আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওপর নতুন করে চাপ বাড়ল। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ভোটাধিকারের জন্য অনলাইন ভোটিংয়ের (ই-ভোটিং) প্রতি আস্থা রেখে বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল লিখিত মতামত দেওয়ায় এই চাপ তৈরির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে কম মতামত পাওয়া গেছে ‘প্রক্সি’ ভোটের পক্ষে; যেটির প্রতি বেশি আগ্রহ ছিল ইসির।
কমিশনের নির্ভরযোগ্য এক কর্মকর্তা জানান, সত্যিকার অর্থে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে চাইলে অবশ্যই উত্তম পদ্ধতি ‘প্রক্সি’ ভোট। এর বাইরে ই-ভোটিং কিংবা পোস্টাল ব্যালট- যেটিই বলুন না কেন তাতে নানা জটিলতা রয়েছে। ওই কর্মকর্তা আক্ষেপ করে জানান, এবার যদি প্রবাসীরা ভোট দিতে না পারে, তাহলে আজীবনের জন্য তাদের স্বপ্ন ভঙ্গ হবে।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার প্রয়োগে কোন পদ্ধতিটি জুতসই, সে বিষয়ে মতামত নিতে গত ২৯ এপ্রিল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একদিনের সংলাপ করে ইসি। সংলাপে ২৫টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। দলগুলোকে ১৫ দিন সময় দিয়ে লিখিত মতামত জানাতে বলা হয়। ইতোমধ্যে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল মতামত দিয়েছে বলে রাজনৈতিক দল ও ইসি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, সংলাপে অংশ নেওয়া ২৫ রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২২টি মতামত দিয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সময় চেয়েছে। মতামত দেয়নি বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)।
এর মধ্যে অনলাইনে অর্থাৎ ই-ভোটিংয়ের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে আটটি রাজনৈতিক দল, পোস্টাল ব্যালটের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে ছয়টি দল, প্রক্সি ভোটের পক্ষে মত তিনটি দলের। এ ছাড়া ইসির সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা জানিয়েছে একটি দল। বাকি চারটি দল ই-ভোটিং ও পোস্টাল ব্যালটের প্রতি মিশ্র সমর্থন জানিয়েছে।
এর আগে এএমএম নাসির উদ্দিনের কমিশন প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট পদ্ধতি নিয়ে গত ৮ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি), সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি কর্মশালা করে। সেখানে তিনটি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়। পদ্ধতিগুলো হলো- অনলাইন ভোট, প্রক্সি ভোট ও পোস্টাল ব্যালট। এরপর ইসি সচিবালয় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদদের নিয়ে ‘অ্যাডভাইজরি টিম’ গঠন করে। এমআইএসটি, ঢাবি ও বুয়েট তিনটি পদ্ধতি নিয়ে তিনটি প্রতিবেদনও দিয়েছিল কমিশনে। এর আলোকে গত ২৯ এপ্রিল একদিনের সংলাপ করে ইসি।
ইসির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক ঐকমত্যে পৌঁছাতে দলগুলোর মতামত পর্যালোচনার পর আরেকটি জাতীয় সংলাপ আয়োজন করার চিন্তা রয়েছে। কারণ প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হলে ‘প্রক্সি’ ভোট উত্তম। বাকিগুলোর ক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যালট একেবারেই অসম্ভব। আর অনলাইনে ভোটিংয়ে বিদ্যুৎসহ নানা জটিলতার পাশাপাশি হ্যাকিংয়ের কবলে পড়ার আশঙ্কা বেশি।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ আমার দেশকে বলেন, অংশীজনদের মতামত বা পরামর্শ পর্যালোচনা করে আগামী মাসের মধ্যেই প্রবাসীদের জন্য ভোটের পদ্ধতি চূড়ান্ত করার চেষ্টা রয়েছে। তিনি জানান, সত্যিকার অর্থে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য প্রক্সি ভোটের বিকল্প নেই। অন্যগুলোর ক্ষেত্রে পাইলট প্রকল্পসহ নানা উদ্যোগ নিতে হবে। বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল ই-ভোটিংয়ের পক্ষে মতামত দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইসির করণীয় জানতে চাইলে আখতার আহমেদ বলেন, এখনো আমি জানি না, কে কী মতামত দিয়েছেন। যদি বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল ই-ভোটিংয়ের পক্ষে মত দেয় তাহলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জ হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


