জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পতিত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, এ বিষয়টি সবাই গ্রহণ করেছে। দু একটি দল-মতে ভিন্নতা থাকতে পারে, সেটা কোনও বিষয় নয়। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে সমস্ত পার্টি মিলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, এনিয়ে আমরা সব দলের সঙ্গে কথা বলেছি।
সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র (ডিআরইউ) ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ এ এসব কথা বলেন প্রেস সচিব। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে জুলাই-আগস্টে ১৪ শত মানুষ হত্যার তথ্য উঠে আসলেও সেটি ২ হাজারের মতো উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছরে কী পরিমাণ লুট করেছে, খুন-গুম করেছে। সাড়ে তিন হাজার মানুষ গুম হয়েছে। আয়না ঘরে রেখে কঠিন শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এর থেকে বাচ্চারাও মুক্তি পায়নি। তারা মানুষের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছে, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। এটা তাদের নিষিদ্ধ হওয়ার বড় কারণ।
অন্তর্বর্তী সরকার নয় মাস পরে কেন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিলো, সে বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জুলাই–আগস্টের গণআন্দোলন ঠেকাতে আওয়ামী লীগ সরকারের দমন–পীড়ন নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। নিষিদ্ধের জন্য বিশ্বজুড়ে সাপোর্ট ছিল। এ সিদ্ধান্তের পরে পুরো দেশ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শকির দলগুলো ও সহযোগী জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা, জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে কিন্তু আওয়ামী লীগের মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ সুস্পষ্ট রয়েছে, অন্য দলগুলোর ভূমিকা সেভাবে আসেনি। হত্যা-গুম সবকিছু শেখ হাসিনার নির্দেশে হয়েছে। এজন্য আওয়ামী লীগ সুস্পষ্টভাবে দায়ী।
তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ প্রচুর পরিমাণ লুটপাট করেছে। কোম্পানি ইসলামি ব্যাংক থেকে ৭৫ হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের একজন কবিতা পাঠ করেন, তিনিও ফামার্স ব্যাংক থেকে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। এভাবে দেশের বিশাল সম্পদ লুট হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সময় গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সিসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের সুবিধা পাওয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, আপনি দেখেন যে, এখানে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনও হস্তক্ষেপ বা ভূমিকা আছে কিনা? আর যেসব প্রতিষ্ঠানের কথা বলছেন সেইগুলো কোনটাই কি ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত কিনা? এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তার কোনও শেয়ার আছে? এসব প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি কোনও সুবিধা পান? আসলে কী এগুলো ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠান? গ্রামীণ নামটা না হয় ড. ইউনূস দিয়েছেন। তিনি তো এসব প্রতিষ্ঠানের একটা শেয়ারের মালিক কিনা? উনার ব্যক্তিগত কোনও সম্পত্তি আছে? কেউ দেখাতে পারবেন?
তিনি বলেন, আপনারা বের করে দেখান যে এসব প্রতিষ্ঠান পাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা বা সরকার কোনও ভূমিকা রেখেছে। আমি সবাইকে এসব বিষয়ে তদন্ত করার অনুরোধ জানাই।
প্রেস সচিব বলেন, গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি ২০০৯ সালে আবেদন করেছিল। ওই সময়ে ড. ইউনূস সৌদি আবর গিয়েছিলেন, সেখানে সৌদি ও জার্মানের একটা হাসপাতালে চেইন তাকে বলেছেন আপনি নার্স এবং হাসপাতাল স্টাফ পাঠান। তারা বাংলাদেশের নিয়মিত কর্মী এজেন্সির মাধ্যমে নেবে না।
কারণ ড. ইউনূসের মাধ্যমে নিলে খরচ সীমিত পর্যায়ে থাকবে। সেই আলোকে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তারা অনুমোদন দেয়নি। এখন ২০২৪ সালের পর যদি লাইসেন্সের অনুমোদন পায় তাহলে দোষ কি? বাংলাদেশে এই রকম সাড়ে ৩ হাজার এজেন্সি আছে।
তিনি বলেন, ড. ইউনূস গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় করতে চেয়েছিলেন ২০১২-১৪ সালের মধ্যে। ২০১৪ সালে পূর্বাচলে ২ থেকে ৩ শত বিঘা জমি কেনা হয়েছিল। তখন যতবারই বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কাছে আবেদন নিয়ে গিয়েছিলেন, ততবারই তারা বলেছিলেন আবেদন জমা দিয়েন না। আমরা অনুমতি দিতে পারবো না। গত ৬ মাস অডিট করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

