অর্থপাচারের মতো অতি উচ্চমাত্রার দুর্নীতি তদন্তের ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে বিভিন্ন এজেন্সির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে আলাদা টাস্কফোর্স গঠন করা এবং ‘স্বাধীন’ ও ‘সাংবিধানিক’ স্বীকৃতি দেওয়াসহ সংস্থাটির সংস্কারে দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশন ৪৭টি সুপারিশ করা হয়েছে।
শনিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে সংস্কার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। গত ১৫ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল সংস্কার কমিশন। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে বিগত আওয়াম লীগ সরকারকে চৌর্যতান্ত্রিক (ক্লেপ্টোক্রেটিক) সরকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুপারিশে বলা হয়েছে, বর্তমানে পরিচালিত প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের সাফল্য ও ব্যর্থতার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় দুদককে একটি দুর্নীতি প্রতিরোধী কর্মকৌশল প্রণয়ন করতে হবে এবং তদনুযায়ী স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিশেষ করে দুর্নীতি যে শুধুমাত্র শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়, বরং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সকল ধর্মীয় মানদণ্ডে একটি অগ্রহণযোগ্য, ঘৃণ্য, বৈষম্যমূলক, ধ্বংসাত্মক ও বর্জনীয় ব্যাধি। এই মানসিকতার বিকাশে সকল সম্ভাব্য, আকর্ষণীয় ও উদ্ভাবনী মাধ্যম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কৌশলগত এবং টেকসই প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনায় দুদককে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের প্রতিটি জেলায় পর্যায়ক্রমে পর্যাপ্ত লজিস্টিক সক্ষমতাসহ দুদকের জেলা কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক ও উন্মুক্ত প্রক্রিয়ায় সচিব নিয়োগের বিধান করতে হবে। তবে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা বিজ্ঞাপিত পদের জন্য যোগ্য বিবেচিত হলে, মাতৃ সংস্থা থেকে ছুটি সাপেক্ষে তিনি দুদকের সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেতে পারেন।
মহাপরিচালক ও পরিচালক পদগুলোর (প্রেষণে বদলির মাধ্যমে নিযুক্ত মহাপরিচালক ও পরিচালক ব্যতীত) সব নিয়োগ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক ও উন্মুক্ত প্রক্রিয়ায় হতে হবে। তবে বিজ্ঞাপিত যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণকারী দুদকের অভ্যন্তরীণ প্রার্থীদের জন্য মহাপরিচালক পদের ৬০ শতাংশ ও পরিচালক পদের ৭৫ শতাংশ সংরক্ষিত রাখতে হবে।
মহাপরিচালক, পরিচালক ও উপপরিচালক -প্রতিটি স্তরে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পদের নিয়োগ প্রেষণে বদলির মাধ্যমে হতে পারে। তবে তদন্ত, প্রসিকিউশন বা বিচারের স্বার্থে বিচার বিভাগ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে প্রেষণে আসা কর্মকর্তারা এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবেন না। আইনে উল্লিখিত স্থায়ী প্রসিকিউশন ইউনিট গঠনের জন্য অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে কিছুসংখ্যক স্থায়ী প্রসিকিউটর (১০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ) নিয়োগের মাধ্যমে আইনের আংশিক বাস্তবায়ন শুরু করা যায় এবং পরবর্তী সময়ে প্রতি বছর ১০ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ চুক্তিভিত্তিক আইনজীবীর পদ স্থায়ী প্রসিকিউটর দ্বারা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৩৩ (১) পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
এমএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

