হাসিনার আমলে চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যদের পুনর্বহালের দাবি

হাসিনার আমলে চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যদের পুনর্বহালের দাবি

ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যদের চাকুরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে ভিকটিম পুলিশ পরিবার।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়েছে। এসময় বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে অন্যায়ভাবে প্রায় ২২০০ পুলিশ সদস্যকে চাকুরিচ্যুত করার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের মনে চাকুরি হারানোর আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে ১৫২২ জন পুলিশ সদস্যকে চাকরিতে পুনর্বহালের মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ হয়। ফলে এই সংবাদকে মিথ্যা আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে তারা।

ভিকটিম পুলিশ পরিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চাকরিচ্যুত এই পুলিশ সদস্যরা বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের পতন ঘটেছে। এই দীর্ঘ সময়ে স্বৈরশাসক দেশের সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ।

চাকুরি হারানোর ভয় দেখিয়ে পুলিশের নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছিলো এরই ফলস্বরূপ জুলাই-আগষ্ট বিপ্লবে পুলিশ বাহিনীর কিছু সিনিয়র দানবদের অবৈধ আদেশ পালন করে চাকুরি বাঁচাতে অধীন জুনিয়র সদস্যরা অনিচ্ছা স্বত্বেও গণহত্যার মতো অপরাধ করতে বাধ্য হয়।

তারা বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীর বেশিরভাগ সিনিয়র কর্মকর্তা পুলিশ বাহিনীকে ভয়ংকর দানবে পরিণত করতে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে চাকুরিচ্যুত করেছে। বিভাগীয় মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে ন্যায় সংগত কোনোপ্রকার প্রসিডিউর অনুসরণ করেনি। তদন্তকারী কর্মকর্তা, তদন্ত, মিথ্যা সাক্ষ্যগ্রহণ সহ সকল কিছুতেই তাদের পক্ষের একতরফা নীতি অনুসরণ করেছে। তারা এমনভাবে মামলা সৃজন করেছে যেন, আদালত থেকেও কোনোভাবে বিবাদী নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে না পারে। বিজ্ঞ আদালত হতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় রায় পাওয়ার পরেও আমাদেরকে চাকুরিতে পুনর্বহাল করেনি।

চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যরা আরও বলেন,

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না থাকা স্বত্বেও রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতাল ও অন্যান্য অনুমোদনহীন হাসপাতাল থেকে ডোপ টেস্টের মাধ্যমে নিরীহ পুলিশ সদস্যদেরকে চাকুরিচ্যুত করেছে। বেশিরভাগ চাকুরিচ্যুত পুলিশ সদস্য ঐদিনই ঢাকা মেডিকেল ও পিজি হাসপাতাল থেকে ডোপ টেস্টের নেগেটিভ রিপোর্ট জমা দিলেও তা গ্রহণ করেনি। ডোপ টেস্টে যারা মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ দিয়েছে বা যারা স্বৈরাচারী সরকারের লোক ছিল তাদেরকে চাকুরিতে বহাল রেখেছেন। আর যারা টাকা দিতে পারেনি তাদেরকে চাকুরিচ্যুত করেছেন। যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে কমেন্ট করেছেন তাদেরকে অন্যায়ভাবে চাকুরিচ্যুত করেছেন।

তারা বলেন, বিগত স্বৈরাচারী দোসরদের রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে কিছু পুলিশ সদস্য কে চাকুরিচ্যুত করতে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে মাদক ও অস্ত্র দিয়ে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দিয়েছেন। পুলিশ বাহিনীর কিছু অসাধু কর্মকর্তা নিজেদের পরিচিত লোকের মাধ্যমে মিথ্যা, ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে অসংখ্য পুলিশ সদস্যকে চাকুরিচ্যুত করেছেন। ২০০৭ সালে সাবেক আইজিপি জনাব নূর মোহাম্মদ স্যার বিভাগীয় মামলার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন শাস্তি প্রদানের প্রজ্ঞাপন জারি করেন। কিন্তু স্বৈরাচারী সরকারের দোসরার আওয়ামী অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে ছোটখাটো অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি চাকুরিচ্যুত করেছেন।

তারা আরও বলেন, অন্তবর্তীকালীন সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার অব: এম সাখাওয়াত হোসেন মানবিক বিবেচনায় সকল পুলিশ সদস্যকে পুনর্বহালের আদেশ প্রদান করার পরেও স্বৈরাচারী সরকারের নিয়োজিত দোসররা তা বাস্তবায়নে বাধা প্রদান করছেন। অনেক পুলিশ সদস্যকে চাকুরিচ্যুত করার পর যদি বিজ্ঞ আদালতে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চায় তাহলে গুম খুনের হুমকি দিয়েছেন। এসবের ভয়ে অনেক পুলিশ সদস্য আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেনি। অনেক পুলিশ সদস্যকে জোরপূর্বক অথবা স্বাক্ষর জাল করে চাকরি হতে সেচ্ছায় অবসর বা বাধ্যতামূলক অবসর গ্রহণ করতে বাধ্য করেছে। পুলিশ প্রধান পি,আর, বি ৮৮৪ প্রবিধান মতে সকল চাকুরিচ্যুত পুলিশ সদস্যকে পুনর্বহালের ব্যবস্থা গ্রহণ করার ক্ষমতা থাকলেও বিগত স্বৈরাচারী দোসরদের বাধার কারণে তাহা প্রয়োগ হচ্ছে না।

চাকরি পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে এই পুলিশ সদস্যরা বলেন, আজকে যখন গণ-অভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরশাসক পালিয়ে গেছে তখন পুলিশ বাহিনীর কিছু পুরাতন দোসর আমাদেরকে চাকুরিতে পুনর্বহাল করার কথা দিয়েও তালবাহানা করছে। আমরা বর্তমান সরকারের বিনীত আবেদন জানাচ্ছি, আমাদেরকে সকল সুযোগ-সুবিধা সহ চাকুরিতে পুনর্বহাল কর। হোক এবং বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী থেকে স্বৈরাচারের দোসরদের অপসারণ করা হোক।

সংবাদ সম্মেলনে ভিকটিম পুলিশ পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন, ভিকটিম পরিবারের সমন্বয়ক এস আই মামুন, সমন্বয়ক এস আই জাকারিয়া, মুখপাত্র এ এস আই তৌহিদ মন্ডল,

ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক এ এস আই সাইফুল, সমন্বয়ক

কনস্টেবল সাদ্দাম হোসেন, সমন্বয়ক কনস্টেবল আরাফাতসহ আরও অনেক চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

এমএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন