প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশি কর্মীরা তাদের দক্ষতা, শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে কোরিয়ার শ্রমবাজারের বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। ফলে বাংলাদেশি কর্মীদের এমন সুযোগ দেওয়ার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের অব্যাহত সহযোগিতা ও সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।
মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কোরিয়া প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসলে তিনি এসব কথা বলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পরিচালক হান উনসুকের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদল সাক্ষাতে অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে। বিগত বছরগুলোতে এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম আমাদের দুই দেশের মধ্যে শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে কল্যাণকর কাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩৮,০৫৯ জন বাংলাদেশি কর্মী কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। ইপিএস-এর অন্যতম প্রধান প্রেরক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় ও সম্প্রসারণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, কোটা ব্যবহারের সর্বোচ্চকরণ এবং কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের আরও অধিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করতে আমরা আগ্রহী। এছাড়া, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতসহ অতিরিক্ত কিছু খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের বিবেচনা প্রত্যাশা করি।
আলোচনাকালে দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পরিচালক হান উনসুক বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই দক্ষিণ কোরিয়া মূলত ইপিএস পদ্ধতির মাধ্যমে কর্মী গ্রহণ করে থাকে। বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে তারা যেমন আন্তরিক, তেমনই কর্মী নির্বাচন প্রক্রিয়াটি যেন শতভাগ স্বচ্ছ হয়, সে বিষয়েও তারা সমান সতর্ক। ইপিএস পদ্ধতির এই স্বচ্ছতা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


