দাবদাহে পুড়ে যাচ্ছে দেশ
আগামীকাল মে মাসের পাঁচ তারিখ
কাফন সাদা শাপলা-কুসুম,
আগামীকাল কি বৃষ্টি হবে?
আমি খুঁজছি সেই পাক্কা অভিনেতাদের
মাথায় টুপি, হাতে তসবি আর চিড়াগুড়ের পুঁটুলি
প্রধানমন্ত্রীর স্বরচিত নাটকে অভিনয়ের জন্য যারা
রঙ মেখে শুয়ে ছিল গত বছর
শাপলা চত্বরে।
বুট, বন্দুক ও সাঁজোয়া যানে ভারী মধ্যরাত্রির পালা
র্যাব, পুলিশ বিজিবির গুলি,
বুলেট
সাউন্ড গ্রেনেড এবং যৌথ অভিযান।
স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী মৃতের অভিনয়ে শুয়ে পড়ল সবাই
অতঃপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর
কোমল করস্পর্শে
দৌড়ে পালাল নিখুঁতভাবে
প্রধানমন্ত্রীর পাণ্ডুলিপি মেনে
অক্ষরে অক্ষরে।
আহ্, শহর মুক্ত
পড়ে থাকল ছেঁড়া টুপি, তসবিহ, কাপড়ে বাঁধা
চিড়াগুড়ের পুঁটুলি।
কিন্তু কোথায় কোথায়?
কোথায় সেই সকল অভিনেতা
যাদের অভিনয়ে মুগ্ধ হয়েছিল
হলুদ-লাল টেলিভিশন?
সাদাকালো পত্রিকা
রঙবেরঙের ওয়েব পোর্টাল?
আর, কোথায় তোমরা সেইসব প্রতিভাবান বালক
পাক্কা এক বছর তোমাদের খুঁজছি
খুঁজতে থাকব
আজ
কাল
পরশু
এবং আবার
আজ কাল এবং
পরশু।
বাংলাদেশ তোমাদের খুঁজছে
শীতলক্ষ্যায় ধলেশ্বরীতে
নদীর তলদেশে, সমুদ্রে ও গোরস্থানে
মিউনিসিপ্যালিটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে।
কসম কবিতার কাল যদি বৃষ্টি হয়
তবে সেটা হবে রক্তে ভেজা তসবিদানা
ঝরে পড়বে টুপি
চিড়াগুড়ের পুঁটুলি ...।
এবং কবিদের জন্য সাক্ষী হিসাবে
একটি গুলিবিদ্ধ কোরান শরিফ।
মাবুদ! আমরা এমন এক জাহেলি যুগে বাস করি
চতুর্দিকে শুধু ব্লাড ব্যাংকের ব্যবসা
কিন্তু কেউই রক্তের দাম শোধ করতে চায় না
ঋণ জমেছে বিস্তর।
জমাট বেঁধে যাচ্ছে হিমোগ্লোবিন
ইতিহাসের চিলেকোঠায়
কিন্তু প্রতিটি রক্তমাখা তসবিদানার
দাম শোধ দিতে হবে। এই বছর
কিংবা আগামী বছর
কিংবা তার পরের বছর
কিংবা তারও পরের বছর...
শাপলা-কুসুম,
আগামীকাল কি বৃষ্টি হবে শহিদের চত্বরে?
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

