ভিডিও দেখে শনাক্ত

বিক্ষোভের সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলায় ৪ মামলা, গ্রেপ্তার ৬০

হামলা ও ভাঙচুর আইনের শাসনের অবমাননা: প্রেস উইং

বিক্ষোভের সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলায় ৪ মামলা, গ্রেপ্তার ৬০

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি গণহত্যার প্রতিবাদে সোমবার দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলাকালে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় জননিরাপত্তা ও আইনের শাসনের অবমাননা বলে জানিয়েছে সরকার। এ ঘটনায় সবশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চারটি মামলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হয়েছে ৬০ জন। ওই সময় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে জানিয়ে সরকার বলেছে, জড়িত সবাই গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।

মঙ্গলবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস ইউংয়ের বিবৃতিকে এই তত জানানো হয়। এর আগে সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় ৪৯ জন গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়। ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি মামলা দায়েরের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, আরো তদন্ত চলছে এবং এই নিন্দনীয় কাজের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আরো মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

বিজ্ঞাপন

গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে সোমবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন দল ও সংগঠন। সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বগুড়াসহ অন্তত পাঁচটি জেলায় কেএফসি, পিৎজা হাট ও বাটার শোরুমসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এমন প্রেক্ষাপটে পুলিশের মহাপরিদর্শকের ওই নির্দেশ দেওয়ার কথা জানানো হয় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে।

প্রেস উইংয়ের বিবৃবিতে বলা হয়, সোমবার বেশ কয়েকটি শহরে গাজায় সহিংসতার প্রতিবাদে বিক্ষোভের সময় সংঘটিত সহিংস ও বেআইনি ঘটনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা জননিরাপত্তা এবং আইনের শাসনের অবমাননা।

দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দৃঢ় প্রয়াসে পুলিশ সোমবার রাতে অপরাধীদের লক্ষ করে অভিযান চালিয়েছে জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, আমাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার জন্য বিক্ষোভের সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজগুলো নিষ্ঠার সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। এই সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে এতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্তে সহায়তা করুন, আমাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন। আমরা যেন নিশ্চিত করতে পারি যারা সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়, তারা কোনোভাবেই যেন রেহাই না পায়।

এদিকে, সোমবার রাতে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুরে জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে হামলাকারীদের ভিডিও ফুটেজ আছে। তাদের (হামলাকারীদের) চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হবে। সে ব্যাপারে পুলিশের টিম কাজ করছে।’

তিনি আরও বলেন, সরকার কোনো আইনি আন্দোলনে বাধা দিচ্ছে না। তবে প্রতিবাদের নামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।

এদিকে বিভিন্ন জায়গায় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনার ব্যাপারে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, এমন এক সময় যখন আমরা বাংলাদেশকে বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার জন্য একটি শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করছি, তখন আমাদের এ ধরনের উদাহরণ স্থাপন করা দুঃখজনক।

তিনি বলেন, এসব ব্যবসার বেশিরভাগই স্থানীয় বিনিয়োগকারী, কেউ কেউ বিদেশিÑ যারা বাংলাদেশকে বিশ্বাস করতেন, তারা সবাই দেশের তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। যারা এই জঘন্য ভাঙচুর করেছে, তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার প্রকৃত শত্রু।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন