শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের প্রস্তাবনা

বাজেটের ১০ শতাংশ শ্রমিকদের কল্যাণে বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন

স্টাফ রিপোর্টার

বাজেটের ১০ শতাংশ শ্রমিকদের কল্যাণে বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন

আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে মোট বরাদ্দের অন্তত ১০ শতাংশ শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন বলে মনে করে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সত্যিকার অর্থে শ্রমিকবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক করতে হলে বাজেটের দর্শন পরিবর্তন করতে হবে। কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি নয়, বরং মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়। আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক বৈষম্য হ্রাস এবং শ্রমিকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই হোক আগামী বাজেটের মূল দর্শন।

বিজ্ঞাপন

রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে শ্রমিক বান্ধব বাজেটের রূপরেখা উপস্থাপনা অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করা হয়। রূপরেখাটি উপস্থাপন করেন সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট অতিকুর রহমান।

এ সময় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক বাজেট প্রস্তাবনায় বলা হয়- বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রথম জাতীয় বাজেট ছিল ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। দীর্ঘ পাঁচ দশকের অর্থনৈতিক যাত্রায় দেশের বাজেটের আকার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দাঁড়ায় প্রায় ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকায়। পরবর্তীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের উপস্থাপিত নিয়ন্ত্রিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয় প্রায় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে বাজেটের পরিধি বৃদ্ধি পেলেও শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং শ্রমিক কল্যাণভিত্তিক পরিকল্পনা এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।

এ সময় আরো বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণের প্রত্যাশা একটি গণমুখী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শ্রমিকবান্ধব বাজেট। মধ্যবিত্ত, কৃষক, শ্রমিক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, চাকরিপ্রার্থী ও প্রবাসী শ্রমিক-সব শ্রেণির মানুষ এবারের বাজেটের দিকে তাকিয়ে আছে। বর্তমান অর্থনীতিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, খাদ্যদ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার, বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং শিল্পখাতে অনিশ্চয়তা সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মূল্যস্ফীতির হার দীর্ঘ সময় ধরে ৯ শতাংশের উপরে অবস্থান করছে, যেখানে শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অপরদিকে দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ এখনো অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত, যারা সামাজিক নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি ও স্বাস্থ্যসেবার বাইরে রয়ে গেছে।

এ বাস্তবতায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটকে শুধু প্রবৃদ্ধিমুখী নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক এবং শ্রমিককেন্দ্রিক হতে হবে। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা প্রদান ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সে লক্ষ্যে নিম্নোক্ত প্রস্তাবনাগুলো একটি আধুনিক, মানবিক ও শ্রমিকবান্ধব বাজেট প্রণয়নের ভিত্তি হতে পারে।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক লস্কর তছলিমের সঞ্চালনায় এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন- সহ সভাপতি কবির আহাম্মেদ, গোলাম রাব্বানী ও মুজিবুর রহমান ভূইয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক মুহিবুল্লাহ ও আক্তারুজ্জামান দপ্তর সম্পাদক নুরুল আমিন, কোষাধ্যাক্ষ আজহারুল ইসলাম, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক জামিল মাহমুদ, প্রচার সম্পাদক হাফিজুর রহমান, বিটিসিএল আদর্শ ট্রেড ইউনিয়ন সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রমুখ।েএএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন