ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের জন্য বিশ্বনেতারা দায় এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশের চিকিৎসকেরা। তারা বলেন, গাজায় শিশু থেকে বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ কেউই ছাড় পাচ্ছে না। এমনকি চিকিৎসকদেরও তারা চিকিৎসাসেবা দিতে দিচ্ছে না, চিকিৎসকদের হত্যা পর্যন্ত করছে। প্রয়োজনে গাজাবাসীদের জন্য চিকিৎসকেরা আরো রক্ত দেবে। তবুও ইসরাইলের মুক্তির জন্য আমরা লড়বো, ইসরাইলের গণহত্যার নিন্দা জানাবোই।
সোমবার বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন ও শাহবাগে ‘মার্চ ফর গাজা’ সমাবেশে চিকিৎসকেরা এসব কথা বলেন।
এতে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ), মেডিকেল দাওয়া সোসাইটি, বাংলাদেশ মেডিকেল কমিউনিটি, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (বিএমইউ), ইউনাইটেড মেডিকেল অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশ (ইউমব), চিকিৎসক ঐক্য পরিষদসহ অন্যান্য চিকিৎসক সংগঠন অংশ নেয়।
এ সময় ‘ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘বিশ্ব মুসলিম লড়াই করো ফিলিস্তিন মুক্ত করো, ইসরাইল নিপাক যাক, ফিলিস্তিন মুক্তি পাক, বদরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন চিকিৎসকেরা।
এ সময় এনডিএফ'র জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন বলেন, আমাদের হৃদয়ে আজ রক্তক্ষরণ হচ্ছে। দশকের পর দশক ধরে একটা জাতির ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে গত দেড় বছর ধরে তা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। অথচ বিশ্ব নেতারা চুপ। ইসরাইল শিশুদেরও হত্যা করতে ছাড়ছে না। এর দায় বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এড়াতে পারে না।
তিনি বলেন, এমন নারকীয় গণহত্যা বিশ্ব বিবেক এটা মেনে নিতে পারে না। এ হত্যাযজ্ঞ চালাতে দিলে পরবর্তী সভ্যতার কাছে কী জবাব দেব আমরা। এ পশ্চিমা সভ্যতা মানুষের বিশেষ করে নারী ও শিশুর অধিকারের, মানবাধিকারের কথা বলে কিন্তু নিজেরা সহযোগিতা দিয়ে গণহত্যা চালাচ্ছে। তাদের সভ্যতার খোলস উম্মোচিত হয়েছে। অথচ মুসলিমরা যতদিন পৃথিবীর নেতৃত্ব দিয়েছে কোথাও এমন হত্যাযজ্ঞের নজির নেই। আগামী দিনে মুসলিমরা আবারও বিশ্বের নেতৃত্ব দেবে।
এনডিএফ নেতা বলেন, আমাদের প্রতিবেশী দেশও তাদেরকে সমর্থন ও সহযোগিতা দিচ্ছে। নিরিহ মানুষের ওপর হামলার প্রায়শ্চিত্ত তাদেরকেও করতে হবে। আমরা ইসরাইলকে বয়কট করবো। তাদের কর্মকাণ্ডকে ঘৃণা করবো, তাদের পণ্য বয়কট করবো।
বিএমইউ’র সহকারী অধ্যাপক ও এনডিএফ বিএমইউ'র সভাপতি ডা. আতিয়ার রহমান বলেন, বিশ্ব কী দেখে না এই তাণ্ডব? তারা চিকিৎসকদেরও রেহাই দিচ্ছে না। চিকিৎসকেরা আজ এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের চিকিৎসক প্রয়োজন হলে রক্ত দেবে, গাজার জন্য আমরা প্রস্তুত থাকব। এমন গণহত্যা দেখেও চিকিৎসকেরা কোনোভাবেই নিরব থাকবে না। তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ আমরা করবোই।
ইউমব আহ্বায়ক ডা. মুবারক হোসেন বলেন, পৃথিবীর দেশে দেশে যারা মানবতার ফেরি করে বেড়ায় আজ তারাই সবচেয়ে বড় মানবাধিকার হরণকারী। তারা না দেখছে নারী, না শিশু, না বয়স্ক। মুসলিমদের আজ জেগে ওঠার সময় হয়েছে। এক কাতারে এসে দাঁড়াতে হবে। চিকিৎসকেরাও এগিয়ে এসেছে। আমরা ফিলিস্তিনিদের একা ছাড়বো না। ফিলিস্তিনের এ মুক্তির লড়াই অব্যাহত থাকবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

