এখনও খোঁজ মেলেনি গুম হওয়া ১৫৮ ব্যক্তির

এখনও খোঁজ মেলেনি গুম হওয়া ১৫৮ ব্যক্তির

গুম হওয়া ১৫৮ ব্যক্তির এখনও খোঁজ নেই । পরিবারগুলোর ধারণা তারা আর বেঁচে নেই। তাই চরম দুরাবস্থায় থাকা পরিবারগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়েছে। গুম-খুনের শিকার হওয়া পরিবারগুলো চাকরি, ক্ষতিপূরণ এবং মাসিক ভাতা চেয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্বারকলিপিও দিয়েছে বলে জানান তারা।

বিজ্ঞাপন

সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টাাস অ্যাসোসিয়েশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ এসব কথা জানান ।

পরিবারগুলো বলেছে, গুম কমিশনে ১৬৭৬টি অভিযোগ তদন্তে সত্যতাও মিলেছে তবুও সংবাদ সম্মেলন-মানবন্ধন করেও মিলছে না সদোত্তর । ভুক্তভোগীদের অনেকেই এখনও দেশের বিভিন্ন জায়গায় আয়নাঘরে বন্দী রয়েছেন এবং এসব আয়নাঘরগুলো উন্মুক্ত করার দাবী জানান বাংলাদেশ গুম পরিবার।

প্রধান সমন্বায়ক আলহাজ্ব মো :বেল্লাল হোসেন বলেন, ’জুলাই বিপ্লবের পরে গত ৭ মাসেও যখন আর কোন খোঁজ মেলেনি তখন গুমের শিকার স্বজনদের ফিরে আসার সম্ভাবনা দেখছেন না তাদের পরিবার। নিখোঁজদের জীবিত বা মৃতদেহ পাওয়ার জন্য প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা। তবে তাদের ধারণা গুমের শিকার ব্যক্তিরা আর কেউ বেঁচে নেই। যত দ্রুত সম্ভব তারা গুমের ঘটনায় জড়িত র‌্যাব কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে শাস্তি চান । একই সাথে তারা অতিদ্রুত র‌্যাবের বিলুপ্তিরও দাবী জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রায় অর্ধশত গুমের শিকার পরিবারের সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলো গুম হওয়া শীর্ষ ব্যবসায়ী । ব্যাসায়ীদের পরিবারগুলো অভিযোগ করেন , শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর আজও তাদের কারোর খোঁজ মেলাতে পারেননি অন্তর্বর্তী সরকারের তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। নিখোঁজ ব্যবসায়ী কুদ্দুস চৌধুরীর মেয়ে ফারজানা নয়না বলেন, প্রশাসনের কাছে দাবী জানাই, ‘আমার বাবাকে জীবিত বা মৃত ফিরিয়ে দেন। আমরা একটু জানতে চাই বোবা কোথায় রয়েছেন কিভাবে রয়েছেন।’ সংবাদ সম্মেলনে কাঁদলেন গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের স্ত্রী-সন্তানসহ নিকটাত্মীয়রা।

গুমের শিকার পরিবারগুলো বলেছেন,‘৫ আগস্টে সরকারের পতন হয়েছে কিন্তু ৪ আগস্ট পর্যন্ত গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিগুলো ছিলো। আয়নাঘর থেকে সেসব ব্যক্তিরা কোথায় গেলো । তাদের খোঁজে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার দপ্তর আর আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন পরিবার-স্বজনরা। কিন্তু এখন আর ফিরে আসার সম্ভবনা দেখছেন না পরিবারগুলো।

তারা অভিযোগ করেন , তারা এখনো আগের মতোই নিপীড়ন ও হুমকির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। এখনো অনেকেই তাদেরকে ফোন দিয়ে হুমকি দিচ্ছেন এসব নিয়ে বেশি দৌড়ঝাঁপ না করতে।

মো বেল্লাল হোসেন জানান, এসব হুমকি-ধামকিতে প্রশাসন ও আইনজীবীদের একটা চক্র জড়িত রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন