খাবারের গাড়িতে লুকিয়ে ট্রাম্পের বিমান বদল, ব্যঙ্গ করে মিম ছড়াল ইরান

খাবারের গাড়িতে লুকিয়ে ট্রাম্পের বিমান বদল, ব্যঙ্গ করে মিম ছড়াল ইরান
এআই দ্বারা নির্মিত ছবি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী এয়ার ফোর্স ওয়ানকে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এ কারণে তুরস্ক থেকে ফেরার সময় গোপনে বিমান বদল করেন ট্রাম্প। বড় নীল-সাদা প্রেসিডেন্টের বিমান থেকে তাকে ছোট একটি সরকারি বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। আর এই বিমান বদলের সময় ট্রাম্প ও তার কয়েকজন সহযোগী খাবার বহনকারী একটি গাড়ি ব্যবহার করেন।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ট্রাম্পকে নিয়ে ব্যঙ্গ শুরু করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে নানা ব্যঙ্গাত্মক মিম। এর মধ্য দিয়ে ইরানের সামরিক শক্তি নিয়ে ট্রাম্পের উদ্বেগকে উপহাস করছে তেহরান।

বিজ্ঞাপন

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক উপস্থাপক বলেন, নতুন এই ‘কেলেঙ্কারির’ কারণে ট্রাম্প এখন যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমে আলোচনার প্রধান বিষয়গুলোর একটি।

তার দাবি, ইরানের সামরিক শক্তির ভয়ে ট্রাম্প তুরস্ক থেকে ফেরার সময় গোপনে বিমান বদল করেছেন। ঘটনাটি ট্রাম্পের জন্য ‘অপমানের’ কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ট্রাম্পের এয়ার ফোর্স ওয়ানকে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে—এমন হুমকি পাওয়া যায়। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্পের সফরের শেষ দিনে এই হুমকির খবর আসে। সে সময় ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের কারণে অঞ্চলে উত্তেজনাও ছিল তীব্র।

মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস হুমকিটিকে বিশ্বাসযোগ্য ও তাৎক্ষণিক বলে মনে করে। এরপর ট্রাম্পের অবস্থান ও গতিবিধি গোপন রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান চালানো হয়।

‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ জানিয়েছে, আঙ্কারায় ট্রাম্প কোথায় অবস্থান করছেন, এমনকি হোটেলের কোন তলায় তিনি আছেন—ইরানিরা তা জেনে যাওয়ায় মার্কিন কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন।

খাবারের গাড়িতে করে গোপন অভিযান

‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ প্রথম ট্রাম্পের বিমান বদলের অভিযানের বিস্তারিত প্রকাশ করে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ৮ জুলাই তুরস্ক থেকে ফেরার সময় ট্রাম্প ও তার কয়েকজন সহযোগী একটি ক্যাটারিং বা খাবার বহনকারী গাড়িতে করে বড় প্রেসিডেন্টের বিমান থেকে সরে যান।

পরে তারা ওঠেন ছোট ও সাধারণ দেখতে একটি সি-৩২এ সরকারি বিমানে। অন্যদিকে এয়ার ফোর্স ওয়ান আলাদাভাবে উড়ে যায়। ওই বিমানে ছিলেন মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা, হোয়াইট হাউসের কর্মী এবং অন্য সদস্যরা।

বিমান বদলের এই ঘটনাকে ঘিরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রচারণা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরানের দূতাবাসের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকেও একটি মিম প্রকাশ করা হয়। সেখানে ট্রাম্পকে খাবারে ভর্তি একটি বাক্সের ভেতরে দেখানো হয়েছে।

পোস্টে বলা হয়, ‘আর বেশিদিন নেই, ট্রাম্পকে আবর্জনার পাত্রে লুকিয়ে রাখা হবে।’

ইরানের ওই দূতাবাসের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায়ই এমন ব্যঙ্গাত্মক মিম প্রকাশ করা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও এসব মিমের খবর প্রকাশ করেছে। অ্যাকাউন্টটি দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরানি দূতাবাসের সরকারি ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত।

তেহরানের বিভিন্ন স্থানেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ব্যঙ্গাত্মক বিলবোর্ড ও দেয়ালচিত্র দেখা যাচ্ছে। এসব ছবিতে ট্রাম্পকে কফিনে শুয়ে থাকা কিংবা সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার দৃশ্যে দেখানো হয়েছে।

ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগও উঠেছিল

ট্রাম্পকে হত্যার কথিত ষড়যন্ত্র নিয়ে এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ২০২৪ সালে মার্কিন বিচার বিভাগ এক ইরানি ব্যক্তির বিরুদ্ধে ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনে। তখন ট্রাম্প ছিলেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নির্দেশে ওই ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির উপপরিচালক আলি ওয়ায়েজ বলেন, ইরানের কট্টরপন্থিরা দেশটির সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে এতটা উদ্বিগ্ন হওয়ায় ইরানের এসব কট্টরপন্থি সন্তুষ্ট বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা সাইয়েদ মুজতবা খামেনি গত মাসে তার বাবা ও পূর্বসূরির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। যুদ্ধের প্রথম দিনেই তার বাবা নিহত হন।

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতবিরোধ এখনো কাটেনি। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার ভাষ্য, অন্তর্বর্তী চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার আলোচনা থেকে এখনো কোনো অগ্রগতি আসেনি।

ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির একটি পডকাস্টে ভাষ্যকার আলিরেজা মাজিদি ২০১৮ সালে ইরাকে ট্রাম্পের সফরের কথাও তুলে ধরেন। ইরাকের আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটিতে ওই সফরে ট্রাম্পকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছিল। ইরান ইরাকে সমর্থনপুষ্ট বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে দেশটিতে প্রভাব রাখে।

ওই সফরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ট্রাম্প নিজেও সে সময় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তাদের বিমানটি অন্ধকার করে রাখা হয়েছিল। সব জানালা বন্ধ ছিল। ভেতরে কোনো আলোও জ্বালানো হয়নি। এমন অভিজ্ঞতা তিনি আগে কখনো দেখেননি বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

তবে বিমান বদলের ঘটনা নিয়ে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হোয়াইট হাউসের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন