পিএসসি সংস্কারের দাবিতে শাহবাগ অবরোধ

পিএসসি সংস্কারের দাবিতে শাহবাগ অবরোধ

সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সংস্কারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় ব্লকেড করেছে একদল চাকরিপ্রত্যাশী একদল শিক্ষার্থী। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এই ব্লকেড করা হয়। এ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

সূত্রমতে, সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগ অবরোধ করেন তারা। রাত পৌনে ৯টায় এ রিপোর্ট পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত ছিল। এসময় তারা ‘জুলাইয়ের অঙ্গীকার, পিএসসির সংস্কার’, ‘যদি হয় প্রশ্নফাঁস, পড়ব কেন বারো মাস’সহ নানা স্লোগান দেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ চলবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। তাদের আশা পিএসসি তাদের দাবিগুলো মেনে নেবে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ২৪ এপ্রিল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশন করন কয়েকজন চাকরিপ্রত্যাশী। সংস্কারের দাবিতে সরকারকে দেওয়া তাদের আলটিমেটামের শেষ দিন ছিল রোববার।

আন্দোলনকারীরা ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন নতুন করে তৈরি, প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর পদক্ষেপ, নিয়োগ জট নিরসন এবং ৪৪তম বিসিএসের ফল প্রকাশের পর ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানান।

তাদের অন্যান্য দাবির মধ্যে আরো রয়েছে খাতা মূল্যায়নে গতি আনা, নিরপেক্ষতা নিশ্চিতে কমিশনে বসে খাতা দেখার ব্যবস্থা এবং দ্রুত অধ্যাদেশ জারি করে পিএসসির সদস্য সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ জনে বৃদ্ধি করা।

যদিও শিক্ষার্থীদের এ দাবিকে অযৌক্তিক আখ্যায়িত করে আসছে পিএসসি। এছাড়া পিএসসি সংস্কার, প্রশ্নফাঁস রোধসহ ব্যাপক পদক্ষেপের কথা সম্প্রতি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এরপরও শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হবে বলে রোববার রাতে পিএসসির সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস উল্লেখ করেন।

এদিকে পিএসসির সংস্কার চেয়ে চতুর্থ দিনের মতো অনশনরত শিক্ষার্থীদের দেখতে রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে যান উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। পরে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ অবরোধ করেন।

01

আন্দোলনকারীরা বলেন, আমাদের অবস্থান দেখতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এসেছিলেন। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার কোনো ম্যাসেজ দেননি। তিনি ছাত্রপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং আমাদের দাবি-দাওয়া শুনেছেন। তিনি আমাদের ম্যাসেজ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ ৮ তারিখের পরীক্ষা স্থগিত না হওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে। ৮০ ঘণ্টা অনশন থাকা অবস্থায় আমাদের তিন জন ভাইকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) নেওয়া হয়েছে। আসিফ মাহমুদ সজীবকে যখন আমাদের অনড় অবস্থানের কথা জানালাম, তিনি আসিফ নজরুল ও পিএসসির চেয়ারম্যানকে জানালেন।

দুটি পিএসসি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার: সরকার দুটি পিএসসি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। রোববার বিকেল ৪টা ১৯ মিনিটে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, পিএসসি নিয়ে সর্বশেষ ক্যাবিনেট মিটিংয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘসূত্রিতা, অনিয়ম এসব বিষয়ে আলোচনার পর সরকার দুইটি পিএসসি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এই আন্দোলন শুরু হবার পরপরই যারা দায়িত্বে আছে তাদের কাছে ছাত্রদের দাবিগুলো পৌঁছে দিয়েছি।

ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, গত সোমবার আন্দোলনকারীদের একটা টিমের সঙ্গে বসার কথা থাকলেও দুঃখজনকভাবে সেটা হয়ে উঠেনি। তবে ছাত্রদের দাবিগুলো আমার পক্ষ থেকে কনসার্ন অথরিটিকে বারবার পাঠানো হয়েছে।

উপদেষ্টা আরো লিখেছেন, বেকারত্ব নিরসনে এখন পর্যন্ত একক মন্ত্রণালয় হিসেবে পুলিশের পর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় থেকে সর্বোচ্চ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি গিয়েছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান। সামনের কয়েক মাসে আরও অন্তত ১০ হাজার নিয়োগ হবে। পিএসসির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অথবা ডিক্টেট করার অথরিটি আমার নেই। আমার দিক থেকে যতটা সম্ভব করছি, সামনেও করে যাব, ইনশাআল্লাহ।

উপদেষ্টা আসিফ বলেন, যত কাজই থাকুক না কেন; ছাত্রদের বিষয়গুলো সবসময়ই আমার জন্য প্রথম প্রায়োরিটি থাকে। কুয়েটেও আন্দোলন চরম পর্যায়ে আসার প্রায় ১০ দিন আগেই কুয়েটের একটা প্রতিনিধিদল বাসায় এসেছিল। তাদের দাবি, স্মারকলিপিটি পরদিনই শিক্ষা উপদেষ্টার হাতে নিজে গিয়ে পৌঁছে দিয়েছি। নিয়মিত আপডেট রেখেছি, দাবি মেনে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করেছি। ফেসবুকে না বললেই যে কাজ হচ্ছে না, এটা ধরে নেওয়া উচিত না।

তিনি আরো বলেন, টিএসসিতে আন্দোলনরত প্রায় অনেকেই আমার পরিচিত। রাত ৪/৫ টায় সেখানে যাওয়া কতটা শোভন হবে, তা ভেবে যাইনি। এছাড়া শহীদ জসিম ভাইয়ের মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনায় সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে গিয়েছিলাম পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে। ভোর ৫টায় তেমন কাউকে না পেয়ে ফেরত এসেছি। তবে এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের জামিনের খবরটি সঠিক নয়। এই কালপ্রিটদের সিআইডিতে রাখা হয়েছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে আইন মন্ত্রণালয় কাজ করবে।

উপদেষ্টা বলেন, অফিস শেষেই রাজুতে অনশনরত ভাইদের সঙ্গে দেখা করতে যাব। এটা মনে রাখতে হবে যে, পিএসসি সাংবিধানিক, স্বাধীন ও স্বতন্ত্র একটি প্রতিষ্ঠান। আপনাদের দাবিগুলো ইতোমধ্যেই পৌঁছানো হয়েছে আবারও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন