আবু সাঈদ—এই জনপদের নতুন মুয়াজ্জিন!
যার আজান শুনে কাতারবন্দি হয়েছিল দেশ!
জাতি সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছিল রুকু করবে বলে!
এরপর ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের জায়নামাজে
মুক্তির সিজদা!
সমবেত প্রার্থনায় সেদিন শামিল হয়েছিল
তেরোশত নদী, গারো পাহাড়, মাধবকুণ্ডের ঝরনা,
পাহাড়ি জুম ক্ষেত! নীল আকাশ! নোনা সমুদ্র!
অশীতিপর বৃদ্ধার কাঁপা গলার কাসিদা, বাবার তাহাজ্জুদের কান্না,
টোলপড়া দুগ্ধশিশুর নিষ্পাপ হাসি—বাদ যায়নি কিছুই!
আবু সাঈদের দুই হাতে ছিল ভোরের মুকুল।
আবু সাঈদের দুই চোখে ছিল ঝলমলে রোদ্দুর।
চোখের পাতায় জাফরানি সুরমা।
সে যেন আস্ত টের পেয়েছিল—
দোয়েল পাখির ডানায় স্বাধীনতার ঘ্রাণ আসছে!
পাতাঝরা জীর্ণ শীতের শেষে প্রাণ আসছে!
সে যেন দেখতে পেয়েছিল—
শালিক পাখির ঠোঁটে লাল কুসুমের মতো মুক্তির সূর্য!
নামাজ দীর্ঘতর হলো!
কোটি ভিসুভিয়াসের লাভার উত্তাপ এই নামাজের নতুন সুরা!
রক্ত সাগর অশ্রু নদী সাঁতরে নামাজ সমাপ্ত হলো ছত্রিশ দিনে এসে!
অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমরা ফিরে পেলাম—
সোঁদা মাটির গন্ধ,
সজনেডাঁটার ঝালর,
মৌরি ফুলের ক্ষেত,
ধান কাউনের হাসি!
ফিরে পেলাম শাপলা-শালুক দিন। বয়সি বটের ছায়া!
কথা বলার নিঃশর্ত কাবিন!
তার কাছে আমাদের ঋণ সহস্র দিনের—সহস্র রাতের!
এখন বেহেশতের আনার আঙুর বনে আবু সাঈদ!
আমরা দাওয়ায় বসে নতুন দিনের গল্প বুনি!
এখন বোরাকের মতো আমাদের সবার শরীরে একজোড়া ডানা!
আমরা উড়তে পারি আরশ অব্দি!
আবু সাঈদ এক মস্ত জাদুকরের নাম!
এই জাদু জানলে মুক্তির ফুল ফোটে মাশরিকে মাগরিবে!
০৪.০৭.২০২৬
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

