জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ছিল শনিবার। সারাদেশের বিভিন্ন কলেজে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সহায়তায় ক্যাম্পাসগুলোর সামনে হেল্পডেস্ক বসিয়েছিল ইসলামী ছাত্রশিবির। তাতে বাধা দেয় ছাত্রদল ও স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও রংপুরে দুটি ঘটনায় শিবির নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। আটক করা হয়েছে দুজনকে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা বলেন, চট্টগ্রাম কমার্স কলেজের সামনে হেল্পডেস্কে বসেছিলেন ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা। সেখানে আগত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বসে বিশ্রাম নেওয়া, পানি পান, ব্যাগসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র রাখা ও তথ্য জানার ব্যবস্থা ছিল। ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী সেখানে গিয়ে বলেন, হেল্পডেস্ক চালানো যাবে না। এরপরও কর্মসূচি চালিয়ে গেলে আকস্মিক হামলা চালান ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এতে চারজন আহত হন।
আহতরা হলেন- শিবিরের মহানগর দক্ষিণ কলেজ শাখার সম্পাদক মোজাহেরুল ইসলাম, কামরুজ্জামান জীবন ও আবদুল হাদী রাহি। তাদের চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শিবিরের মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইব্রাহিম রনি বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক প্রচার করিনি। কেবল ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সাহায্য করছিলাম। এমন শান্তিপ্রিয় কর্মসূচিতে যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের বিচার চাই।’
তবে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম বলেন, আগে-পরে দাঁড়ানো নিয়ে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে। পরে দুই সংগঠনের কর্মীরাই একসঙ্গে কাজ করেছেন। হামলার অভিযোগ সঠিক নয়।
ডবলমুরিং থানার ওসি কাজী বিধান আবিদ বলেন, হালকা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
এদিকে নগরীর ইসলামিয়া কলেজেও অনুরূপ কর্মসূচি পালন করে ছাত্রশিবির। সেখানেও বাধা দেন ছাত্রদলের কর্মীরা। সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শিবিরের এক কর্মী ছাত্রদলের একজনকে বুকে জড়িয়ে ধরে অনুরোধ করছেন, ‘ভাই, একটু সহযোগিতা করুন। আমরা তো ভুল কিছু করছি না।’
রংপুরেও শিবিরের অনুরূপ কর্মসূচিতে হামলা হয়েছে। নগরীর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রাখার জন্য তৈরি হেল্পডেস্কে হামলা চালান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। গতকাল নগরীর হনুমানতলা রোডের চিড়িয়াখানার সামনে এ হামলায় ছয়জন আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে আশপাশের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন- স্থানীয় যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের অনুসারী রিয়াজুল ও সোহেল।
রংপুর মহানগর ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে রংপুরের যেসব কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা হয় সেসব স্থানে আমরা বিনা মূল্যে হেল্পডেস্ক স্থাপন করি। আর পাশেই কিছু ব্যবসায়ীও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সেখানে অনুরূপ সেবা দিচ্ছিলেন। আমাদের হেল্পডেক্সের কারণে তাদের ব্যবসা বন্ধ হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালানো হয়।
কোতোয়ালি থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, শিবিরের হেল্পডেস্কে ব্যবসায়ীদের হামলার ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ। ইতোমধ্যে জড়িতদের দুজনকে আটক করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

