কৃষিতে ভ্যাট-শুল্ক ছাড়ের বন্যা, কাজুবাদাম ও পাঙ্গাস আমদানিতে কড়াকড়ি

স্টাফ রিপোর্টার

কৃষিতে ভ্যাট-শুল্ক ছাড়ের বন্যা, কাজুবাদাম ও পাঙ্গাস আমদানিতে কড়াকড়ি

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতে ব্যাপক ভ্যাট ও শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে দেশীয় কাজুবাদাম ও মৎস্য শিল্পকে সুরক্ষা দিতে কয়েকটি আমদানিপণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাবও করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায় স্পিকারের সভাপতিত্বে এবং সংসদীয় কার্য-উপদেষ্টা কমিটির অনুমোদনের পর অর্থমন্ত্রী এই বাজেট পেশ করেন। সংসদে উত্থাপিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা জানান। জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে কীটনাশক, সার, পশুখাদ্য ও ভেটেরিনারি ওষুধ খাতে একাধিক কর-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।


কীটনাশক ও সারে শূন্য ভ্যাট

স্থানীয়ভাবে কীটনাশক ও বালাইনাশক উৎপাদন উৎসাহিত করতে এসব পণ্যের ৩৬ ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি জিংক সালফেট সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল জিংক অ্যাশ আমদানির ওপর বিদ্যমান শুল্কও শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সব ধরনের সারের ব্যবসায়ী পর্যায়ে বিদ্যমান ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে কীটনাশক আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ৭ দশমিক ৫ শতাংশ আগাম করও মওকুফ করা হচ্ছে।

পোল্ট্রি, ডেইরি ও মাছের খাদ্যে নতুন সুবিধা

পোল্ট্রি, ডেইরি ও মাছের খাদ্য উৎপাদনকারী শিল্পের জন্য আরও তিন ধরনের কাঁচামাল শূন্য শুল্ক সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব এসেছে। এছাড়া এসব খাতের যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী দেশীয় শিল্পকে উৎসাহ দিতে প্রয়োজনীয় কিছু উপকরণ আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ভেটেরিনারি ওষুধ আমদানির ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের পরিবর্তে জেনেরিক ক্যাটাগরির ওষুধকে শূন্য শুল্ক সুবিধার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।


কাজুবাদাম ও পাঙ্গাস আমদানিতে কড়াকড়ি

দেশীয় উৎপাদকদের সুরক্ষায় কাজুবাদাম আমদানিতে বড় ধরনের শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অপ্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ এবং প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামের শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রক্রিয়াজাতকারী শিল্পের জন্য অপ্রক্রিয়াজাত কাজুবাদাম আমদানিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে। এদিকে দেশীয় মৎস্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের বাজার রক্ষায় আমদানিকৃত পাঙ্গাস মাছের ফিলেটের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।


কৃষি খাতে বরাদ্দের ধারাবাহিকতা

বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল ২৭ হাজার ২১৪ কোটি টাকা। পরবর্তী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৃহত্তর কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতে ৩৯ হাজার ৬২০ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়, যার মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অংশ ছিল ২৭ হাজার ২২৪ কোটি টাকা। নতুন বাজেটে সরাসরি বরাদ্দের চেয়ে কর ও শুল্ক সুবিধার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প এবং প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব সুবিধা বাস্তবায়িত হলে কৃষি উপকরণের দাম কমার পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদনও বাড়তে পারে।

এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন