ফের সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়ানোর সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে ইয়েমেন

ফের সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়ানোর সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে ইয়েমেন
২০২৪ সালে ইয়েমেনের মারিবে হুথিদের সাথে সামরিক ক্যাম্পে মহড়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইয়েমেনি সৈন্যরা। ছবি: রয়টার্স

২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ইয়েমেন। দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে সামরিক তৎপরতা শুরুর প্রেক্ষাপটে এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গ।

শুক্রবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে গ্রুন্ডবার্গ বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। এসব হামলা ও সংঘর্ষে সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি বেসামরিক লোকজনও হতাহত হয়েছেন।

ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধারা মারিব, হাজরামাউত, আল-মাখা (মোচা)সহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এ সংঘাত নতুন করে দেশটির ভঙ্গুর পরিস্থিতিকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলছে।

এদিকে এডেনভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বাহিনী তাইজে হুথিদের একটি হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে।

বুধবার সরকার আরো জানায়, কয়েকটি গভর্নরেটে হুথি বাহিনীকে লক্ষ্য করে কামান ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

একই দিন ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (পিএলসি) প্রধান হুথিদের প্রতিটি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ‘ব্যাপক জবাব’ দেওয়ার ঘোষণা দেন।

এ পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে দ্রুত উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন গ্রুন্ডবার্গ। তিনি একটি শক্তিশালী ও টেকসই যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করার জন্য পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

জাতিসংঘের এই দূত সতর্ক করে বলেন, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর হুথিদের নতুন করে হামলা ইয়েমেনকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। এতে ইয়েমেনে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘ সংঘাতের ইতিহাস

ইয়েমেনের বর্তমান সংঘাতের শুরু ২০১৪ সালে। ওই বছর হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এর পরের বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি সামরিক জোট ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করে। এতে সংঘাত আরো বিস্তৃত হয় এবং দেশটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

২০২২ সালে হুথি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর থেকে যুদ্ধবিরতিটি মূলত কার্যকর রয়েছে। এর ফলে কয়েক বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত কিছুটা থেমে আসে।

তবে স্থায়ী শান্তির পথ এখনো তৈরি হয়নি। গ্রুন্ডবার্গ বলেন, ২০২৩ সালে বৃহত্তর অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার পর ইয়েমেনের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি স্থায়ী চুক্তির দিকে যে অগ্রগতি হচ্ছিল, তা থমকে যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় আবারও সামরিক তৎপরতা বাড়ায় সেই স্থবির পরিস্থিতি আরো উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের আশঙ্কা, উত্তেজনা দ্রুত কমানো না গেলে ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর ইয়েমেন আবারও বড় ধরনের সংঘাতের দিকে চলে যেতে পারে।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন