্যমে মূসা খাঁকে বসবাসের অনুমতি দেন।
সময়ের সঙ্গে পর্তুগিজ, ওলন্দাজ, গ্রিক ও ব্রিটিশরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-রমনা অঞ্চলের জমির মালিক হন। এই মালিকদের কাছ থেকে খাজা আব্দুল গণী বিপুল জমি কেনেন। রমনার বড় অংশের মালিক আর্মেনীয় খাজা আরাতুন ও ব্রিটিশ জজ গ্রিফিতের সম্পত্তিও খাজা পরিবারের হাতে আসে। তারা এখানে এশারাত মঞ্জিল, নিশাত মঞ্জিলসহ জাঁকজমকপূর্ণ বাগানবাড়ি নির্মাণ করেন। এশারাত মঞ্জিলের দরবার কক্ষটি হয়ে ওঠে কৃষিমেলা, বঙ্গভঙ্গ-পরবর্তী বৈঠক, নিখিল ভারত মুসলিম লীগের জন্ম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আবেদনসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার কেন্দ্র। ১৯৭১ সালে মধুদার মৃত্যুর পর এখানকার ক্যান্টিনের নাম হয় মধুর ক্যান্টিন।
চারুকলার গোলপুকুরসংলগ্ন এলাকা ছিল নিমতলী মসজিদের খতিব শাহ নুরুদ্দিন হোসাইনের জমি; তার মাজার আজও চারুকলার ভেতরে রয়েছে। তার ছেলের কাছ থেকে নবাব গণী জমিটি কিনে নেন—শর্ত ছিল পরিবারের কবরগুলো অক্ষত রাখা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরও এসব কবর সংরক্ষিত থাকে।
খাজা পরিবারের তিনটি বাগানবাড়ি ছিল—দিলখুশা, শাহবাগ ও বেগুনবাড়িতে। শাহবাগের বাগানে খাজা আহসানুল্লাহ একটি ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা স্থাপন করেছিলেন, যেখানে বাঘ, ভালুক, উটপাখি ও নানা প্রাণী রাখা হতো।
১৮২৫ সালে ব্রিটিশ কালেক্টর ডস রমনার বেশির ভাগ স্থাপনা ভেঙে এটিকে রেসকোর্সে রূপান্তর করেন। পরে খাজা গণী এখানেও রেস চালু করেন।
১৯০৬ সালে ঢাকা আবার রাজধানীর মর্যাদা পেলে খাজা সলিমুল্লাহ পরিবাগ, শাহবাগ ও মিন্টো রোডসংলগ্ন বহু জমি ব্রিটিশদের প্রশাসনিক দালান নির্মাণের জন্য দেন। কিন্তু ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হলে ব্রিটিশরা জমি ফেরত না দিয়ে তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ করে। খাজা সলিমুল্লাহও তার অংশের জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দান করেন, যা আজও ‘সলিমাবাদ মৌজা’ নামে রাজস্ব নথিতে বিদ্যমান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি রাজস্ব এখনো পরিশোধ করা হয় ‘সলিমাবাদ মৌজা’ নামে, যা খাজা সলিমুল্লাহর নাম ও জমির বিবরণকে কে স্পষ্ট করে তোলে।
এখানে, খাজাদের জায়গাজমির পাশাপাশি সরকারেরও জায়গা ছিল। কিন্তু এর পুরো কর্তৃত্বই ভোগ দখল ছিল ঢাকার খাজা পরিবারের। এছাড়া খাজা সলিমুল্লাহর মৃত্যুর সময় সম্পত্তির যে তালিকা প্রণয়ন করা হয়, তাতে রমনার রেসকোর্সকেও নবাব সলিমুল্লাহর সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। মুনতাসীর মামুন তার ঢাকা সমগ্র-১ গ্রন্থেও এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘শাহবাগ তো নবাবের ছিলই, অনুমান করে নিচ্ছি রমনা রেসকোর্সও ছিল নবাবের সম্পত্তির অন্তর্গত। ড. সিরাজুল ইসলাম একবার আমাকে বলেছিলেন, নবাব পরিবারের দলিলপত্র ঘেঁটে তিনি জেনেছেন, সলিমুল্লাহর মৃত্যুর পর তার সম্পত্তির হিসাব তৈরির সময় রেসকোর্সকেও দেখানো হয়েছিল তার সম্পত্তির অংশ হিসেবে।’
সরদার ফজলুল করিমের বই প্রসঙ্গ
‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ববঙ্গীয় সমাজ : অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের আলাপচারিতা’, এই বইটা একটা দীর্ঘ সাক্ষাৎকার গ্রন্থ। এই সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ ১৯৭৭ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় প্রকাশিত হয়েছিল। প্রকাশের পর এটি নিয়ে প্রচুর বিতর্ক হয়, আদৌ এখানে কতটুকু রাজ্জাক সাহেবের কথা আর কতটা সরদারের নিজের কথা, তা নিয়ে। তখন বিচিত্রা এই সাক্ষাৎকার প্রকাশ বন্ধ করে দেয়। বাকি অংশ আর প্রকাশিত হয়নি। সাক্ষাৎকার গ্রহণের ১৭ বছর যখন পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকার বই আকারে প্রকাশিত হয়, তখন বিতর্ক ঢাকতে ভূমিকাতেই সরদার ফজলুল করিম লেখেনÑ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস প্রসঙ্গে অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের সাক্ষাৎকার’ কোনো ইতিহাস নয়। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে তার স্বতঃস্ফূর্ত স্মৃতিকথা। কিন্তু এ স্মৃতিকথাও তিনি নিজে লেখেননি। তার কাছ থেকে প্রায় জোর করে আদায় করা হয়েছে, যা তিনি একবার বলেছেন, তাকে লিখিতরূপ দিয়ে দ্বিতীয়বার তাকে দেখানো হয়নি। দেখালে হয়তো তিনি প্রথমবারের মতো বলতেন না। তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি, ঘটনা ও সমস্যা সম্পর্কে নিজের স্মৃতি এবং মনোভাব বর্ণনা করেছেন। শুধু স্মৃতি থেকে বিবৃত এসব ঘটনা : সময়, কাল এমনকি বিষয়বস্তুও সংঘটিত ঘটনার বিষয়বস্তু থেকে ভিন্ন হতে পারে।
বহু বিতর্কিত, জোর করে কথা আদায় করা হয়েছে এবং লিখিতরূপ দেখতে দেওয়া হয়নি খোদ বইয়ের লেখকের এতবড় ডিসক্লেইমারের পর এ বইয়ের তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা থাকে না।
যদি বইটা পড়েন দেখবেন আব্দুর রাজ্জাক সাহেব (ফজলুল করিমের দাবি অনুসারে) বলেছেনÑ
‘ঢাকার স্থানীয় মুসলমানরা মৃত্যুর সময় কোনো কোনো সম্পত্তি নওয়াব আব্দুল গণি ও আহসানউল্লাহকে ওয়াকফ করে দিতেন।’
তার একটু পরেই নবাব পরিবার সম্পর্কে আবার বলেছেনÑ
‘ঢাকার মুসলমানদের সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক ছিল না। মুসলমানরা এদের পরিবারকে নিজেদের সমাজের কোনো বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন বলে যে গ্রহণ করেছিলেন, এমনও নয়।’
এ দুটি বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। মুসলমানদের সঙ্গে খাজা পরিবারের সম্পর্ক না থাকলে মৃত্যুর সময় কেন কেউ কেউ তাদের সম্পত্তি খাজা পরিবারকে ওয়াকফ করতে যাবে?
সরদার ফজলুল করিম কলকাতা-প্রভাবিত কট্টর বামপন্থি রাজনৈতিক ধারার অনুসারী ছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে মুসলিম লীগের বিরোধী ছিলেন। ঐতিহাসিক দলিল-দস্তাবেজ, সরকার ফজলুল করিমের ব্যক্তিগত বিশ্বাস, তার পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতে অসততার স্বীকারোক্তির পর এ বইয়ের গ্রহণযোগ্যতা থাকে না।
খাজা সলিমুল্লাহ শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় না, বুয়েট নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া ঢাকা কলেজের পাশে আলীগড় কলেজ বোর্ডিং হাউসের মতো একটি মোহামেডান হল প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
লেখক : পিএইচডি গবেষক, জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র
sabbirmir@hotmail.com
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

