ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই সহজ নয়, এটি এখন বড় চ্যালেঞ্জ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার

ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই সহজ নয়, এটি এখন বড় চ্যালেঞ্জ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ডেঙ্গু এখন আর সাধারণ কোনো রোগ নয়, এটি জাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলা এখন কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা হাসপাতালের দায়িত্ব নয় বরং সমাজের সব স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।

রোববার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন আয়োজিত ‘ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট অব ডেঙ্গু’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে ‘টোটাল ফাইট’ আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি নালা-নর্দমা, ডোবা, জলাবদ্ধ স্থান এবং কচুরিপানাযুক্ত এলাকা পরিষ্কার না করলে এই যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। একক কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির পক্ষে এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়; প্রয়োজন সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ।

ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচির বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বাস্তবায়নও কঠিন। যদি ব্যাপক ভ্যাকসিনেশনে যেতে হয়, তাহলে বিপুল বাজেট প্রয়োজন হবে। চার মাস পরপর টিকা দেওয়ার প্রয়োজন হলে দেশের স্বাস্থ্য বাজেটের ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি হবে। তাই চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এবার শুধু রাজধানীর বড় হাসপাতালই নয় বরং দেশের সব হাসপাতালকে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। রোগীদের চিকিৎসাসেবায় কোনো ঘাটতি না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলেও সাধ্যমতো সবার চিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে।

চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ডেঙ্গু চিকিৎসায় দক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। এজন্য চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় উপকরণ মজুদ দরকার। আমরা ইতোমধ্যে প্রায় আড়াই লাখ স্যালাইন সংগ্রহ করেছি। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই প্রয়োজনীয় স্যালাইনের বড় অংশ হাতে চলে আসবে।

অনুষ্ঠানে বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে প্রতি মুহূর্তে সতর্ক থাকা জরুরি। নিয়মিত সিবিসি পরীক্ষা এবং প্লাজমা লিকেজ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন করতে হবে। প্লাজমা লিকেজ বেড়ে গেলে রোগী দ্রুত শকে চলে যেতে পারে, যা জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করে।

কর্মশালায় আরো বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ইউনিসেফ বাংলাদেশের হেলথ ম্যানেজার ড. রিয়াদ মাহমুদ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। কার্যক্রমটি সামগ্রিকভাবে সমন্বয় করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হালিমুর রশিদ।

এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...