সাত মাসে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে কত বাড়ল

সাত মাসে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে কত বাড়ল

সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। রোববার রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে দাম বাড়ানো হয়। প্রজ্ঞাপনে আরো জানানো হয়, গতকাল রাত ১২টা থেকে নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে।

এ নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের সাত মাসে তিন দফা জ্বালানির দাম বাড়ল। এ সময় গড়ে প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ টাকা। এর আগে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম একবারও বাড়ানো হয়নি।

বিজ্ঞাপন

গতকাল রাতের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকার পরিবর্তে ১৩৫ টাকায় দাম নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া প্রতি লিটার পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬৫ টাকা দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে প্রতি লিটার কেরোসিনের নতুন দাম ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১৩৫ টাকা।

এর আগে চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়। একইভাবে অকটেনের দাম বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরে দেড় মাসের মাথায় ৩১ মে আবার অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি আরো পাঁচ টাকা করে বাড়ানো হয়েছিল।

এদিকে গত ৭ এপ্রিল জেট ফুয়েলের মূল্য বৃদ্ধি করে সরকার। এতে দেশের ভেতরে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েল ২২৭.০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের মূল্য ১.৪৮০৬ ডলার করা হয়। এছাড়া গত ১২ এপ্রিল প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলের দাম ৭০.১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৪.৬৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

সে সময় জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, গত ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের গড় দরের তুলনায় মার্চে মূল্য ৯৮ শতাংশ বেড়েছে, অকটেনে বেড়েছে ২৬ শতাংশ। সরকার জনস্বার্থে উল্লেখযোগ্য ভর্তুকি দিচ্ছে। এ দুটি জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে মার্চ-জুন প্রান্তিকে মোট ভর্তুকির প্রয়োজন হবে ডিজেলের ক্ষেত্রে ১৫ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা ও অকটেনের ক্ষেত্রে ৬৩৬ কোটি টাকাসহ মোট ১৬ হাজার ৪৫ কোটি টাকা। এছাড়া পেট্রোবাংলার মাধ্যমে এলএনজি আমদানির জন্য এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ১৫ হাজার ৭৭ কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭৫ লাখ টন। মোট চাহিদার প্রায় ৭৫ শতাংশই ডিজেল ব্যবহার হয়। বাকি ২৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ হয় পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানি তেলে।

জ্বালানি তেলের মধ্যে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আর নির্বাহী আদেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম নির্ধারণ করে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। দেশের ইতিহাসে একলাফে জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দাম বাড়ানো হয় ২০২২ সালের আগস্টে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ডিজেলের দাম সাড়ে ৪২ শতাংশ বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন