উন্নত বিশ্বের ন্যায় ওষুধের সঠিক প্রয়োগ ও আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ ব্যবস্থাপনায় দেশের সরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ওষুধ বিক্রয়কেন্দ্রে (ফার্মেসি) গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট থাকা বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানিয়েছেন ফার্মাসিস্টরা।
শনিবার রাজধানীর বাংলামোটরের কনভেনশন হলে বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরাম (বিপিএফ) আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভা এবং ইফতার অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তারা।
ফার্মাসিস্টরা বলেন, 'বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা মেনে ফার্মাসিস্টদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও নিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে স্বাস্থ্য খাত আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হবে।
ফোরামের সভাপতি মো. আজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তানভীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের উন্নয়নে স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে ফার্মাসিস্টদের বিশেষ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে অতি দ্রুত হাসপাতাল ফার্মেসি, ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি, কমিউনিটি ফার্মেসি চালুর জোর দাবি জানান।
স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে হাসপাতাল ফার্মেসির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ফার্মাসিস্টদের সঠিকভাবে সম্পৃক্ত করা হলে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও কমিউনিটি ফার্মেসিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দিতে হবে। বাংলাদেশ ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফার্মাসিস্টদের দায়িত্ব ও ভূমিকা আরও কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি সরকারের যথাযথ নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফার্মাসিস্টদের নিয়োগ ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করা হলে দেশের স্বাস্থ্যখাত আরও সমৃদ্ধ হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি উন্নত ফার্মেসি শিক্ষা ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যসেবা গড়ে তোলা সম্ভব, যা জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা মতামত দেন।
এ সময় স্বাস্থ্যসেবার অগ্রগতির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস ফোরামের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা এবং গবেষণা ও স্বাস্থ্যখাতে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের গুরুত্ব আলোকপাত করেন গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোকলেছুর রহমান সরকার।
ফার্মেসি কাউন্সিলে ডেপুটি ডিরেক্টর আসিফ হোসেন বলেন, বিপিএফ ফার্মাসিস্টদের অধিকার আদায়ে এক যুগেরও অধিক সময় ধরে কাজ করে দেশ ও দেশের বাইরে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে, এখন সময় এসেছে ফার্মাসিস্টদের গুণগত পরিবর্তনে কাজ করার।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী কাজ করার জন্য পরামর্শ দেন সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালসের কোয়ালিটি ইস্যুরেন্সেন প্রধান জাকারিয়া ফারুকী।
বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস ফোরামের সভাপতি আজিবুর রহমান বলেন, সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতায় ১০ জন গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা স্বাস্থ্য খাতের জন্য ইতিবাচক দিক। তবে এটাই যথেষ্ট নয়। হসপিটাল ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং এ ব্যাপারে কাঠামোগত পরিবর্তন করা জরুরি।
রেন্ডক্স ল্যাবরেটিরস লিমিটেডের বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের আঞ্চলিক প্রধান এবং বিপিএফ সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তানভীর বলেন, উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ফার্মেসি প্র্যাক্টিসেন জন্য গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্ট বাধ্যতামূলক করতে হবে, যেন আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ ব্যবস্থাপনা সহজ হয় এবং রোগীরা সঠিক নিয়মে ওষুধ সেবন করতে পারে।'
বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেডিয়্যান্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার শারমিন আফরোজ বলেন "আমরা যারা ফার্মাসিস্ট আমাদের কাজ শুধু ওষুধ সরবরাহ নয় বরং আমরা আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। একজন রোগী যখন ডাক্তার দেখান তার চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ হয় আমাদের মাধ্যমে সঠিক গুণগতমানের ওষুধ, সঠিক ডোজ ও সঠিক ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়ে। ফার্মাসিস্ট হিসেবে আমাদের দায়িত্ব রোগীদের নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ওষুধ সম্পর্কিত ভুল প্রতিরোধ করা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হিসেবে বক্তব্য রাখেন বায়োফার্মা লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাইফুল আমিন, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগীয় প্রধান এবং সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মোকলেছুর রহমান সরকার, প্রবীণ ফার্মাসিস্ট বেলায়েত হোসেন।
এছাড়াও ইউনাইটেড ফার্মাকোপিয়া বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও বিপিএফ সহসভাপতি মেহেদী হাসান, ফার্মেসি কাউন্সিল বাংলাদেশেন ডেপুটি ডিরেক্টর আসিফ হাসান প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

