‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে এফএসডিএসের যাত্রা শুরু

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে এফএসডিএসের যাত্রা শুরু

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (এফএসডিএস) নামে একটি থিংক ট্যাংকের যাত্রা শুরু হয়েছে। গবেষণামূলক এ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর। প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রে সুশাসন, জাতীয় নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং পলিসি কর্মকৌশল নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ‘থিংক ট্যাংক’ হিসেবে গবেষণা কাজ করবে।

গতকাল রোববার রাতে রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনের বলরুমে প্রতিষ্ঠানটির আত্মপ্রকাশের এ অনুষ্ঠান হয়।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, আইনজ্ঞ অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান বক্তব্য দেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লাহ, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মাহাদী আমিন, শামা ওবায়েদ, মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, শায়রুল কবির খান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, দেশ রূপান্তরের সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া সাবেক পুলিশপ্রধান আশরাফুল হুদা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ অবসরপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারাও ছিলেন এ অনুষ্ঠানে। অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য দেন মেজর জেনারেল এম আবুল কালাম।

অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য তুলে ধরে এফএসডিএসের চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় চেতনাকে সমুন্নত রেখে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু, সামরিক এবং বেসামরিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণে আমরা কাজ করে যাব।’

তিনি আরো বলেন, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আমাদের স্বাধীন মাতৃভূমি পেয়েছি। গত দশকগুলোতে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ সীমাহীন দুর্নীতির চিত্র দেখেছি আমরা গত ১৫ বছরে। এ সময়ে আমাদের নির্বাচনব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষমতাসীনদের হাতের পুতুলে পরিণত হয়। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিরোধীদলের ওপর যে নির্মম ক্র্যাকডাউন চালানো হয়, তার ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিকাঠামো একপ্রকার ধ্বংস হয়ে যায়। তৎকালীন ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারী সরকার শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে জেনারেল আকবর বলেন, ‘প্রচণ্ড ক্রোধ নিয়ে অবশেষে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে আসেন। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে লিপ্ত হয় সংঘাতে। ন্যায়বিচার এবং একটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য লড়াকু এই ছাত্র-জনতা অবশেষে বিজয়ী হন। এটা আগামীর বাংলাদেশ গঠনের ক্ষেত্রে একটি টার্নিং পয়েন্ট।’

বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করলে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অবস্থানগত দিক থেকে বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম। আঞ্চলিক সহযোগিতাকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সার্ক এবং বিম্সটেক উভয়ের সঙ্গে যুক্ত আছে বাংলাদেশ। টেকসই উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে আসিয়ানের মতো সংস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়াটা জরুরি।’

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলো বিশেষ করে ভারত এবং মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোর পাশাপাশি অন্যান্য আঞ্চলিক ইস্যুগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।’

বাংলাদেশের জন্য নিরাপত্তা হুমকির বিষয় তুলে ধরে জেনারেল আকবর বলেন, ‘এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সামনে অনেকগুলো নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী, পার্বত্য চট্টগ্রামের চলমান উত্তেজনা, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং সন্ত্রাসবাদের হুমকি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।’

আগামী দিনে বাংলাদেশকে সঠিকভাবে এগিয়ে নিতে জাতীয় পর্যায়ে সঠিক এবং দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি একটি উন্নত প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন