জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ নিয়ে প্রায় ১৯০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার ও ঋণের প্রায় ৩৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান ও তার ছেলে বেক্সিমকো এলপিজি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমানসহ ১৯ জনকে আসামি করে দুইটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের উপপরিচালক কমলেশ মন্ডল বাদী হয়ে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
একটি মামলায় আসামির তালিকায় আছেন সালমান এফ রহমান ও তার ছেলে আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমান, ইনডেক্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি লিমিটেড ও অ্যাগ্রো ইনডেক্স লিমিটেডের সাবেক এমডি জাকিয়া তাজিন, আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমানের ছেলে এসকর্প হোল্ডিং লিমিটেডের পরিচালক আহমেদ শাহরিয়ার রহমান, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক এক্সিকিউটিভ অফিসার দিপংকর বড়ুয়া, সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট কামরুল ইসলাম চৌধুরী, মুন্সি সারোয়ার জাহান, দিলীপ কুমার দাস ও চন্দন কুমার দাস, সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আনোয়ার হোসেন চৌধুরী ও ম্যানেজার ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
আরেক মামলায় আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ ফজলে আহমেদ ও বদর কামাল, সাবেক ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সামশুল আলম, সাবেক এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট রফিকুল ইসলাম ও ফকরুল আবেদীন, সাবেক ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোস্তফা মাইকেল হাশমী এবং সাবেক ম্যানেজিং ডাইরেক্টর শাহ আলম সারওয়ার। এ মামলায় সালমান এফ রহমান এবং জাকিয়া তাজিনকেও আসামি করা হয়েছে।
একটি মামলায় বলা হয়, আসামিরা যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেক্সিমকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ইনডেক্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি লিমিটেডের নামে লোন মঞ্জুর করেন।
মঞ্জুরিপত্রের এলসি শর্ত ভঙ্গ করে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ৯৮ লাখ ৮২ হাজার ইউএস ডলারের বা ৭৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকার বেশি বিনিময়ে ইনডেক্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির (ইউনিট-২) জন্য ড্রইং ও ডিজাইন নিয়ে আসার জন্য ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড থেকে এলসি খোলা হয়।
অথচ, ড্রইং ও ডিজাইনের পরিবর্তে ভুয়া কাগজ জমা দিয়ে ঋণ নিয়ে সমুদয় টাকা বিদেশে পাচার করেন। এ ছাড়া এলসির ফোর্স লোন ক্রিয়েট করে ৮ বছর পার করেও ব্যাংকের বকেয়া ৩৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বেশি পরিশোধ না করে আত্মসাৎ করেন, যা দুদকের মানিলন্ডারিং আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
অন্য মামলায় বলা হয়, আসামিরা যোগসাজশে অ্যাগ্রো ইনডেক্স লিমিটেডের নামে আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ১৪৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা ঋণ ছাড় করিয়ে মোট ১১৩ কোটি ৪১ লাখ টাকার বেশি পাচার করেন, যা দুদকের মানিলন্ডারিং আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

