মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। এ ছাড়াও আটকে পড়া কর্মীদের মধ্য থেকে প্রথম ধাপে আট হাজারের মতো কর্মী যাবেন মালয়েশিয়ায়। গত বছর শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ায় সব প্রক্রিয়া শেষ করেও প্রায় ১৭ হাজার কর্মী যেতে পারেননি। তাদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় বোয়েসেলের মাধ্যমে দ্রুত পাঠানো হবে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে নিরাপদ অভিবাসন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণসহ শ্রমবাজার’ সম্পর্কিত তৃতীয় যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের উদ্বোধনী অধিবেশনের পর এসব কথা বলেন তিনি।
বৈঠকে মালয়েশিয়ার ১৪ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করছে। দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি ড. ম শাহরিন বিন উমর। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে নেতৃত্ব দেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। সভায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়াসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রথম দিনের সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দূত লুৎফে সিদ্দিকী জানান, ‘বাংলাদেশে অধিক সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সি থাকায় মালয়েশিয়া সরকার তাদের নিজ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করে যোগ্য ও উপযুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিতে আগ্রহী।’ শ্রম বাজার ইস্যুতে মালয়েশিয়া সরকারের এ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিশদ আলোচনা হয়েছে বলেও জানান প্রধান উপদেষ্টার এ বিশেষ সহকারী।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালটিপল এন্ট্রি ভিসা দেওয়ার বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করছে। মালয়েশিয়া সরকার খুবই আন্তরিকভাবে কর্মী নেয়ার বিষয়টি দেখছে। দুই পক্ষই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চায়।’
এর আগে গত ১৪ মে মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় দেশটির স্বরাষ্ট্র ও মানবসম্পদ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যৌথসভায় অংশ নেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শ্রম বাজার বন্ধ থাকায় অবৈধ পথে শ্রমিক পাঠানোর চেষ্টা করছে একটি অসাধু চক্র। এতে শত শত নিরীহ মানুষ প্রলোভনে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। ফলে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমিক পাঠানোর বিষয়টি সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

