সরকারি চাকরি অধ্যাদেশের বিষয়টি সামনে এনে সচিবালয়ের মাধ্যমে দেশে একটি ‘সিভিল ক্যু’ করার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জুলাই ঐক্য দাবি করেছে, অবিলম্বে ৪৪ জন আমলা এবং ৯৫ জন ম্যাজিস্ট্রেটসহ যারা সচিবালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। মঙ্গলবার প্ল্যাটফর্মটির সংগঠক মুসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২০ মে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বিগত ১৬ বছরে ভারতের প্রক্সি শেখ হাসিনার হয়ে বাংলাদেশে কাজ করা ৪৪ জন আমলা এবং ৯৫ জন ম্যাজিস্ট্রেটের তালিকা প্রকাশ করে জুলাই ঐক্য। জুলাইয়ে ছাত্রজনতার ওপর গুলি চালানোর জন্য এসব সরকারি কর্মকর্তাদের ৩১ মে’র মধ্যে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর দাবি জানানো হয়।
তারা বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি— আল্টিমেটামের সময় যখন এগিয়ে আসছে, তখন সরকারি চাকরি অধ্যাদেশের বিষয়টি সামনে এনে সচিবালয়ের মাধ্যমে দেশে একটি ‘সিভিল ক্যু’ করার চেষ্টা চলছে। আমরা প্রধান উপদেষ্টা এবং মন্ত্রিপরিষদের সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বৈষম্য দূর করতেই জুলাইয়ের আন্দোলন হয়েছিল। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমলারা জুলাইয়ের সকল আশা আকাঙ্ক্ষাকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে। অবিলম্বে ৪৪ জন আমলা এবং ৯৫ জন ম্যাজিস্ট্রেটসহ যারা সচিবালয়ে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।’
প্ল্যাটফর্মটি মনে করে, অন্তর্বর্তী সরকারের করা ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ নতুন বাংলাদেশের জন্য সময়োপযোগী একটি সিদ্ধান্ত। তারা সতর্ক করে বলেন, ‘যদি সরকার এই সিদ্ধান্ত থেকে সামান্যতম সরে আসার চেষ্টা করে, তাহলে আবারও ছাত্রজনতা বাংলাদেশ অচল করে দিতে একবারও ভাববে না।’
জুলাই ঐক্য জানায়, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ছাত্রজনতা হাসিনা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করলেও তার দোসররা এখনও দেশকে জিম্মি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান সচিবালয়ে সকল প্রকার কার্যক্রম বন্ধ রেখে আন্দোলন করেছে শেখ হাসিনার সহকারী আমলারা। তারা টানা ৪ দিন সচিবালয়কে জিম্মি করে দেশকে অচল করার পরিকল্পনা করেছে। জুলাই ঐক্য মনে করে, সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ নিয়ে সচিবালয়ে এবং বাইরে থাকা আমলারা জুলাইয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘প্রায় ২ হাজার শহীদ এবং ৩১ হাজার আহত ছাত্রজনতার রক্তের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা কাজ করে যাচ্ছেন, তা বিঘ্নিত করতেই কাজ করছে আমলারা। এর পেছনে কয়েকজন উপদেষ্টাও জড়িত। গণঅভ্যুত্থানের পর বিপ্লবী সরকার কথা থাকলেও একজন উপদেষ্টাসহ কয়েকজন মিলে তা হতে দেয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার যদি ‘সিভিল ক্যু’র মাধ্যমে জুলাইয়ের স্পিরিটকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে, তাহলে পরবর্তী দায়ভার অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টাদের বহন করতে হবে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

